প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্তরিক পরিবেশে শুরু হলো মোদি-শি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক

নূর মাজিদ: সমগ্র চীনে যত দর্শনীয় স্থান আছে তার মধ্যে হুবেই প্রদেশের উহান লেকের সৌন্দর্য অনন্য। এই লেকের পাড়ে অবস্থিত উহান শহরে ঘরোয়া পরিবেশে বৈঠক ও ভ্রমন করেই সময় কাটাবেন শি জিংপিং এবং সফররত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টানা দুদিন ব্যাপী এই সফরে মোদী-শি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে একে-অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করবেন।

অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেই দোকলাম বা ডংলং-এ মুখোমুখি অবস্থানে ছিলো ভারতীয় এবং চীনা সেনাবাহিনী। দোকলামের উত্তেজনার পরই দুদেশের সরকার পারস্পরিক সম্পর্কের বরফ গলানোর উদ্দ্যোগ নেয়। এর প্রেক্ষিতেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে চীনে অনানুষ্ঠানিক যৌথ সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করেন।

উহানে নরেন্দ্র মোদীকে চীনা সংস্কৃতির চিরন্তন অভ্যর্থনা দিয়েছেন শি জিংপিং। উহান সফরের শুরুতেই তাকে শহরটির সমৃদ্ধ চীনা সভ্যতার নিদর্শন দেখাতে জাদুঘর সফরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রায় ৪০ মিনিট সময় অতিবাহিত করেন। এই সময় তারা নিজেদের মধ্যে নানা বিষয়ে আলাপ করেন। তবে দুই দেশের সরকারের পক্ষ যতই অনানুষ্ঠানিক বলা হোক মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যতে যেকোন আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত নিজ নিজ দেশকে সরিয়ে রাখার মত বিষয় যে এই ঘরোয়া বৈঠকগুলির মূল বিষয়বস্তু হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

অবশ্য সফরের শুরুতেই নরেন্দ্র মোদি এমন আভাষ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, (এই সফরে) আমি এবং প্রেসিডেন্ট শি উভয়ে একে অপরকে নানা দ্বিপাক্ষিক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুর আলোকে বোঝার চেষ্টা চালিয়ে যাব। পাশাপাশি আমরা ভারত এবং চীনের মাঝে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সম্পর্কের বিন্যাস তৈরি করতেও সচেষ্ট হব।

অন্যদিকে, শি-জিংপিং’য়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক চলাকালে মোদী বলেন, চীন-ভারত যৌথভাবে বিশ্বের ৪০ ভাগেরও বেশী জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের সভ্যতার শীর্ষ ২০০০ বছরের গৌরবম-িত ইতিহাসে কোন সংঘর্ষে না জড়িয়েই চীন এবং ভারত পুরো বিশ্ব সভ্যতার জ্ঞান ও শিক্ষার বিকাশে ৫০ভাগ অবদান রেখেছে। আজকের দিনে আমরা কেন তা করতে পারবনা!

সফরের প্রথম দিন উহান মিউজিয়ামে মোদির মনোরঞ্জনে ঐতিহ্যবাহী চীনা নর্তকীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকলেও শনিবার মোদী আর শি আরো বেশী একান্ত পরিবেশে আলোচনা করবেন। এসময় তারা বিশ্ব ঐতিহ্য বলে স্বীকৃত উহান লেকের পার ধরে হাঁটতে হাঁটতে আলোচনা করবেন, এসময় শুধু দুজন দোভাষী তাদের সঙ্গী হবেন।

শি এবং মোদির সফরের এই ধারাবাহিকতায় আগামীতে ভারতেও একই ধরণের সফরের আয়োজন করতে চান মোদী। এই বিষয়ে তিনি শি জিংপিং’কে ইতোমদ্ধ্যেই অবহিত করেছেন। ব্রিক সদস্যভুক্ত এশিয়ার এই দুই দেশ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে একে অপরের সহযোগী হিসেবেই অধিক লাভবান হবে যেন সেই সত্যকেই অনুধাবন করছেন শি এবং মোদি। দ্যা ডিপ্লোম্যাট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত