প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুই টাকার কার্টিজ বিক্রি ৩০ টাকায়

ডেস্ক রিপোর্ট: আদালতে আরজি, জবাব, বিভিন্ন দরখাস্ত দাখিল এবং ভূমি হস্তান্তরে দলিল লেখার জন্য স্ট্যাম্পের সঙ্গে ব্যবহৃত কার্টিজ পেপারের সরকারি মূল্য ২ টাকা। কিন্তু এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। ঢাকার রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এ কার্টিজের চরম সংকটের সুযোগ নিয়ে স্ট্যাম্প ভেন্ডাররা অতিরিক্ত ফায়দা লুটছে। সম্প্রতি তেজগাঁওয়ে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের অনেকেই প্রতিটি কার্টিজ পেপারের দাম হাঁকাচ্ছেন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। একইভাবে দৈনিক বাংলার মোড়, বায়তুল মোকাররমের উল্টো দিকের রাস্তার ফুটপাত এবং প্রেসক্লাবের উল্টো দিকের ফুটপাতে একই চিত্র দেখা গেছে।

স্ট্যাম্প ভেন্ডাররা জানান, কয়েক মাস ধরে সারা দেশে কার্টিজ পেপার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যেসব ভেন্ডারের কাছে মজুদ ছিল তারা একে অন্যের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন। প্রায় ৬ মাস আগে এ কার্টিজের কিছুটা সংকট দেখা দেওয়ায় সারা দেশে ১০ থেকে ১৫ টাকা প্রতিটি কার্টিজ বিক্রি হচ্ছিল। এ সংকট চরম হওয়ায় এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। দুই মাস আগেও এক প্যাকেট কার্টিজ পেপার (৪৮০ পিস) ৩ হাজার ৩৬০ টাকায় বিক্রি করা হতো। সেখানে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে এক প্যাকেট কার্টিজ পেপার সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার ৮০০ টাকায়।

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার ও রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দ্বীপক কুমার সরকার জানান, স্ট্যাম্প, কার্টিজ বা কোর্ট ফি কোনো অবস্থাতেই সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত বিক্রি ঠিক নয়। এটি একটি অপরাধ। প্রতিটি কার্টিজের সরকারি মূল্য দুই টাকা। কারও কাছে একটি কার্টিজ থাকলেও তা সরকার নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করতে হবে। যদিও স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিবন্ধন কর্মকর্তাদের হাতে নেই। তবুও কেউ লিখিত অভিযোগ জানালে বিষয়টি সুরাহার জন্য এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্ডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। দলিল লেখক সমিতির মহাসচিব এমএ রশিদ জানান, কয়েক মাস ধরে প্রতিটি কার্টিজ পেপারের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কার্টিজের চরম সংকটের অজুহাতে স্ট্যাম্প ভেন্ডাররা অতিরিক্ত হারে এ টাকা আদায় করছে। ফলে দলিল লেখার কাজে বিঘœ ঘটছে। কার্টিজ সংকটের কারণে দলিল লেখকরা এখন এর পরিবর্তে স্ট্যাম্প ব্যবহার করছেন। এতে প্রতিটি দলিলের পৃষ্ঠা সংখ্যা বাড়ছে। কার্টিজ পেপারে যে দলিল ৩০ পৃষ্ঠায় লেখা হতো। এখন স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সেই দলিলে ৭০ থেকে ৮০ পৃষ্ঠায় তৈরি করা হয়। এতে নানাবিধ বিড়ম্বনার পাশাপাশি বেড়েছে অফিস খরচ।

স্ট্যাম্প ভেন্ডার সমিতির সভাপতি সুব্রত কুমার দাস জানান, মূলত কার্টিজ পেপারের সংকট এখন চরমে। ভেন্ডারদের প্রায় কারও কাছেই এ পেপার পাওয়া যাচ্ছে না। দুই-একজনের কাছে অতি সামান্য থাকলেও থাকতে পারে। তবে তা থেকে চুপিসারে কিছু অতিরিক্ত টাকায় বিক্রি হলেও তার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এছাড়া কার্টিজ, কোর্ট ফিসহ সব ধরনের সরকারি স্ট্যাম্প জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরবরাহ হয়। সনদধারী স্ট্যাম্প ভেন্ডাররা সরকারি চালানে টাকা জমা দিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এ ধরনের স্ট্যাম্প সরববরাহ পান। অনেক দিন ধরে কার্টিজ পেপারের সংকটের বিষয়টি মৌখিকভাবে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, যে কাগজে কার্টিজ পেপার ছাপানো হয় তা অস্ট্রেলিয়া থেকে আসে। এরপর সরকারি ছাপাখানা থেকে ছাপিয়ে তা সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু কয়েক মাস ধরে এ কাগজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে কার্টিজ ছাপানো এবং সরবরাহ বন্ধ। বিদেশ থেকে কাগজ এনে কার্টিজ ছাপানো ও সরবরাহ শুরু হলে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত