প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জয় যার সরকার তার

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হন, সে দলই সরকার গঠন করেন এ রকম ‘মিথ’ সারা দেশে প্রচলিত আছে। সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বাধীনতার পর থেকেই এমন রীতি চলে আসছে।

এ আসনেই ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার অবস্থিত। কাজেই এ আসন ‘বাগে’ নিতে মনোযোগ থাকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর। অনেক যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয় এ আসনে। এ কারণে আসনটি প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে খুবই মর্যাদাপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশন চলতি বছরের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেটে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। সিলেট-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে চলছে নানা তোড়জোড়ও। টানা ৯ বছর সরকারে থাকা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হতে মাঠে সরব রয়েছেন চারজন।

একইভাবে বিএনপি থেকে চার প্রার্থীর নাম আলোচিত হচ্ছে। এ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজে প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। খালেদা জিয়ার বাইরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক এমপি প্রয়াত খন্দকার আবদুল মালিকের বড় ছেলে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে।

একইভাবে বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে দলটির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আলোচনায় আছেন। এরই মধ্যে সিলেট থেকে দলের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আগামীতেও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এ আসনে ক্লিন ইমেজের কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। একইভাবে আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপিও শক্তিশালী প্রার্থীকে নির্বাচনের লড়াইয়ে মাঠে নামাতে পারে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা, তা অনিশ্চিত।

এ কারণে তিনি ছাড়া আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন অর্থমন্ত্রীর অনুজ ড. একে আবদুল মোমেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন। বিএনপির প্রার্থী তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন খালেদা জিয়া, ডা. জোবায়দা রহমান, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং ইনাম আহমদ চৌধুরী। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন এইচএম এরশাদ।

১৯৯১ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খন্দকার আবদুল মালিক। ওই বছর সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে শুধু সিলেট-১ আসনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ২০০১ সালে সিলেট সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বিএনপির এম সাইফুর রহমানের কাছে হেরে যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা ভোটেই দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল মুহিত।

এর আগে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়ান ফরিদ গাজী এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এছাড়া দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে খন্দকার আবদুল মালিক, তৃতীয় ও চতুর্থ নির্বাচনে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, পঞ্চম ও ষষ্ঠ নির্বাচনে খন্দকার আবদুল মালিক, সপ্তম নির্বাচনে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এবং অষ্টম নির্বাচনে এম সাইফুর রহমান এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত এসব সংসদ সদস্যের দলই ওই সময় সরকার গঠন করে।

এপ্রিলে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আই উইল রিটায়ার ইন টু থাউজ্যান্ড এইটটিন। আই থিংক ইট উইল বি গুড টাইম। দ্যাট টাইম আই উইল বি এইটি ফাইভ (আমি ২০১৮ সালে অবসরে যাব। আমি মনে করি, এটি একটি ভালো সময়। তখন আমার বয়স হবে (৮৫)।’ এভাবেই মন্ত্রিত্ব ছেড়ে নিজের অবসরে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অবসরে যাওয়ার এ সিদ্ধান্তে তিনি অটল আছেন। তবে সিলেট-১ আসনে খালেদা জিয়া প্রার্থী না হলে তিনি আর নির্বাচন করবেন না।

খালেদা জিয়া প্রার্থী হলে তিনি ফের নির্বাচন করবেন। কোনো কারণে অর্থমন্ত্রী নির্বাচন না করলে তার সহোদর জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ দলের প্রার্থী হতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত ও ড. মোমেন সিলেটের একটি আলোকিত পরিবারের সন্তান। তাদের বাবা অ্যাডভোকেট আবু আহমদ আবদুল হাফিজ ছিলেন সিলেট জেলা মুসলিম লীগের কর্ণধার। মিসবাহ উদ্দিন সিরাজও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের পর পর তিনবারের সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রায় ২ বছর ধরে নির্বাচনি মাঠে সরব রয়েছেন ড. মোমেন।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. জোবায়দা রহমান সিলেটের আরেকটি আলোকিত পরিবারের সন্তান। তার বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এবং সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী। তারেক রহমানের স্ত্রী হিসেবেও দলের নেতাকর্মীদের কাছে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিএনপি-দলীয় সাবেক এমপি খন্দকার আবদুল মালিকের ছেলে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরও কয়েক বছর ধরে নির্বাচনি মাঠে তৎপর রয়েছেন। সদর উপজেলায় তার উদ্যোগে বেশ কয়েকটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং সেচ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, অর্থবহ নির্বাচন হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচিত হলে দেশে শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন, গণতন্ত্রের ধারা ফিরিয়ে আনা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, সর্বোপরি দেশের বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করাই তার মূল লক্ষ্য। সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইশরাকুল হোসেন শামীম বলেন, ঢাকায় জাপার মহাসমাবেশে সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন এইচএম এরশাদ।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো সৎ, যোগ্য, মেধাবী এবং তৃণমূল থেকে উঠে আসা প্রার্থী দেবেÑ এমনটাই প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যদি নির্বাচন কমিশন কোনো দলের প্রতি সদয় এবং কোনো দলের প্রতি নির্দয় আচরণ করে, তাহলে দেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি সিলেটের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরিন আখতার বলেন, তারা নির্বাচনে দুর্নীতিমুক্ত প্রার্থী চান। যেসব প্রার্থী নারীদের জন্য কাজ করবেন; বিশেষ করে নারীদের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দের পদক্ষেপ নেবেন, সেসব লোককেই তারা প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। সুত্র : আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত