প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লন্ডনে বিএনপির সন্ত্রাসী নেতাকর্মীদের কালো তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট : লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন অফিসে হামলা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর, একাত্তর টিভির সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাই, সাম্প্রদায়িক স্লোগান দিয়ে মিছিলসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী, ক্যাডার জড়িত তাদের কালো তালিকাভুক্ত করবে বাংলাদেশ।

এই লক্ষ্যে লন্ডন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য বিনিময় করবে ঢাকার পুলিশ। লন্ডনে বিভিন্ন সময়ের ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য, প্রমাণ, আলামত সংগ্রহ করে নামের তালিকা তৈরি করে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। লন্ডন পুলিশের কাছে কালো তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে সেই দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ।

অপরদিকে কালো তালিকাভুক্তরা বাংলাদেশে আসলেই গ্রেফতার, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লন্ডনে বসবাসকারী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে লন্ডনে বসবাসকারী বিএনপির নেতাকর্মী, ক্যাডাররা বিভিন্ন সময়ে লন্ডনে সন্ত্রাসী কর্মকা- করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে বলে লন্ডনে যোগাযোগ রক্ষাকারী গোয়েন্দা সংস্থার দাবি।

ঢাকার গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, লন্ডন পুলিশ বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ভিডিও ফুটেজের ছবি দেখে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে লন্ডন পুলিশ। লন্ডন পুলিশের সঙ্গে ও কূটনৈতিক চ্যানেলে ঢাকার পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।

যুক্তরাজ্যে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে যাওয়া একাত্তর টিভির সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের ওপর হামলা, লাঞ্ছিত ও ক্যামেরা ছিনতাই করে লন্ডনে বসবাসকারী বিএনপির নেতাকর্মী, ক্যাডাররা। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল রোডে এ ঘটনা ঘটার পর ঘটনাস্থলে কারা এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত সেই বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও নামের তালিকা সংগ্রহ করেছে লন্ডন পুলিশ।

এ ছাড়াও লন্ডনে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে হিন্দু ধর্মালম্বী দেব-দেবতাদের নাম উল্লেখ করে ব্যঙ্গ স্লোগান দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে লন্ডন পুলিশকে। ভারতের পক্ষ থেকেও লন্ডন পুলিশকে হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টিকে জানানো হয়েছে। ভারত সরকারকেও এই বিষয়ে অবহিত করবে লন্ডনে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

লন্ডনের একটি হোটেলে লন্ডন পুলিশ রেইড দিয়েছে। সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজে ছবি ছিল এমন এক বিএনপির কর্মীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর মুচলেকা দিয়ে জামিনে বের হয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন যওয়ার পর তাকে দেখতে হোটেলের সামনে গিয়েছিলেন অনেকে বাংলাদেশী। কিন্তু রাস্তায় তারেক জিয়ার ক্যাডাররা সন্ত্রাসের তা-বলীলা চালায়।

যেসব বিএনপির নেতা, কর্মী, ক্যাডার সন্ত্রাসের তা-বলীলা চালিয়েছে তাদের গ্রেফতারের জন্য খোঁজ করছে লন্ডন পুলিশ। এছাড়া ও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা রূপা পূর্ব লন্ডনের ওয়াইট চ্যাপেল রোডে প্রধানমন্ত্রীর সফরে আসা বিভিন্ন লোকজনের সাক্ষাতকার নেয়ার সময়ে লন্ডনে বসবাসকারী বিএনপির নেতা, কর্মী, ক্যাডাররা গালিগালাজ, খারাপ আচরণ, লাঞ্চিত ও ক্যামেরা ছিনতাই করে। বিএনপির এসব সন্ত্রাসী দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পলিয়ে যায়।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, লন্ডনে বিএনপির নেতাকর্মী, ক্যাডাররা বাংলাদেশ হাইকমিশন অফিসের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, কিভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি সেই বিষয়ে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যাওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।

লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনের ঘটনার পর লন্ডনে কমনওয়েলথ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে স্লোগান দেয়ার ঘটনাসহ একের পর এক সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কালো তালিকা করা হচ্ছে। লন্ডন পুলিশের সহাতায় যারা কালো তালিকাভুক্ত হচ্ছেন তারা দেশে আসলেই গ্রেফতার হবেন এবং আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বিএনপির সিনিয়র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন মামলার রায়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্মারক লিপি দেয়ার নামে হাইকমিশনে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের মারধর ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করার মধ্য দিয়ে অবমাননা ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনটি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই দূতাবাসের সম্পত্তি ধ্বংস করা মানে রাষ্ট্রের সম্পত্তি ধ্বংস করা এবং হাইকমিশনে হামলা বাংলাদেশের ওপর হামলার শামিল। বিক্ষোভকারীদের এ ধরনের সহিংস ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। লন্ডন পুলিশের সহায়তায় ঢাকার পুলিশ লন্ডনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কালো তালিকা করা ছাড়াও দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তদন্ত করছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তার দাবি। সূত্র : জনকন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত