প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাবি ও জাবির ক্যান্টিনের খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি! (ভিডিও)

সাজিয়া আক্তার: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালের চিকিৎসা কেন্দ্রে একজন ছাত্র এলেন কিছু শারীরিক সমাস্যা নিয়ে। নাম আবু হাসান নাঈম, পড়েন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগে। প্রেসক্রিপসন দেখে কিছু ঔষুধ নিলেন। দ্বিতীয় বর্ষের এই ছাত্র এখানে নিয়মিতই আসেন, কিন্তু কেনো? এমন প্রশ্নে নাঈম বলেন, আমার সব সময় একটা সমস্যা লেগেই থাকে তাই কয়েকদিন পর পর মেডিকেলে আসতে হয়। নাঈমের কথায় বোঝাগেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর থেকেই খাবারের সমস্যার কারণেই সে বিভিন্ন রোগে ভুগছে।

নাঈম আরো বলেন, আমি কলেজ হলে খাওয়া-দাওয়া করি। মাঝেমধ্যে বটতলায় গিয়ে খেতে হয়, যখন হলে খাবার পাওয়া যায় না। বটতলাই খাবারটা খেলে গ্যাসের সমস্যাটা আমাদের বেশি হয়। একবারের তেল তারা একাধিকবার ব্যবহার করে এবং তেলের মধ্যে পোকা পরলেও সেই তেলটাই তারা আবার ব্যবহার করে।

বিভিন্ন রকমের ভর্তা, ভাজি, মাছ, মাংসের জন্য বিখ্যাত এই বটতলা। হলের চেয়ে বটতটা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালের ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন, আমরা এই খাবার খাই শুধু পেটের ক্ষুধা মিটানোর জন্য। এমন বাজে খাবার আমি কোথাও দেখিনি। এখানে খাবারে প্রায় সময়েই পোকা পাওয়া যায়, পিন সহ আরো অনেক বাজে জিনিসগুলো খাবারে পাওয়া যায়। বাইরে খেতে গেলে দেখি অন্য জায়গাতেও এই রকম খাবার। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের হলেই খেতে হয়। বাইরে খাবারের সামর্থ্য যাদের নেই তারা কি করবে? তাকে তো সেই পঁচাবাসি খাবারেই খেতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালেয়ের ডাইনিং হলগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না। এই কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা বাইরে খেতেই বেশি সাচ্ছন্দবোধ করছে। সেই কারণে এই দোকানগুলো যথেষ্ট অনিয়মের মধ্যেই খাবার পরিবেশন করে।

এদিকে নোংরা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তো আছেই আর যারা কাজ করছেন তাদের মাথাও ঢাকা নেই। এই দৃশ্যগুলো দেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের প্রাধ্যক্ষ স্ট্যান্ডিং কমিটির আহবায়ক নিজেদের ত্রুটির কথা অনেকটাই যেনো স্বীকার করে নিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের প্রাধ্যক্ষ স্ট্যান্ডিং কমিটি আহবায়ক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খাবার জিনিস ধোয়ার জায়গাগুলো এবং ব্যবস্থাপনার জায়গাগুলো ভালোভাবে পরিস্কার করলেই মনে হয় সমস্যা হত না। আর রান্নাবান্নার ব্যপারটা ওরাও যেমন যতœবান না, আর আমরাও এইভাবে লক্ষ্য করি না।

একটু যতœ করে কাজ করলেই হয়তো এমন নোংরা পানিতে থালাবাসন ধোয়ার দৃশ্য পড়ত না। এবং চোখে পড়ত না নোংরা পরিবেশে রান্না করার দৃশ্য।

আর এটা শুধু ঢাকা কিংবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যাল নয় দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েরই একই অবস্থা। শুধু গবেষণা শিক্ষা জরিপেই নয়, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাও বলছে খাবারের কারণেই নাকী তাদের জন্ডিস কিংবা টাইফয়েটের মত এমন জটিল রোগে ভুগতে হয়।

যমুনা টিভি থেকে মনিটরিং

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত