প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘প্রতিবেশিনী’র সেটে একদিন…

ইমতিয়াজ মেহেদী হাসান : তখনো সূয্যি মামার ঘুম ভাঙেনি। কেবল পাশ মোড়া দিয়ে আড়ামোড়া করছে। এমন সময় রাজধানীর শ্যামবাজারের একটি পুরাণ বাড়ি থেকে ভেসে আসলো, ‘সেট রেডি, টেকে যাবো’, কণ্ঠটাও সুপরিচিত। নির্মাতা শ্রাবণী ফেরদৌস মনিটরে চোখ রাখলেন। ততক্ষণে ধুতি-পাঞ্জাবিতে যথাস্থানে হাজির অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। দৃশ্যটি ‘প্রতিবেশিনী’ নাটকের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূলগল্প অবলম্বনে এর চিত্রনাট্য করেছেন নির্মাতা নিজেই।

সময় গড়াতে না গড়াতেই রাজ্যের যানজট ঠেলে এলেন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। এসেই সে কী তাড়া! প্রডাকশন বয়, মেকাপম্যান সবাইকে ডাকাডাকি। চলো চলো, দ্রুত সিকোয়েন্সটা শেষ করি। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে, জ্যামে সময় সব ডাইনোসরের মত গিলে খেয়েছে। এরই মধ্যে চলে এলো তরমুজ, সমুচা আর জুস। সেগুলো কোনমতে মুখে দিয়ে কস্টিউম চেঞ্জে মন দিলেন তিনি।

কখন যে পাখিটা বারান্দার বয়স বেড়ে যাওয়া রেলিংয়ে এসে বসেছে, তা কেউ খেয়াল করেনি। অথচ এ প্রতিবেদকের সঙ্গে থাকা আলোকচিত্রি তা ঠিকই দেখে মুহুর্তবন্দি করেছে। একইসাথে কখন যে নির্ধারিত সিকোয়েন্সগুলোর দৃশ্যধারণ স্কুল পালিয়ে হলমুখী কিশোরীতে পরিণত হলো, ঘুণাক্ষরেও তা কারো চোখ আয়নায় ধরা দেয়নি। বরং সবাই মশগুল ছিল শ্রাবণী ফেরদৌসের নির্মাণ শৈলীতে।

প্রোডাকশন বয় এগিয়ে এসে বলল, ভাইয়া আপাতত শুটিং শেষ। এখন জোন চেঞ্জ হচ্ছে। চাইলে আপনি ইরফান ভাইয়ের সাথে কথা বলতে পারেন। চায়ের কাপ হাতে তাই দেরি না করে ধুতি-পাঞ্জাবির ইরফানের কাছে যাওয়া হলো। তিনি জানালেন, কাজটি অনেক চ্যালেঞ্জিং। কারণ সময়কালটা অনেক পেছনের। সঙ্গে গল্পটা বিশ্বকবির। সবমিলিয়ে ‘একটু টাফ’। কিন্তু তিনি এই অসাধ্যকে ‘সহজ’ করেই দেখছেন। বললেন, চেষ্টার ত্রুটি রাখছিনা। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো কাজটা উপহার দেয়ার প্রয়াসে গল্পতে ডুবে আছি। আর শ্রাবণী আপুর কথা কী বলব! তিনি তো অসাধারণ, সবকিছু দারুণভাবে বুঝিয়ে দেন তিনি। আর সহশিল্পী হিসেবে প্রভার অনবদ্য অভিনয় আমাকে রীতিমত মুগ্ধ করেছে। এরকম ব্যতিক্রমী একটা কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। নির্মাতাকে এজন্য ‘আন্তরিক’ ধন্যবাদ। একইকথা বললেন অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাও। তিনি বলেন, শ্রাবণী আপু মানেই বিশেষ কিছু। তাঁর নির্মাণশৈলী নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করছি এরকম একটা প্রডাকশনে কাজ করেত পেরে। আশারাখি কাজটা সকলের ভালো লাগবে।

সবশেষে যাওয়া হলো নির্মাতার কাছে। ততক্ষণে ঘড়ির কাটায় লাঞ্চ আওয়ারের ঢংকা। একজন সহকারী পরিচালক (নকুল সরকার) এগিয়ে এসে বললেন, ভাইয়া শ্রাবণী আপু আপনাকে মেকাপরুমে ডেকেছেন একসঙ্গে লাঞ্চ করবেন। দরজায় টোকা দিতেই ভেতর থেকে আওয়াজ, ‘খোলা আছে, চলে আসুন’। এরপর অভিনয়শিল্পী-কলাকুশলীদের সঙ্গে প্রায় ঘন্টাব্যাপী চললো ভোজনপর্ব। মাছ-মাংস-সবজি কী নেই সেই খাবার তালিকায়! নির্মাতা নিজ হাতে সেসব তদারকি করলেন। সবাইকে খাইয়ে তারপর নিজে খেতে বসলেন। খাওয়া শেষে এই প্রতিবেদককে বললেন, ইন্ডাস্ট্রিতে নানা সমস্যা আছে এটা সত্য। কিন্তু এর মাঝেও ভালো কাজ হচ্ছে। হবে। আর সেজন্য সঠিক পৃষ্ঠপোষকতাটা জরুরি। তাহলে নির্মাতা-প্রযোজকরা ভালো কাজে উৎসাহিত হবেন। দর্শক ভালো কাজ পাবেন। আর প্রত্যেকটা নির্মাতাই চান সর্বোচ্চ ভালোটা নিংড়ে দিতে, শুধু সেই পরিবেশটা দরকার। সহযোগিতাটা দরকার।

‘প্রতিবেশিনী’ নাটকের কস্টিউম এবং সেট আরও ভালো হতে পারতো উল্লেখ করে শ্রাবণী বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাকে এই নাট নির্মাণের ক্ষেত্রে। কারণ গল্পটা সে সময়কার। আর তখনকার মত কস্টিউম, সেট পাওয়াটা এখন দুষ্কর। তবুও চেষ্টা করেছি ভালো করার। তবে আরও ভালো হতে পারতো, যদি নির্মাণ বাজেট বেশি হতো। তাহলে প্রতিটি সিকোয়েন্সের জন্য আলাদা আলাদা কস্টিউমে দৃশ্যধারণ করা যেতো।

কিন্তু এতকিছুর পরেও আত্মবিশ্বাসী এই নির্মাতা। তিনি বলেন, কাজটা আশারাখি ভালো হবে। কারণ ইরফান এবং প্রভা এখানে অসাধারণ অভিনয় করেছে। যেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা, বিশেষ দিবসে এই নাটকটি সেরা একটি কাজ হবে। সবাই আমার জন্য, আমার ইন্ডাস্ট্রির জন্য দোয়া করবেন। বাংলা নাটক এগিয়ে যাক, সমৃদ্ধ হোক। সবার জন্য শুভকামনা।

বারান্দায় আবছা ছায়া দেখে বোঝা গেলো সন্ধ্যা সন্নিকটে। দেরি না করে তাই এবার ফেরার পালা। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পুরাণ ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাখরখানি খেতে খেতে এই এতদূর আসা।  দু’কথা লেখা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত