প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভাতাপ্রাপ্তর স্থানে ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা!

জাহিদ হাসান : গত কয়েকদিন ধরেই মুক্তিযোদ্ধার একটি নামফলক নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি রীতি মত সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার কারীরা বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কমেন্ট করছে। আসলে ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী তা হয়ত অনেকেই জানে না? খবর নিয়ে জানা গেছে, যারা নামফলক তৈরি করেছেন, এটি তাদের ভুল। ‘ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা’ লিখতে বলা হলেও তারা ভুল করে ‘ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা’ লিখে দিয়েছেন।

ওই বাড়িটি ছিল মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহর। তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন আগেই। স্থানীয়রা এবং বাড়ির ভাড়াটেরা সবাই বলেছেন, তিনি মানুষ হিসেবে অত্যন্ত ভালো ছিলেন।

ওই বাড়িতে সেই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তানরা কেউ থাকেন না। তারা থাকেন অন্যত্র। একজন তত্ত্বাবধায়ক বাড়িটি দেখাশোনা করেন। আর এই নামফলক লাগানোর সময় সেই ভুল তার চোখে ধরা পড়েনি।

এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে প্রচার হচ্ছে, স্থানীয় একজন তার নিন্দা করেছেন। বলেছেন, বিষয়টি না জেনে যেভাবে কটাক্ষ করা হচ্ছে, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা হচ্ছে, সেটাতে তিনি লজ্জা পাচ্ছেন।

এই নামফলকটির ছবি গণমাধ্যমে আসার পর এর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাদের ধারণা অন্য অনেক কিছুর মতো এই বিষয়টিও বানানো হয়েছে ফটোশপে।

তবে এই ধারণা সত্য নয়। এই ছবিটি বানানো নয়। যারা ফলক তৈরি করেন, তারা নানা সময় ভুল করেন, এখানেও একটি ভুল হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় ১৪ নম্বর সড়কে ওই বাড়িটি অবস্থিত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই বাসার নামফলকের ছবি ভাইরাল হয়।

শুক্রবার দুপুরের পরে সেখানে গিয়ে দেখা যায় নামফলকটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাড়ির ভাড়াটেরা জানান, এ নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড় চলছে জানতে পেরে বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক সকালেই ফলকটি ভেঙে সিমেন্ট দিয়ে পূর্ণ করে দেন।

রূপনগর টিনসেড এলাকার ১৪ নম্বর সড়কে ঢুকে কিছু দূর সামনে যেতেই হাতের বা দিকে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আহছান উল্লাহ্র বাড়ি। নাম রোকেয়া মঞ্জিল। হোল্ডিং নম্বর ৪৯০।

ওই বাড়ির ভাড়াটেদের একজন জিল্লুর রহমান জানান, বাড়ির সামনে দুই মাস আগে এই নামফলকটি লাগানো হয়। ভুলবশত ‘ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা’র বদলে সেখানে উল্লেখ করা হয় ‘ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা’।

জিল্লুর রহমান বলেন, ‘বাড়িওয়ালা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সেই সঙ্গে ছিলেন খুব ভালো মানুষ। ভুলটা বাড়িওয়ালাদের কারো না। বাড়িওয়ালা মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও এক ছেলে চিটাগাং চলে গেছেন। তারা সেখানেই থাকেন। আর এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকেন মোহাম্মদপুর। তারা এদিকে ততটা আসে না। বাড়ি দেখাশোনা আর ভাড়া তোলার জন্য ম্যানেজার আছে। সেই সব দেখে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে অনেক লোক আসতেছে এটা দেখার জন্য। ফেসবুকে অনেকে ব্যাপারটা নিয়ে উল্টাপাল্টা অনেক কিছু লিখেছে। কাজ ঠিক হয় নাই।’

‘এই বাড়িওয়ালা মারা গেছেন। তিনি যখন ছিলেন তখন থেকেই আমি তাকে চিনি। অনেক ভালো একটা মানুষ। খালাম্মা ও তার ছেলে-মেয়েরাও অনেক ভাল। কোনো ঘটনা পুরোপুরি না জেনে, না বুঝে ফেসবুকে দেয়াটা ঠিক না। লেখার ভুলটা তো যেখান থেকে নামফলকটা বানানো হয়েছে তাদের।’

বাড়িতে গিয়ে তার তত্ত্বাবধায়কের অবশ্য দেখা পাওয়া যায়নি। ফলে নামফলকের এই ভুলটি কীভাবে তার দৃষ্টি এড়াল, সেই তথ্য না জেনেই ফিরতে হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত