প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুভ জন্মদিন স্যার ফজলে হাসান আবেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ আজ পা রাখছেন ৮৩ বছরে। ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার নেতৃত্বে ও একাগ্র প্রচেষ্টায় দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি (ব্র্যাক) গত চার দশকের মধ্যে পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের এগারোটি দেশে ব্র্যাকের লক্ষাধিক কর্মী প্রায় তেরো কোটি মানুষের জীবনে উন্নয়নের স্পর্শ রেখে যাচ্ছেন। ২০১০ সালে দারিদ্র্য বিমোচনে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফজলে হাসান আবেদ যুক্তরাজ্যের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি ‘নাইটহুড’ লাভ করেন। ২০১১ সালে তিনি কাতার ফাউন্ডেশন প্রবর্তিত শিক্ষাক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বোচ্চ

পুরস্কার ‘ওয়াইজ প্রাইজ’ লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি সামাজিক ক্ষেত্রে তার অনন্যসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

ফজলে হাসান আবেদ পাবনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর পর ব্রিটেনের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেভাল আর্কিটেকচার বিষয়ে শিক্ষালাভ করেন। পরে তিনি লন্ডনের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস-এ ভর্তি হন। ১৯৬২ সালে তিনি তার প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন।

১৯৭০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এ সময় তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে ‘হেলপ’ নামের একটি সংগঠন গড়ে তুলে ঘূর্ণিউপদ্রুত মনপুরা দ্বীপের অধিবাসীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। সেখানে তারা ব্যাপক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ইংল্যান্ডে গিয়ে সহমর্মী বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ এবং ‘হেলপ বাংলাদেশ’ নামে দুটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এই সংগঠন দুটির মাধ্যমে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়, প্রচার, তহবিল সংগ্রহ ও জনমত গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। একাত্তর সালের ডিসেম্বরে ফজলে হাসান আবেদ সদ্যস্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে কাজ করার উদ্যোগ নেন। এ সময় তিনি তার লন্ডনের ফ্ল্যাট বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে ত্রাণ কাজ শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল শাল্লাকে তিনি তার কর্ম-এলাকা হিসেবে বেছে নেন। এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায়ই তিনি ব্র্যাক গড়ে তোলেন।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ডেনমার্কভিত্তিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান লেগো ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রাক-শৈশব উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লেগো প্রাইজ ২০১৮ লাভ করেন।

মানবিক ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ব্র্যাক বিশ্বের সর্ববৃহৎ পুরস্কার কনরাড এন হিলটন হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড (২০০৮) এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ (২০০৭) অর্জন করেছে। এ ছাড়াও ব্র্যাক ইউনিসেফ মরিস পেট অ্যাওয়ার্ড (১৯৯২), অ্যালানশন ফেইনস্টেইন ওয়ার্ল্ড হাঙ্গার পুরস্কার (১৯৯০) এবং ইউনেস্কো নোমা পুরস্কার (১৯৮৫) অর্জন করে।

২০১০ সালে জাতিসংঘের মহাপরিচালক বান কি মুন ফজলে হাসান আবেদকে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ‘স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গে’র একজন হিসেবে নিযুক্তি প্রদান করেন।

ফজলে হাসান আবেদ বিশ্বের নানা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেন। সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত