প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প
নানা অনটনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পানির জন্য লড়াই

ডেস্ক রিপোর্ট: রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অন্যান্য অভাব-অনটন তো আছেই, এখন আবার সকাল-সন্ধ্যা যুদ্ধ করতে হচ্ছে পানির জন্য। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে একেকটি নলক‚প সব সময় ঘিরে থাকেন ৩০ থেকে ৪০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। কেউ গোসল করছেন আবার কেউবা হাড়ি-পাতিল ধোঁয়ায় ব্যস্ত। শিশুরাও লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কখন বড়রা সরে যাবেন সে সুযোগের অপেক্ষায়। এখানে একেকটি নলক‚প ব্যবহার করেন ১০০ থেকে ১৫০ রোহিঙ্গা পরিবার। রোহিঙ্গারা আসার শুরুর দিকে স্থাপিত অগভীর নলকূপগুলোর ৮৫ শতাংশই এখন অকেজো। ফলে রোহিঙ্গাদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে।

উখিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ৩৩৮টি এবং বেসরকারিভাবে ৪৭৩টি গভীর নলক‚প স্থাপন করা হয়েছে। তা ছাড়া এনজিওর স্থাপিত করা গভীর নলক‚পগুলোর ২০ শতাংশ অকেজো। সংস্কার অভাবে অকেজো হয়ে পড়ছে অনেক গভীর নলক‚প। কারণ হিসেবে জানা গেছে, সমস্যা বেশি বড় নয় ৫০/১০০ টাকার যন্ত্রাংশের জন্য এই বিড়ম্বনা।

শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অল্পকিছু টিউবওয়েলে পানি আসছে। এ সামান্য পানি দিয়ে সবার চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পানির চাহিদা পূরণে গভীর নলক‚প স্থাপনের কাজ শুরু করলেও তা এখনো শেষ হয়নি। গতকাল সোমবার সকালে উখিয়ার মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, ময়নারঘোনা, তাজনিমারখোলা ক্যাম্প ঘুরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। তাদের অভিযোগ টিউবওয়েল স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার টাকা লুটপাট করে চলে গেছেন। ফলে অকেজো হয়ে যাওয়া টিউবওয়েলগুলো সংস্কারের মুখ দেখছে না।

মিয়ানমারের তমবাজার থেকে আসা শামশু আলমের পুত্র নাইম ইসলাম (২৬) বলেন, প্রচণ্ড তাপমাত্রায় কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পে পলিথিনের ঝুপড়িগুলোর ভেতরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানির অভাবে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। তারা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে।

লম্বাশিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাঝি আবদুল মজিদ জানান, পাড়াপড়শির বাসাবাড়ি থেকে অনেকেই পানি সংগ্রহ করে দিনের কাজ চালাচ্ছেন। তবে রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগ খাল, নালা, পুকুর ও জলাশয়ের পানি ব্যবহার করছেন। যে কারণে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে সরকারিভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাতশ এবং স্থানীয়দের জন্য পাঁচশ গভীর নলক‚প স্থাপন করা হয়েছে। তবে ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সংস্থার স্থাপন করা নলক‚পগুলো

সংস্কারের অভাবে বেশির ভাগ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চলতি খরা মৌসুমে পানির স্তর নিচে চলে যাওয়ায় এ সমস্যাটা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, উখিয়া-টেকনাফে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের অবস্থা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তিনি বলেন, পানি বাহিত রোগীর সংখ্যা সারা বছরই কম- বেশি থাকে। তবে ক্যাম্পগুলোতে এর বিস্তারটা একটু বেশি।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্ষেত্রে টয়লেট এবং টিউবওয়েলগুলোর অবস্থান খুবই কাছাকাছি হওয়াতে মলমূত্রের জীবাণু খাওয়ার পানিতে সহজে মিশে যেতে পারে। এর ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস (হেফাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-ই) রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী রবিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পানি সমস্যা সমাধানে সরকারি ও বেসকারিভাবে গভীর নলক‚প স্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও কাজ করছে। সূত্র: ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত