প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনেকেই ঢাকা ছাড়ছে, হঠাৎ টিকিটের বাড়তি চাহিদা

ডেস্ক রিপোর্ট : হঠাৎ করেই রাজধানী ত্যাগী বাস ও রেলের ওপর চাপ বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। এ যেন অনেকটাই কোনো উৎসবের আগের পরিবেশ। এ ক্ষেত্রে উপলক্ষ উৎসব নয়, সরকারি ছুটি। টানা ৯ দিনের ছুটির এক ফাঁদে পড়েছে দেশ। ছুটি অবশ্য সাত দিনের, মাঝের দুই দিনও তার সঙ্গে মিলিয়ে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ঢাকা ছাড়ছেন বা এরই মধ্যে ছেড়ে গেছেন। কারণ ৯ দিনের প্রথম দিন ২৭ এপ্রিল শুক্রবার এরই মধ্যে অতিবাহিত হয়ে গেছে। সাধারণত ঈদ ছাড়া অন্য কোনো সময়ে এমন ছুটি পাওয়া যায় না। তাই ঈদের দেড় মাস বাকি থাকলেও ছুটির দিক বিচারে এখন একরকম ঈদের আনন্দ চলছে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে।

‘এমন ছুটি তো সব সময় আসে না। তাই কাজে লাগাতে চাই। এরই মধ্যে মাঝের দুই দিন ছুটি নিয়ে ফেলেছি। ঈদে ভিড়ের কারণে বাড়ি নাও যাওয়া হতে পারে। তাই এই ৯ দিনের আট দিনই গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি,’ কালের কণ্ঠকে বলছিলেন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকুরে মো. আলাউদ্দিন।

বাস, ট্রেন বা লঞ্চে রাজধানী ছাড়ার এই ঢেউ লেগেছে টার্মিনাল, স্টেশন ও বিভিন্ন কাউন্টারেও। কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে রীতিমতো ‘টিকিট নেই রব’ উঠেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভিআইপি, কাউন্টার, অনলাইন সব ধরনের আগাম টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। আজ শুক্রবার সাধারণ ছুটির দিনের চেয়ে ভিড় বেশি ছিল। কাল শনিবারও ভিড় হবে।

আমরা ভিআইপিদেরও সেবা দিচ্ছি, সাধারণ যাত্রীদের সেবাও দিচ্ছি।’

কমলাপুর রেলস্টেশনের কাউন্টারে গেলে বুকিং ক্লার্করা জানান, ঢাকা থেকে সিলেটগামী গতকালের পারাবত ট্রেনের টিকিট শেষ হয়ে গেছে ১০ দিন আগেই। ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রীর চাপ বেশি।

মহাখালী বাস টার্মিনালে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ভিড় শুরু হয়েছিল। গতকাল শুক্রবারও তা ছিল। জলসিড়ি পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা জলিল মিয়া গত রাতে কালের কণ্ঠকে জানান, রাতের বাসের যাত্রী বেশি। গতকাল বিকেল থেকে ভিড় বেড়েছে।

হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহনের বিভিন্ন কাউন্টারে গতকাল বিভিন্ন সময়ে তাত্ক্ষণিক টিকিটের জন্য ভিড় ছিল যাত্রীদের। কল্যাণপুরে হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে কক্সবাজার যাওয়ার টিকিট বিক্রির বিষয়ে বিক্রয়কর্মী মো. শাহজাহান বলেন, ট্রিপ বেড়েছে, আগে আসন ফাঁকা যেত পাঁচ-ছয়টি। ্এখন যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে অন্য কাউন্টারে যাচ্ছে।

এমনকি আকাশপথে উড়োজাহাজের টিকিট নিয়েও কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে গেছে। ভ্রমণপিপাসুরা গ্রামের আপন ঠিকানার পাশাপাশি কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সিলেটের মতো পর্যটন এলাকায় পাড়ি দেবে। তাই এসব এলাকার টিকিটের চাহিদা বেশি। তাদের প্রথম পছন্দ অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান। বিশেষ করে বিমানের ২৭ ও ২৮ এপ্রিলের টিকিটের চাহিদাই বেশি ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে।

যদিও এই ৯ দিনের মধ্যে দুই দিন অফিস খোলা থাকছে। কিন্তু কেউ যদি দুই দিন ছুটি নিয়ে নেয় ৯ দিনই ছুটি ভোগ করতে পারছে। এই ছুটির ফাঁদের শুরু গতকাল শুক্রবার। শুক্র ও শনিবার দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ২৭ ও ২৮ এপ্রিল বন্ধ থাকছে অফিস। ২৯ এপ্রিল রবিবার বুদ্ধপূর্ণিমার সরকারি ছুটি। ৩০ এপ্রিল সোমবার থাকছে কর্মদিবস। এরপর শ্রমিক দিবসের ছুটি ১ মে মঙ্গলবার। পরদিন ২ মে বুধবার থাকছে পবিত্র শবেবরাতের ছুটি। ৩ মে বৃহস্পতিবার অবশ্য কর্মদিবস, অফিস-আদালত খোলা থাকবে। আবার ৪ ও ৫ মে শুক্র ও শনিবার রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি। কেউ যদি ৯ দিনের এই লম্বা ছুটিটা ভোগ করতে চায় তাহলে ৩০ এপ্রিল সোমবার ও ৩ মে বৃহস্পতিবার ছুটি নিতে হবে। এ ছাড়া ছুটি থাকছে ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল, টানা তিন দিন।

আবার অনেকেই মাঝখানে শুধু এক দিনের ছুটি নিয়ে ছয় দিনের লম্বা ছুটি কাটাচ্ছে। আর অফিস কর্তৃপক্ষও এই ছুটি দিতে তেমন দ্বিধা হয়তো করছে না। কেউ যদি শুধু ৩০ এপ্রিল সোমবার ছুটি নেয় তাহলে পাবে ছয় দিনের ছুটি। আর যদি ৩ মে বৃহস্পতিবার ছুটি নেয় তাহলে কাটাতে পারবে টানা পাঁচ দিনের ছুটি।

অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা এই ছুটি উপভোগ করতে পারছেন। এর বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও থাকবে এই ছুটির আওতায়। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমকর্মী, শিল্প ও পোশাক শ্রমিকরা এই ছুটি পাবেন না। সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত