প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইসিডিডিআরবিতে প্রতিদিন ভর্তি ৭০০ রোগী
ঢাকা ওয়াসার পানি থেকে ছড়াচ্ছে ডায়রিয়া, কলেরা

ডেস্ক রিপোর্ট : হঠাৎ করেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া। রাজধানীর মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) হাসপাতালে রোগীর উপচেপড়া ভিড়। এ হাসপাতালটিকে গত পাঁচ দিনে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৬৬৬ জন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৭০০-এর বেশি। এ বছরের এ সময়ে সাধারণত ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়লেও এবারের ব্যাপকতা ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের।

আইসিডিডিআরবির হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মুহূর্তেই রোগী এসে ঢুকছেন হাসপাতালে। হাসপাতালটির কোনো বিছানাই ফাঁকা নেই। অতিরিক্ত বেড দেয়া হয়েছে। এরপরও রোগীর চাপ বাড়ছেই। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর ঝিগাতলার বাসিন্দা তানজিমা ইসলাম গত বুধবার এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, বুধবার সকাল থেকেই বাসায় বেশ কয়েকবার পায়খানা হয়েছে। সঙ্গে বমি। সে সময় বাসায় আমার মেয়ে ৬-৭টা স্যালাইন খাইয়েছে। কিন্তু কোনো উন্নতি না হওয়ায় তারা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। চিকিৎসক বলেছেন, ৭২ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। পানিশূন্যতার কারণে শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার মেয়ে অতুশি বলেন, মাকে বাইরের খাবার খাওয়ানো হয় না। বাড়ির খাবারই খান। তবে আমাদের এখানকার পানিতে মাঝে মাঝে ময়লা আসে, গন্ধও হয়। সে সময় রান্নাবান্না ও গোসলে সমস্যা হয়। মা অসুস্থ হওয়ার আগের কিছুদিন নোংরা পানি এসেছিল। হয়তো এ পানিই তার এ অবস্থার জন্য দায়ী।

আইসিডিডিআরবি থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত ৫ দিন ধরে গড়ে ৭০০ থেকে ৭৫০ জন রোগী আসছে। এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আগামীতে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ২১ এপ্রিল ৭৩৪ জন, ২২ এপ্রিল ৬৭৮ জন, ২৩ এপ্রিল ৭১৭ জন, ২৪ এপ্রিল ৭৮৮ জন, ২৫ এপ্রিল ৭৪৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

আইসিডিডিআরবির হাসপাতালপ্রধান ও প্রধান চিকিৎসক ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিকভাবেই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার আগে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তবে উচ্চতাপমাত্রা, অতিবৃষ্টি ও ওয়াসার নোংরা পানির কারণে মার্চের আগেই রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ ছাড়া রাস্তাঘাটে খোলা খাবার, শরবত, পচা ও বাসি খাবার খেয়ে অনেকে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সাধারণত এক দুটো এলাকা থেকে প্রতি বছর রোগী আসত। কিন্তু এবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসছে। এবারের আক্রান্তের সংখ্যাটি আসলেই চিন্তার বিষয়। এটা স্বাভাবিক বিষয় নয়। তিনি বলেন, পথেঘাটে দূষিত পানি পান করা ছাড়াও বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের পাইপ নিয়মিত কতটা পরিষ্কার করা হয়; কিংবা যে পানি সরবরাহ করা হয় সেটা কতটা নিরাপদ বা বিশুদ্ধ থাকে সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আবার নিয়মিত পানি সরবরাহ না পেয়ে অনেকেই এখান-সেখান থেকে অনিরাপদ পানি সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করতে বাধ্য হন। এ থেকেই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে একটি অংশ কলেরার জীবাণুতেও আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে চারটি ক্যাটাগরিতে কলেরা জীবাণুবাহীদের ভাগ করা হয়। এর মধ্যে একজন মানুষের শরীরে কলেরা চূড়ান্ত পর্যায়ে আক্রান্ত হলে তার মাধ্যমে আরো তিনজন সংক্রমিত হতে পারে। তিনি বলেন, একটু সচেতন থাকলেই ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। ছোট শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে, শিশুসহ সব বয়সী মানুষকে ফোটানো পানি পান করতে হবে। এ ছাড়া বাইরের খাবার, সব ধরনের শরবত পরিহার করতে হবে। যদি কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় প্রথমেই তাকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। খাবার স্যালাইন খাওয়ানোর পরও যদি রোগীর অবনতি ঘটে, তাহলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে বলে জানান তিনি।

আইসিডিডিআরবি ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালেও ডায়রিয়া রোগীর ভিড় বাড়ছে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেল্থ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের দেয়া তথ্য মতে, সারা দেশের গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৩৫ হাজার ১২ জন। একই কেন্দ্রে প্রতিদিনের মনিটরিং কার্যক্রমের আওতায় ঢাকার আইসিডিডিআরবি বাদে ২০টি জেলায় গত এক মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় শুধু আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১৩ জন। এই ২০ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া শুধু ঢাকা জেলায় জানুয়ারি মাসে ৬ হাজার ৬৩৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৬ হাজার ১৯৬ জন ও মার্চে ৬ হাজার ৫১৭ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। যা গত বছর ছিল জানুয়ারিতে ৬ হাজার ৬২২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪ হাজার ৫৭৫ জন ও মার্চে ৭ হাজার ৭৪২ জন। এ তুলনায় এ বছর এই সময়টিতে প্রায় দেড় হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। সূত্র:  ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত