প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইয়ো জং, কিমের বোন থেকে বিশ্ব সেলিব্রেটি

লিহান লিমা: কিম ইয়ো জং (৩০), উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের আদরের ছোট বোন, ইতিহাস সৃষ্টি করা দুই কোরিয় শান্তি আলোচনায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র নারী। থাকবেনই বা না কেন? কোরিয়া বিভক্ত হওয়ার ৭৩ বছর পর এই শান্তির সুবাতাস ছড়াতে পেছন থেকে অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন ইয়ো। তার প্রভাবেই নাকি মন গলেছে কিম জংয়ের।

শুরুটা হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে সিউলে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিক দিয়ে। অলিম্পিক উপলক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে তাকে ‘সেলিব্রেটি’ বললে লজ্জামাখা মুচকি হাসি দেন ইয়ো। ওই সময় দুই কোরিয়ার মিলনের বার্তা নিয়ে মুনের পাঠানো চিঠি ইয়ো নিজেই ভাই কিমের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ওই অলিম্পিক থেকেই দুই কোরিয়ার পুনর্মিলনে পর্দার পেছন থেকে সরব ভূমিকা ছিল তার। অবশ্য এর আগেই অক্টোবরে দেশের শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী কমিটি ‘পলিটব্যুরো’র সদস্যপদ পেয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমের নজরে আসেন ইয়ো।

শুক্রবার আন্তঃকোরিয় সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার পিস হাউসে ভাইয়ের পাশেই বসেন ইয়ো। বৈঠকে নোট সংগ্রহ, ভাইকে স্বাক্ষরে সাহায্য করা, দুই কোরিয় মিলনের নির্দশনস্বরুপ গাছ রোপণসহ কিমের প্রতিটি কাজেই সঙ্গ দিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘আনুষ্ঠানিক কোন বৈঠকের আগে ওই স্থানের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয় ইয়োই তদারকি করেন। নীতি নির্ধারণ, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম, দলের গঠনতন্ত্রসহ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদের নিয়োগও তার অধীনে। কিমের ডেস্কের প্রতিটি জিনিসেই অবাধ প্রবেশের অনুমতি আছে। ভাইয়ের প্রেস সেক্রেটারিও তিনি। জনসম্মুখে ভাইয়ের উপস্থিতির খুঁটিনাটি তিনিই দেখাশোনা করেন। বলা হয়ে থাকে, যদি কিম জং উনের নাগাল পেতে হয় তবে কিম ইয়ো জংয়ের বন্ধু হতে হবে।

ওয়ার্কাস পার্টির নির্বাহী পরিচালক ইয়ো কিমের ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট। সুইজারল্যান্ডে স্কুলে এবং ইউরোপের কলেজে ভাই কিমের সঙ্গে একসাথে পড়েছেন ইয়ো। কিম ক্ষমতা গ্রহণের পর ভাইয়ের সবচেয়ে কাছের, বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য পরামর্শক হয়ে উঠেন ইয়ো। সেই সঙ্গে ইয়োর প্রভাব ও ক্ষমতা বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে কিম যখন ডায়াবেটিস রোগে ভুলছিলেন তখন ইয়োই ভাইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে উত্তর কোরিয়াকে পরিচালনা করেন।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরিয় বিষয়ক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ক্লার্ক সরেনসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা, আর্কষণীয় চেহারার কারণে অলিম্পিকে তিনি দক্ষিণ কোরিয়দের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। কিম জং ইলের শাসনামলের তুলনায় উত্তর কোরিয়ার নারীরা এখন অনেকটাই ফ্যাশনের চর্চা করেন। এই দিকটিতে সমর্থনের জন্য ভাইয়ের মন গলাতে ইয়োর ভূমিক্য অগ্রগণ্য।’

জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বালবিনা হুয়াং বলেন, ‘ইয়ো তার ভাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে মূল নির্ধারণকারীর ভূমিকা পালন করেন। কিম জং খুব কম মানুষকেই বিশ্বাস করেন, এদের মাঝে ইয়ো তার উপর অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী।’
ইয়াহু, ডেইলি মেইল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত