প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই রাজনীতি যাপনের না; ভোগের, স্বার্থের

সময়গুলো আমাদের নয়; অন্যের। ভীষণ ভঙ্গুর, নড়বড়ে, অন্যের ক্রীড়ানক। আলাদা প্রাণ, ভাষা, চলৎশক্তি নেই। এখানে সময় চলে রাজনীতির হাত ধরে। রাজনীতি-ই মূল শক্তি, আধার। আপাদমস্তক রাজনীতির খোলনলচেয় বন্দি আমরা, আমাদের সময়।
এই যেমন এখন, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে, একধরণের চেনা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। বহু বছর ধরে এই সময় চেনা আমাদের। আমরা চাইলেও বদলাতে পারছি না। কেবল যাপন করি মাত্র; বপন করে রাজনীতি। যেদিন যে ঘটনায় যেমন সময় চাই, তেমনটাই রঙ নেয় সময়গুলো। চোখের সামনে বদলে যায়। আমরা শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে অপেক্ষায় থাকি ভোরের, নতুন সময়ের।

রাজনীতির এই দেশে সময়ও এক ধরণের ঋতু। ঠিক এখন যেমন নির্বাচনভিত্তিক ‘সময়ঋতু’ যাপন করছি আমরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে। ধীরে ধীরে পল্লবিত সুশোভিত হচ্ছে চিরচেনা রাজনৈতিক আচার-আচরণ, কৃষ্টি, সংস্কৃতি। ডানা মেলছে সুবিধাভোগী গোষ্ঠী। দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। মাঠ সরব। রাজনীতির রঙ বদলাচ্ছে; হাওয়াও। কেউ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন; কেউ সুবাতাস। আমরা কেবল দেখছি। সাধারণ মানুষ যাপন করছি এক কাগুজে জীবন।

মুখোমুখি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। কে কাকে কীভাবে ঘায়েল করবে, অবিরত চলছে সে চেষ্টা। বক্তৃতা হচ্ছে। চলছে যুক্তি তর্ক। হারজিত নেই। লড়াই মুখ্য। সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেই, লক্ষ্য নেই। প্রকৃতই যে সংকটে মানুষ, তারও সমাধান মিলছে রাজনৈতিক দর্শনে, প্রেসক্রিপশনে। প্রতিদিনই বদলাচ্ছে দৃশ্যপট। রাস্তা বন্ধ, পুলিশের টিয়ার শেল, স্লোগান। ত্রস্তব্যস্ত মানুষ। হঠাৎ ক্ষেপছে পুলিশ। পেশিশক্তির প্রদর্শন করছে। গলা টিপে ধরছে সাংবাদিকের। কাউকে একটানে প্যান্ট ধরে শূন্যে তুলে ধরতেও দেখা যাচ্ছে। রাস্তা ফাঁকা। কিছু বুঝছে না কেউ। মুখস্থ সময়। সবই চেনা। কষ্ট কেবল যাপন করা। বছরের পর বছর এমন রাজনৈতিক সময় যাপন করতে করতে মানুষ এখন তিতিবিরক্ত।

রাজনীতির এই দেশে, এমন রঙচেনা রাজনৈতিক ঋতুর, আমরা সাধারণ মানুষই তো একমাত্র প্রাকৃতিক উপান। আমরা সব মুখ বুজে সহ্য করি। করতে হয়। ভাবতে অবাক লাগে, চোখের সামনে কীভাবে দেশটা ধীরে ধীরে রাজনীতিকরণ হয়ে গেল। এসবই দলীয় রাজনীতি; সুবিধাভোগী রাজনীতি। আমরা যে যার মতো রাজনীতির জামা চড়িয়েছি গায়ে। রাজনীতির রং মেখেছি শরীরে। টং দোকানের সজল, ফুটপাতের তরকারি বিক্রেতা সালাম, ফেরি করে মাছ বিক্রি করে যে ছেলেটি, তার মুখেও রাজনীতি। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে শিক্ষকের বেশি সময় কাটছে রাজনীতিতে। সাংবাদিক, চিকিৎসক, উকিল; ঠিকাদার, মজুতদার, নাপিত; দলীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত সবাই। কাজ না; পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি, ভালো জায়গায় পোস্টিং- সবই নির্ভর করছে দলীয় আনুগত্যের প্রতি।

অনর্গল সবাই এখন রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। দর্শন দেন। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তোলেন, তর্ক করেন। অথচ সর্বমানুষের পক্ষের কোনো রাজনৈতিক দল নেই, রাজনৈতিক নেতা নেই। এখনো প্রশ্নের মুখে গণতন্ত্র। একটি সর্বমত স্বীকৃত নির্র্বাচনি ব্যবস্থা দাঁড়ায়নি। অকাট্য প্রমাণাদি এবং ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির পরও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামকে নিয়ে জোটের রাজনীতি এখনো ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে।
এই রাজনীতি যাপনের না; ভোগের, স্বার্থের। চারপাশকে তুচ্ছ করে কেবল নিজের ভালো থাকার রাজনীতি; প্রভাব-প্রতিপত্তি সম্পদের রাজনীতি। সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির সমাজে এই রাজনীতি দিন দিন আরও বিভক্ত করছে আমাদের। সংযুক্তির নামে বিভাজিত হচ্ছি আমরা!

লেখক: সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতিকর্মী/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ