প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের কাজ শুরু

আবু সাঈদ ফাহিম: বর্ষায় জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচতে চট্টগ্রামের ১৬টি খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। শনিবার (২৮ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে এই কাজ। তবে দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে কেবল খাল খননে কতটুকু সুফল পাওয়া যাবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একটু ভারী বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা। প্রতি বর্ষায় কয়েক দফা এই সমস্যায় পড়তে হয় নগরবাসীকে।

বর্ষা মৌসুম শুরুর বাকি মাস দেড়েক। তাই নগরীকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে ফিরিঙ্গি বাজার খাল জামালখান খাল, নাসির খালসহ ১৬টি খাল খনন শুরু করছে সিডিএ। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হবে এই প্রকল্প।

গত সোমবার সিডিএ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের এক যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রকল্পের দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা লিমিটেড এবং করিম গ্রুপের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নগরীর ১৬টি খাল পরিষ্কার, মাটি খনন ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজ নির্ধারণ করা হয়।

সিডিএ প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল আলম বলেন, দ্রুত যে কাজটি করা সম্ভব তা হচ্ছে খালটি পরিষ্কার করা, সেজন্য আমরা প্রথমেই এ উদ্যোগ নিয়েছি। সামনে বর্ষাকাল এখন আমাদের হাতে সময় কম। এ মুহূর্তে আমরা যদি অব কাঠামোর উন্নয়ন, এসব কাজ করতে গেলে, সামনের বর্ষাকালে আবার জলাবদ্ধার শিকার হতে হবে।

সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সিডিএ’র সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও এই প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ে থাকবে। প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে সিইজিআইএস নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

তবে এরইমধ্যে সিডিএর পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে কেবল খাল খননে খুব বেশি সুফল পাওয়া যাবে না।

সাবেক সভাপতি, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন, চট্টগ্রাম কেন্দ্র দেলওয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, উত্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনাটা এখানে নেই, সেহেতু খালের সব জায়গায় এক্সেবিলিটি থাকবে না, এক্সেবিলিটি অর্জন করতে না পারে তাহলে সব জায়গায় আবর্জনাও পরিষ্কার করা যাবে না। তাড়াতাড়ি করে কাজ শুরু করতে গিয়ে যথাযথ ভাবে কাজ না হয়, এতে আর্থিক অপচয় ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

তবে উচ্ছেদ অভিযানের আগে খাল খননের পক্ষেই যুক্তি দিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান।

সিডিএ চেয়ারম্যান , আবদুস সালাম বলেন, আজকে দখল বদ্ধ করলাম, ফেলে রাখলাম আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে আবার দখল হয়ে যাবে। সুতরাং এটা না করে আমরা পরিকল্পনা গ্রহন করেছি,দখল মুক্ত যেদিন করব সেদিনই আমরা সাথে সাথে রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে ফেলব। সুতরাং এ পর্যায়ে আমরা ঐ কাজে হাত দিচ্ছি না।

সিডিএ কর্মকর্তাদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নগরী চাঁন্দগাঁও, বহদ্দারহাট, ২ নম্বর গেইট, ষোলশহর, খাতুনগঞ্জ, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও সিডিএ আবাসিক এলাকার মানুষ এর সুফল পাবে। সূত্র: ইনডিপেনন্ডেট, দৈনিক ইত্তেফাক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত