প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদাকে ছাড়াই ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি 

ডেস্ক রিপোর্ট: কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। পাশাপাশি তার মুক্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্দোলনের চেয়ে আইনি লড়াইয়ে জোর দেয়ার কথা ভাবছেন দলটির নেতারা। দলীয় প্রধানকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে দলের ভেতরে দোলাচল থাকলেও নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারবেন না- এমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতারা। পাশাপাশি এগিয়ে চলছে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমও। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

নেতারা জানান, সহসাই খালেদা জিয়ার কারামুক্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তারা। আন্দোলনের মাধ্যমে এই মুহূর্তে তাকে মুক্ত করা যাবে, সেই সম্ভাবনাও কম। এমন ভাবনা থেকেই দলীয় সভা-সমাবেশে বক্তৃতায় তারা নির্বাচন বর্জনের কৌশলী বক্তব্য দিচ্ছেন। নেতারা ভাবছেন, দলীয় প্রধানের মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি কোনোটাই সহজে মানবে না সরকার। তাই দাবি আদায়ে রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও এগিয়ে রাখা ভালো। যাতে নির্বাচনের আগে দলীয় প্রধান মুক্তি পেলেও নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতির চাপ না আসে। একই সঙ্গে বহির্বিশ্বের সমর্থন আদায়ে তৎপর থাকবে দলের ক‚টনৈতিক উইংও। এরই মধ্যে পশ্চিমা দেশের ঢাকাস্থ সিনিয়র ক‚টনীতিকদের সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠকও হয়েছে। এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

এ লক্ষ্যে দলের কার্যক্রমকে ৪টি ভাগে ভাগ করে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করছেন বিএনপি নেতারা। এগুলো হলো, খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি, আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ ও নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করা। এ ধারাবাহিকতায়ই আগামী গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

তবে নির্বাচনের চেয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিএনপির কিছু সংখ্যক নেতা- যা নিয়ে দলের ভেতরে খানিকটা ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এক সমাবেশে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে না পারলে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে জীবিত মুক্তি দেবে না। জেলগেটে তার লাশ ফেরত নিতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আগে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারপর নির্বাচনের চিন্তা করতে হবে। জনগণের কাছে মেসেজ যাচ্ছে বিএনপির কাছে নির্বাচন বড়, খালেদার মুক্তি নয়। তাহলে সরকার কেন তাকে মুক্তি দেবে।
অন্যদিকে খালেদাকে কারাগারে রেখেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি- এমন আভাস পাওয়া যায় দলটির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কথায়। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমান সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করেই তাকে মুক্ত করতে হবে।

বিএনপির বেশিরভাগ নেতাই দলীয় প্রধানের মুক্তির পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন গতিহীন হয়ে পড়ছে, এমনটা বুঝতে পেরে আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়ার চিন্তাকেও প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করে আইনি মোকাবেলায় নতুন কার্যক্রম শুরু করবেন নেতারা। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোরের কাগজকে বলেন, চলমান আন্দোলনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত হবে না, মুক্তি একমাত্র হতে পারে আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। নির্বাচন যখন কাছে আসবে, পরিবেশ যখন উত্তপ্ত হবে, তখন বিএনপি শক্ত কর্মসূচি দেবে। আর ওই সময়ই আমরা অলআউট আন্দোলনে যাব। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখাও ভালো। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজও সেরে ফেলেছে বিএনপি। সাংগঠনিক গতি ফিরিয়ে আনতে কমিটি গঠনের কাজ ফের শুরু হয়েছে। সিনিয়র নেতারা জেলায় জেলায় গিয়ে সমাবেশ করছেন। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের কথা ভেবে তৃণমূলের কোন্দল নিরসনে কর্মী সম্মেলন করছেন সিনিয়র নেতারা। সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ক্ষমতাবলয়ের বাইরের রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা শুরু করেছে। সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত দলের বাইরে থাকা নেতাদের আবার দলে ফিরিয়ে আনার প্রয়াসও চলছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে জোটে টেনে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রস্তুতিও রয়েছে।

জানা যায়, লন্ডন থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই নির্বাচনের অংশ নেয়ার বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। ক্ষমতাসীন দলের কৌশলের বিপরীতে বুঝে শুনে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন তারা। বর্তমানে পুরোটা মনোযোগ এখন খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে। নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যস্ত নেতারা। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র অন্য নেতাদের নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে নিয়মিত বৈঠক করছেন। নির্বাচনে কাজ করতে জোটের শরিকদের নিয়ে সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৫টি জেলায় সমাবেশ করেছেন সিনিয়র নেতারা। সেখানে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের আলাদা করে ডেকে অন্তর্কোন্দল নিরসনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। এরপর বৃহত্তর জেলাগুলোতে সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যেই কর্মী সম্মেলন শুরু হয়েছে। সিনিয়র নেতাদের আলাদা জেলা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ঢাকা থেকে ওইসব জেলায় গিয়ে কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনছেন। প্রয়োজনীয় সমাধান দিচ্ছেন। দলের সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজেদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন। মাঠ নেতারাও অনেকেই লিখিতভাবে তাদের মতামত দিচ্ছেন। সে অনুযায়ী কাজও এগিয়ে চলছে।

আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, কঠোর আন্দোলনে না গিয়ে বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের অস্ত্রকে শানিত করছে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে জোরদার আন্দোলন আসছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে দলে। নির্বাচনটাকে আন্দোলনে রূপ দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই নেতা।সূত্র: ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ