প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টিকিট রেখে পাসপোর্ট আর ফেরত দেয়নি…!

আপনি টিকেট নিলেন। পাসপোর্ট নিলেন। লাগেজ গুছিয়ে রওয়ানা দিলেন। এয়ারপোর্টেও আসলেন ঠিকমতোই। এরপর খেই হারিয়ে ফেললেন। করলেন সবচেয়ে বড় ভুলটি! এরকম একটি ঘটনা বলছি: একজন যাত্রী আসলেন। অভিযোগ দিলেন। আমার পাসপোর্টটি বিমান এয়ালাইন্সের লোক ফেরত দিচ্ছেন না।জানতে চাইলাম, কেন ফেরত দিচ্ছেন না?
তিনি ঘটনা বলতে থাকলেন। আমি চেক করার জন্য বিমানের টিকেট ও পাসপোর্টটি কাউন্টারে দেই। কাউন্টারের লোক আমাকে পাসপোর্টটি রেখে শুধু বিমানের টিকেট ফেরত দেন। ঘটনা শুনলাম। আমরা এরকম ঘটনা প্রায় শুনে থাকি। শোনার পর সহজে অনুমেয় করি, এটা পাজেল হওয়ার ফল। ভুলটা অন্য জায়গায়। তখন শুনতে থাকি তার এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত কাহিনী।

সে বলতে থাকে, কীভাবে আসল এয়ারপোর্টে। আসার পথে কখন, কোথায়, কি করল। কার সঙ্গে দেখা করল।
এই যাত্রী সবই বলেন। সাথে সাথে বলেন, পাসপোর্টটি বিমানের কাউন্টারেই রেখে দিয়েছে। আমাদের একজন অফিসার দিয়ে তাকে বিমানের কাউন্টারে পাঠানো হলো। কাউন্টারে গিয়ে পাসপোর্ট পাওয়া গেল না।
পাসপোর্ট না পেয়ে সে যেখানে যেখানে গিয়েছে, সেসব জায়গায়ও পাঠিয়ে খুঁজা হলো। কোথায়ও পাওয়া গেল না।
যাত্রী খুবই আপসেট। আর মাত্র এক ঘন্টা সময় আছে। এর মধ্যে তাকে লাগিজ বুকিং দিয়ে ইমিগ্রেশন না করতে পারলে আর যাওয়া হবে না।
আবার ডাকা হলো তাকে।

ঘটনাটি আবার বলতে বলা হলো। কীভাবে পাসপোর্ট মিসিং হলো?
সে বলতে থাকল। বলতে বলতে কমপক্ষে তিন বার বলল, এটা বিমানের কাউন্টারই আর ফেরত দেয় নাই।
তাকে পাক্কা হুজুর বলা যায়। দাড়ি আছে লম্বা। পাঞ্জাবী পড়েছেন।
বার বার বিমানের কাউন্টারের দোষ দিয়ে কথা বলায় একটা ধমক দেয়া হলো। বলা হলো, আপনি যে বার বার একজনকে দোষ দিচ্ছেন, এটা কী ঠিক? আর তা করে নিজেই ঘুণাহের কাজ করছেন।
এ কথা বলায় সে এবার চুপ হলো।
বললাম, বাসা থেকে বের হয়ে কোথায় কোথায় গেলেন, আর কার কার সাথে দেখা হলো, বলেন?

সে বলতে থাকল আবার। এক পর্যায়ে বলল, এয়ারপোর্টে এসে ঢুকার সময় তার পাসপোর্ট গেইটে দেখেছে। দেখে বলেছে, আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ প্রায় শেষ। এটার মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েন।
জানতে চাইলাম, গেইটে কনফার্ম আপনার পাসপোর্ট চেক করেছে?
বললেন, কনফার্ম।
আমিও তখন কনফার্ম হলাম, কমপক্ষে সে পাসপোর্ট নিয়ে এয়ারপোর্টে ঢুকেছে।
তারপর কী হলো?
ওখান থেকে আমি দ্রুত কাউন্টারে যাই। কাউন্টারে গেলে বলে যে, এটা তো বিমানের টিকেট। আপনি বিমানের কাউন্টারে যান। তখন আমি বিমানের কাউন্টারে যাই।
আচ্ছা, গেইট থেকে যে কাউন্টারে গেলেন, এটার নাম কি বলতে পারবেন?
সে চুপ হয়ে থাকল। তারপর বলল, স্যার মাসকট।
মাসকট?
হুম। মাসকট কাউন্টারে কি পাসপোর্ট দেখতে দিয়েছেন?
জি, দিয়েছি।
শুধু পাসপোর্ট দিলেন?
না, এই টিকেটসহ দিয়েছিলাম।
তারপর?
তারপর পাসপোর্ট ও টিকেট নিয়ে আমি বিমানের কাউন্টারে যাই।
ওখানে গেলেন কেন?
টিকেট চেক করাতে।
আচ্ছা, টিকেট চেক করাবেন,ঠিক আছে। তো সাথে পাসপোর্ট কেন দিবেন?
না, আমি পাসপোর্টসহ দিয়েছি। এই যে এমনে দিলাম…। (সে টিকেটটি টেবিলের উপর রেখে দেখাল।) আর ওরাই রেখে দিয়েছে আমার পাসপোর্ট। এখন বলছে, দেইনি।

আমি এর মধ্যে আমাদের একজন অফিসারকে মাসকট কাউন্টারে পাঠালাম। অফিসার জানালেন, পাসপোর্ট মাসকট কাউন্টারে পাওয়া গেছে।
যাত্রীকে তখন দ্রুত সেখানে পাঠানো হল।
সে ফেরত আসে। যাত্রীর হাতে তখন পাসপোর্ট। এসে তার ব্যাগটি অফিস রুম থেকে নিয়ে হাঁটা শুরু করল।
ব্যাগটি নিয়ে এমনভাবে দ্রুত হাঁটা শুরু করল যে, সেই দৃশ্যও দেখার মতো!
বললাম, কোথায় যাচ্ছেন?
সে একবার এই দিকে তাকালো, তারপর ব্যাগ নিয়ে সোজা হাঁটা শুরু করল। একবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশও চিন্তা করেনি।
মনে মনে ভাবলাম, এরকম মানুষও হয়!

পরিচিতি : এডিশনাল এসপি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন/ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত