প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গাজীপুরে জামায়াতের আমীরসহ ৪৫ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট : গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের সাদা পোশাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। আর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর আশা
তিনি লাখ লাখ ভোটের ব্যাবধানে বিজয়ী হবেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর আমীর অধ্যক্ষ এসএম সানাউল্লাহসহ ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া সানাউল্লাহ মেয়র পদে প্রার্থী হলেও পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে বিএনপি প্রার্থী হাসান সরকারের পক্ষে মাঠে ছিলেন।

গতকাল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় ও পরামর্শ সভা করেন। এর মধ্যে সকালে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গাজীপুর মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ তার বাসভবনে গিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা খান, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আধুনিক সিটি গঠন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে নগরবাসী আমাকেই নির্বাচিত করবেন। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ আমার জন্যে, নৌকার জন্যে স্টিকার, হ্যান্ডবিলসহ প্রচারপত্র নিজেরাই বিলি করে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি ও মহাজোটসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দল ও মানুষ প্রচারণা শুরু করেছেন। দল-মত নির্বিশেষে সবাই আমার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যেখানেই যাচ্ছি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা আমাকে বিশ্বাস করে, মনে করে আমি একটি আধুনিক সিটি গড়ে দিতে পারবো এজন্য আমাকে আগামী ১৫ই মে ভোট দেবে, পাস করাবে।আর পাস করাবে লাখ লাখ ভোটের ব্যবধানে, যা আমি বিশ্বাস করি। দুপুরে বড়বাড়ী বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর নগরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের তারগাছ এলাকা থেকে গণ-সংযোগ ও পথ সভা শুরু করে নগরের ৩৫ ও ৩৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী তৎপরতা চালান।

বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দীন সরকার সকালে নগরের খাইলকৈর বাদশাহ মিয়া স্কুল মাঠে পথসভা করে দিনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড শুরু করেন। পরে তিনি আপন বাজার, হিন্দু বাড়ি মোড়, বটতলা স্কুল মাঠ, এরাবিয়ান গার্মেন্টস, মৈরান শামসুদ্দিনের বাড়ি, ঝাঁজর স্কুল, ডেগের চালা, জাম তলা মসজিদ, ছয়দানা দিঘীরপাড় ঈদগাহ মাঠে পথসভা করেন এবং ৩৮ নং ওয়ার্ডের বিভিন্নস্থানে গণসংযোগ করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। এ সময় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ডা. মাজহারুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়ত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আাওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সকালে নগরের ছয়দানা এলাকার নিজ বাসায় নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বাদশাহ মিয়া স্কুলের পাশের পথসভায় সুষ্ঠু নির্বাচনের শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২০-২৫টি করে মামলা রয়েছে। আজও আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের সাদা পোশাকে হয়রানি করা হচ্ছে। মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে তবে তার খেসারত দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তির নির্বাচন, গুম, খুনের বিরুদ্ধে নির্বাচন। নগরবাসীর ভাগ্য উন্নয়নের নির্বাচন। যদি নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক না থাকে, জনগণ ভোট দিতে না পারে তবে এর খেসারত নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। এ সময় তিনি সিটি এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের ট্রাফিক সহযোগী নিয়োগকে নির্বাচনী পরিপন্থি ও নির্বাচনী কৌশল আখ্যা দিয়ে তা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

এদিকে পুবাইল এলাকার একটি রিসোর্ট থেকে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জামায়াতের মহানগর আমীর অধ্যক্ষ এসএম সানাউল্লাহসহ জামায়াত শিবিরের ৪৫জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাদের অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫টি পেট্রল বোমা, ৪টি ককটেল ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এ বিষয়ে দুপুরে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ভোর সাড়ে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল পুবাইলের স্বপ্নচূড়া পিকনিক স্পটে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে জামায়াতের মহানগর আমীর সানাউল্লাহসহ ৪৫ জনকে আটক করা হয়। অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে ১৫টি পেট্রল বোমা, ৪টি ককটেল ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা নাশকতার উদ্দেশে আশেপাশের জেলা থেকে ভোরে এখানে সমবেত হয়েছিল বলে জানান এসপি।

সিটি নির্বাচনের সঙ্গে এদের আটক করার কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে পুলিশ সুপার এটাকে অন্যভাবে না দেখারও আহবান জানান। আটক হওয়া মহানগর জামায়াত আমীর সানাউল্লাহ স্বতন্ত্র পদে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ছিলেন। পরে তিনি ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে বিএনপি’র প্রার্থীর সমর্থনে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে হাসান উদ্দীন সরকারের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত