প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাঝি ভালো হলেও নৌকার তলা ঠিক না থাকলে পার হওয়া কষ্টকর

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা: খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে কেন্দ্র গঠিত ২০দলীয় জোটের সমন্বয়কারী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে আমি শক্তিশালী মনে করি না। কারণ দশ বছরের সরকার সম্পর্কে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ অবগত। সুতরাং মার্কাটা নৌকা; নৌকার মার্কার সরকার। এই সরকারের কর্মের গায়ে যে দোষ; তা তো নৌকার উপরেই বর্তায়। সুতরাং নৌকার মাঝি যতোই ভাল হোক না কেন, নৌকার তলা যেখানে ঠিক নাই সে নৌকা পার করা বড় কষ্ট। শুক্রবার খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ফলাফলে যে আমরা জয়ী হবো সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু নির্বাচনটা কেমন হবে? সাংবাদিকদের মাধ্যমে যে খবর পাই; তাতে এই বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়া খুব কঠিন কাজ না। তাতে এই নির্বাচনটা অনেকটাই তারাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। মাহবুব উল আলমদের মতো লোকদের যে ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকী স্বরূপ। বহুদলীয় গণতন্ত্র হয়; একদলীয় গণতন্ত্র হয় না। তাদের ভাষাটি কিন্তু সব সময় একদলীয়।

আলীগের একজন নেতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাহবুব উল আলম হানিফ যদি বলেন যতক্ষণ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী সুস্থ্য আছেন ততোদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই থাকবেন, তাহলে আমি বলবো প্রধানমন্ত্রী সুস্থ্য নাই। যদি তিনি বলতেন যতদিন তিনি অসুস্থ্য আছেন, ততোদিন ক্ষমতায় থাকবেন; তাহলে কথাটার অর্থ থাকে। কারণ রাজনীতিতে অসুস্থ্য না হলে এধরণের বক্তব্য আসে না।

ক্ষমতায় থাকা- না থাকার বিষয়টা যেহেতু জনগনের ইচ্ছার একটা বিষয় আছে, সেখানে এইধরণের দাম্ভিকতা থাকাটা ভাল না। আর যতোদিন জীবিত আছেন ততোদিন ক্ষমতায় থাকবেন এটা যদি হয় তাহলে বলবো, এই শব্দটা কিন্তু গণতান্ত্রিক শব্দের সাথে সাংঘর্ষিক। কথাটা যদি হতো জনগন যতোদিন চায় ততোদিন ক্ষমতায় থাকবেন, তাহলে ঠিক ছিল। দেশটার মালিক যদি জনগন হয়, তাহলে আমার ক্ষমতায় থাকার ইচ্ছা যদি জনগনের ইচ্ছার বাইরে হয় তাহলে আমি করবো তারা সুস্থ্য নয়। তারা রাজনীতিকভাবে অসুস্থ্য। অসুস্থ্য ভাবনাকে সফল করে এবং অসুস্থ্য প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী ও চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করতে পারে। জনগনই সিদ্ধান্ত নেবে তাদের এই আকাঙ্খা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগন কি করবে। আর ওবায়দুল কাদেরে বক্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করতেও আমার রুচিতে বাঁধে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশ গণতান্ত্রিক সংকটাবস্থা চলছে। পারিপারশ্বিক অবস্থা সবকিছু মিলেই খুলনা সিটি নির্বাচনের গুরুত্বটা খুলনাবাসী তথা দেশবাসী আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। এ নির্বাচনের ফলাফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচনটি কেমন হয়। ফলাফল তো একটা হবেই জয়, পরাজয়। সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় কি না? কারণ সামনে জাতীয় নির্বাচন। ছোটখাটো স্থানীয় নির্বাচনগুলোর মধ্যদিয়েই কিন্তু সাধারণ মানুষ পর্যবেক্ষন করে যে আমাদের জাতীয় নির্বাচনটা কেমন হতে পারে। সে কারণেই এ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশবাসী। বক্তব্যের শুরুতেই এ কথা বলে খুলনাবাসীর মনোভাব জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রশ্নোত্তর তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী মাঠে থাকতে চেষ্টা করবো। তারপরে মাঠে থাকতে চাইলেও অনেক সময় থাকা যায় না, থাকতে দেয়া হয় না। সরকার এবং তার প্রশাসন উভয় শক্তি যদি আমাদের মাঠ থেকে না তাড়ায়, নিম্নতম রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজমান থাকে তাহলে আমরা শেষ পরিস্থিতি দেখবো। আর স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়, থাকা-না থাকাটা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই না এ কারণেই যে এই নির্বাচন সরকার নির্ধারণ করে না। বাংলাদেশের সবকয়টা স্থানীয় সরকার যদি বিরোধী দল পায়, তবুও তারপরও তাদের সরকারের নির্দেশ নেমেই চলতে হবে।

কেসিসি নির্বাচন পরিচালনায় খুলনা ২০দলীয় জোটের সমন্বয়ক জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবীব, রবিউল ইসলাম খান রবি, মো. মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক, মনিরুজ্জামান মন্টু, বিজেপি নেতা সিরাজুল ইসলাম সেন্টু, বিএনপি নেতা আশরাফুল আলম নান্নু ও শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত