প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৌশলগত বিনিয়োগকারীতে শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়বে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

মাসুদ মিয়া : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী পেয়েছে এবং চূড়ান্ত চুক্তির জন্য সমস্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। যে বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর হোটেল ৭১ এ বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নতুন অফিস উদ্বোধন ও লোগো উন্মোচনেপ্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খায়রুল হোসেন বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে শুধু কিছু ফান্ড শেয়ারবাজারে আসবে না, বরং দেশে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসবে। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জে গভর্নেন্স বাড়বে, দেশে শিল্প কারখানা হবে। যাতে কর্মসংস্থান হবে। তিনি আরও বলেন, অনৈতিক পন্থায় কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে মিথ্যা ডিসক্লোজার (ঘোষণা) দিয়ে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) না আনার জন্য ম্যার্চেন্ট ব্যাংকারদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

খায়রুল বলেন, ইস্যু ম্যানেজমেন্ট, আন্ডাররাইটিং এবং পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকের কয়েকটি বিশেষ ভূমিকা আছে। অন্যান্য দেশে এগুলোকে (মার্চেন্ট ব্যাংক) ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং বলা হয়।

তারা (মার্চেন্ট ব্যাংক) বিনিয়োগকারীকে অ্যাডভাইজ করবে, কোথায় বিনিয়োগ করতে হবে, কীভাবে বিনিয়োগ করতে হবে সেই ফোকাসটি বিনিয়োগকারী ও পলেসি মেকারদের কাছে পৌঁছে দেবে। যখন দেখা যাবে তথ্যনির্ভর, জ্ঞাননির্ভর, গবেষণানির্ভর বিনিয়োগ হচ্ছে- তখন বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়বে বলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকের ভূমিকা যদি অত্যন্ত সুদৃঢ় না থাকে এবং যথাযথ না থাকে তাহলে মার্কেটের স্থিতিশীলতা আমরা কিছুতেই নিশ্চিত করতে পারবো না। বিনিয়োগকারীর সুরক্ষার ক্ষেত্রে সব থেকে বড় ভূমিকা রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকের। কারণ উদ্যোক্তার সঙ্গে, স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে, রেগুলেটরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কজটি এই মার্চেন্ট ব্যাংক করে। তারা যদি অনৈতিক পন্থায় উদ্যোক্তাদের সহায়তা করেন এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে মিথ্যা ডিসক্লোজার (ঘোষণা) দিয়ে আইপিও আনার চেষ্টা করেন, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুনাম যাবে, ব্রোকার-ডিলারসহ যারা বিডিং করছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আর সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরা। যারা এই ইনফরমেশনের ওপর ভিত্তি করে বাজারে এসেছেন, এই একটা নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্টের ওপর ভরসা রেখেছেন তারা প্রতারিত হবেন। তাই মার্চেন্ট ব্যাংকারদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা ইনফরমেশনগুলো যথাযথভাবে দেবেন’ বলেন খায়রুল।

তিনি বলেন, আমরা ডিসক্লোজার ভিত্তিক প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) দিয়ে থাকি। এক্ষেত্রে প্রসপেক্টাসে প্রদত্ত তথ্যগুলোকে সঠিক হিসাবে মার্চেন্ট ব্যাংকারদেরকে নিশ্চিত করতে হবে। অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক নিস্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে বলে জানান খায়রুল হোসেন। এক্ষেত্রে নিস্ক্রিয় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সক্রিয় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর আইপিও আনার জন্য আহ্বান করেন।

শেয়ারবাজার যে অর্থনীতির চালিকাশক্তি, তা অর্থমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই বোঝাতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। যে শেয়ারবাজারের অংশগ্রহন আগামিতে জিডিপিতে বাড়বে। এছাড়া শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে বলে জানিয়েছেন।

বিএমবিএ এর নতুন অফিস উদ্বোধন ও লোগো উন্মোচনের আজকের দিনটিকে শেয়ারবাজারের উন্নয়নের মাইলফলক হিসাবে উল্লেখ করেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বিএমবিএ এর নতুন লোগোতে শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন বোঝানো হয়েছে। এটা স্বাভাবিক। তবেভবিষ্যতে দেশের শেয়ারবাজার বর্তমানের চেয়ে উন্নতর অবস্থায় যাবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেনবিএমবিএ সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি স্বাগত বক্তব্যে খায়রুল হোসেন পুন:নিয়োগ পাওয়ায় তাকে স্বাগত জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত