প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাক্তারির সার্টিফিকেট নেই, সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে চলছে চিকিৎসা

হ্যাপী আক্তার : নওগাঁয় জেলায় চিকিৎসার নামে প্রয়োজনীয় ডাক্তার, অবকাঠামো ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সাইনবোর্ড সর্বস্ব ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে সেবা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। এসব ক্লিনিকে অপচিকিৎসার শিকার হয়ে প্রায় সময়েই রোগীর মৃত্যুও ঘটছে। পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ।

ডাক্তারির সার্টিফিটে ও পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বড় একটি নজর কাড়া সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ক্লিনিক অথবা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের নাম দিয়ে চলছে নওগাঁয় বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা। বড় অংকের কমিশনে অসাধু ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে এসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পরীক্ষার নামে নেওয়া হয় বিপুল অংকের টাকা।

এছাড়া ক্লিনিকে নেই পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দক্ষ ডাক্তার। কিছু দালালের মাধ্যমে এসব ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারে আনা হয় রোগীদের। এসব ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় গত ৪ মাসে শহরে মারা গেছে ৫ জন রোগী।

সম্প্রতি এক ক্লিনিকে টনসিল অপারেশন করতে আসা এক শিশুকে অতিমাত্রায় এনেসথেসিয়া প্রয়োগ করায় তার মৃত্যু হলে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসন এসব ব্যাপারে শক্ত কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

তারা বলেন, ‘বিভিন্ন ল্যাবের ফল বিভিন্ন রকমের। আমরা সাধারণ মানুষ কোন ফল নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাব। গ্রামের প্রান্তিক মানুষ চিকিৎসার জন্য শহরে এসে মানহীন এসব ক্লিনিকে প্রতারণার শিকার হচ্ছে । ভুক্তভুগীরা এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের শক্ত নজরদারী আশা করছেন।

এসব ক্লিনিকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও বন্ধ হয় না পতৎপতা। ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতা বলছেন, মানহীন ক্লিনিক বন্ধের জন্য তাগিদ দিয়েও কাজ হচ্ছে না।

নওগাঁ জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: আতাউর রহমান বলেছেন, কোনো আবেদন যে কেউ করুক না কেন, ডাক্তার, নার্স এবং তার সাথে ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসেবা যদি ভালো হয় তাহলে তাকে লাইন্সেস দিয়ে অনুমোদন দেওয়া উচিত। এই বিষয়গুলোর বিপরীত হলে অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।

তবে পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী সমিত কুমার কুন্ডু বলেছেন, মানহীন ক্লিনিকের বিষয়ে কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ একত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা: মো. মোমিনুল ইসলাম বলছেন, এলাকায় কিছু কিছু পুরাতন ক্লিনিক আছে সেগুলোকে অচিরেই আবার অভিযানের মাধ্যমে হয় লাইন্সেস অথবা ক্লিনিক বদ্ধ করে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ১১টি উপজেলায় ৭৮টি ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবে কার্যক্রম চালাচ্ছে ১৫০টি। সূত্র : সময় টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত