প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘তালিকা হচ্ছে অপরাধী ও অনুপ্রবেশকারীর’

ডেস্ক রিপোর্ট: আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের ঘোষণার পরই নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। আগামী ১১ ও ১২ মে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হলেও আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে ছাত্ররাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলন। সম্মেলনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সংগঠনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা অনুপ্রবেশকারী জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদলের যারা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন তারা ভবিষ্যতে পদ হারাবেন। এমন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকেও।

২০১৫ সালের ১১ জুন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবিদ আল হাসান সভাপতি ও মোতাহার হোসেন প্রিন্স সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এক বছর মেয়াদি কমিটি ইতোমধ্যে পার করেছে আড়াই বছরেরও বেশি সময়। নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল, অনুষদ ও বিভাগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব ইউনিটে ঢাউস আকারের কমিটি গঠন করা হলেও অনেক নেতার বিরুদ্ধে ওঠে শিবির ও ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগ। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ হল ইউনিটগুলোর শীর্ষ অনেক নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিভিন্ন প্রোগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণেরও রেকর্ড রয়েছে। এ নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও।

তবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের সক্রিয় বিরোধিতায় এবার শিবির ও ছাত্রদলমুক্ত কমিটি গঠনের দিকেই নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি। ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাবেক নেতাদের দুটি সিন্ডিকেটও এবার অপেক্ষাকৃত পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, শিবির-ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকা ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীদেরই পছন্দের তালিকায় রাখছেন।
এদিকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, জামায়াত-শিবির যোগসূত্র, ছিনতাই মাদক ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদারক করছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য মিলছে।

জানা যায়, রাজধানীর পলাশিঘেঁষা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী একটি হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। প্রশ্নফাঁস, মাদক ব্যবসা, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে বিভিন্ন সময়ে তাদের নাম উঠে এসেছে। অসুস্থ অবস্থায় তীব্র শীতের মধ্যে গভীর রাতে হলের বাইরে দাঁড়িয়ে রাখায় এই হলের শিক্ষার্থী হাফিজুর মোল্লা মারা গিয়েছিলেন। আর এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন সাধারণ সম্পাদকের। এ নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা থাকলেও বিচার হয়নি। সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের কয়েক নেতার বিরুদ্ধেও রয়েছে নীলক্ষেত এলাকায় পানির ব্যবসার অভিযোগ। ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকার পরও মুহসীন হল ও জসীমউদ্দীন হলের দুই নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক। যারা কেন্দ্রীয় কমিটির একজন শীর্ষ নেতার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। এবার তারাও বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদপ্রত্যাশী।

সূত্র মতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদপ্রত্যাশী এমন আলোচিত প্রায় চল্লিশজন নেতার মধ্যে অন্তত বিশজনের বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রদল ও শিবির করার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে গোয়েন্দাদের হাতে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা, নারী লাঞ্ছনা, ছিনতাই কর্মে যুক্ত থাকা নেতাদেরও তালিকা করে পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে।

ছাত্রলীগের সাবেক এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, ছাত্রদল ও শিবির থেকে অনুপ্রবেশকারী কেউ ভবিষ্যতে নেতা হতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যারা এসব অনুপ্রবেশকারীর পৃষ্ঠপোষকতা করবে তারাও রাজনীতি করতে পারবেন না।
এদিকে ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে ঢেলে সাজানোর বার্তা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেই আলোকে এবার প্রথমবারের মতো কোনো নারীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে আনা হতে পারে। এ ছাড়া সংখ্যালঘুরা দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদে না আসায় এবার সেই বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছে নীতিনির্ধারকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে আসতে আলোচনায় থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বর্তমান সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ত্রাণ সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, কৃষি সম্পাদক বরকত হোসেন হাওলাদার, প্রচার সম্পাদক সাইফ উদ্দিন বাবু, পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস সানী, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সম্পাদক রাকিব হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, স্কুল ছাত্রবিষয়ক উপ-সম্পাদক অসীম কুমার বৈদ্য, সৈয়দ আরাফাত, উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, উপ-মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক আল মামুন, উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইমদাদ হোসেন সোহাগ, উপ-কৃষি শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, উপ-পরিবেশ সম্পাদক সুরঞ্জন ঘোষ, সহ-সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, শাহরিয়ার মাহমুদ রাজু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ঢাবি সহসভাপতি রুম্মান হোসাইন, শাহরিয়ার কবির বিদ্যুৎ, হাসিব মীর, এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাধন, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, জগন্নাথ হলের সভাপতি সঞ্জিত দাস, সাধারণ সম্পাদক উৎপল বিশ্বাস।

২৯ বছরের বয়সসীমায় এবারও প্রার্থী হতে পারেন ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সও। নারী নেত্রীদের মধ্যে সহ-সভাপতি চৈতালী হালদার চৈতি, কবি সুফিয়া কামাল হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-অর্থ সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদারও নেতৃত্বে আসতে পারেন। সূত্র: সময় টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ