প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ভ্যাট আদায় অনিশ্চিত, দ্রুত পরিশোধে বিপিসিকে এনবিআরের তাগিদ

ডেস্ক রিপোর্ট: জ্বালানি তেল বিপণনকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৩ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার বকেয়া ভ্যাট দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে ওই ভ্যাটের অর্থ এখনো পরিশোধ করেনি বিপিসি। ইতোমধ্যে এনবিআরের আওতাধীন চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনার অফিস থেকে চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করা হয়েছে। কিন্তু এত বছরেও সরকারি কোষাগারে ওই অর্থ জমা হয়নি।

সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল বিপিসি ও পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিয়ে একটি বৈঠকে সাড়ে ৯শ কোটি টাকা বাদ দিয়ে কেবল বিগত পাঁচ বছরের বকেয়া ভ্যাট ২ হাজার ৬শ কোটি টাকা পরিশোধে এনবিআরের পক্ষ থেকে তাগিদ দেওয়া হয়। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে আয়োজিত ওই বৈঠকে এনবিআর সদস্য লুত্ফর রহমান ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ের মূল বকেয়া ভ্যাটের ২ হাজার ৬শ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ওই অর্থ পরিশোধ করা হলে, পূর্বের বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আর কোনো আলোচনা হবে না। কিন্তু একই বৈঠকে বিপিসির পরিচালক আলতাফ হোসেন চৌধুরী জানান, বিপিসির বকেয়া পরিশোধের কোনো খাত নেই।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মোটা অঙ্কের বকেয়া থাকা রাজস্ব উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআরের বর্তমান প্রশাসন। কিন্তু বকেয়া পরিশোধে বিপিসির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় চলতি অর্থবছরেও বিশাল অঙ্কের এ অর্থ আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ওই বৈঠকে বকেয়া ভ্যাটের বিষয়টি বিপিসিকে সময়মতো জানানো হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়। বৈঠকে উপস্থিত বিপিসির মহাব্যবস্থাপক এটি এম সেলিম জানান, বকেয়া অর্থের মধ্যে সুদের পরিমাণ উল্লেখ করার অনুরোধ করা হলেও তা করা হয়নি।

অর্থবছরের শেষ দিকে এসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চাপ তৈরি হয়েছে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোর মধ্যে। ফলে বকেয়া আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, বিপিসির ওই বকেয়া ভ্যাটের অর্থ কাগজে-কলমে পরিশোধ করা হলে (বুক অ্যাডজাস্টমেন্ট) মাঠ পর্যায়ের অফিস অন্তত আদায় হিসেবে দেখাতে পারে।

বিপিসির ভ্যাটের বিষয়টি দেখভাল করে চট্টগ্রামের ভ্যাট কমিশনারেট। চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনার গোলাম কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে বিপিসি বকেয়া ওই অর্থ পরিশোধ করবে বলে জেনেছিলাম। কিন্তু কবে নাগাদ ওই অর্থ পাওয়া যাবে, জানি না।

সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল সরবরাহকারী পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড বিপিসির নামে ঋণপত্র (এলসি) খুলে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন আমদানি ও সরবরাহ করে। এসব কোম্পানি সরবরাহকালে গ্রাহকের কাছ থেকে পুরো ভ্যাটই আদায় করেছে। কোম্পানিগুলো তাদের কমিশন কেটে রেখে অবশিষ্ট অর্থ বিপিসিকে পরিশোধ করেছে। কিন্তু বিপিসি তা এনবিআরে জমা দেয় নি। চট্টগ্রামের ভ্যাট কমিশনারেট আমদানি-রপ্তানির প্রকৃত হিসাবের স্বার্থে নতুন করে চালু হওয়া সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড-এর ডাটা সংগ্রহ করে এ বিশাল অনিয়ম উদ্ঘাটন করতে সমর্থ হয়। সূত্র: ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত