প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উপকূলীয় ৬২ হাজার একর চরে হচ্ছে ম্যানগ্রোভ বনায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : হিমালয় থেকে বহমান নদীর পলিতে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠেছে একের পর এক নতুন চর। উপকূলীয় অঞ্চলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দিতে এসব চরে বন সৃজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চরগুলোর প্রায় ৬২ হাজার একরে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে যুক্ত হবে ২৫০ বর্গকিলোমিটার নতুন ভূমি।

গত দুই দশকে অন্তত ১৫টি দ্বীপ ও চর জেগে উঠেছে বঙ্গোপসাগরের মোহনায়। নিঝুম দ্বীপ, নলের চর, কেয়ারিং চর, জাহাজের চর যেন নতুন বাংলাদেশের জানান দিচ্ছে। জেগে ওঠা অন্য চরগুলোর মধ্যে আছে— দ্বীপ হাতিয়ার পশ্চিমে ঢাল চর, মৌলভীর চর, তমরুদ্দির চর, জাগলার চর, ইসলাম চর, নঙ্গলিয়ার চর, সাহেব আলীর চর, দক্ষিণে কালাম চর ও রাস্তার চর। এসব চরের ভূমিরূপকে স্থায়িত্ব দিতে ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করছে সরকার।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের ৬৭টি উপজেলার চর এলাকায় এসব বন সৃজন করা হবে। এজন্য ‘বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা নতুন চরসহ উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রণয়ন করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ১০৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বন অধিদপ্তর। প্রকল্পের আওতায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন হবে প্রায় ৬২ হাজার একর জমিতে। মহাসড়ক, ফিডার রোড এবং বাঁধ এলাকায় স্ট্রিপ বনায়ন হবে এক হাজার হেক্টর জমিতে। এছাড়া ৪০ হাজার পরিবারে হোমস্টেড বনায়ন করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার পরিবারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত।

এ বিষয়ে বন অধিদপ্তরের বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক ও প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায় বলেন, বন সৃজনের এ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন চর জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত এবং স্থায়ী করা হবে। এর মধ্য দিয়ে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে সবুজ বেষ্টনীও তৈরি করা যাবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫০ বর্গকিলোমিটার চরাঞ্চলকে নতুন ভূমিতে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এছাড়া আবাসস্থল ও প্রজনন সুবিধার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাণিকুলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমির ক্ষয় ও ভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় এক মিটার বেড়ে যাবে। এতে দেশের ১৫ শতাংশ ভূমি প্লাবিত হবে এবং এক কোটি মানুষ বাস্তুহারা হবে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি প্লাবিত হবে, যা জমিতে লবণাক্ততার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।

জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির এমন আশঙ্কার মধ্যে নতুন করে আশা জাগাচ্ছে জেগে ওঠা চরগুলো। জানা গেছে, উপকূলীয় মোহনায় এখনো অন্তত ৪০-৫০টি ডুবোদ্বীপ রয়েছে, যা ১০ বছরের মধ্যে জেগে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেগে ওঠা নতুন চরে বনায়ন সৃষ্টির মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলকে দুর্যোগের অভিঘাত থেকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে ও উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের প্রচুর সুযোগ রয়েছে, যা কার্যকর সবুজ বেষ্টনী তৈরি, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে।

এ বিষয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, সারা দেশেই বনাঞ্চল বৃদ্ধি ও বিদ্যমান বনাঞ্চলগুলো রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়াও জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় বনায়নের কোনো বিকল্প নেই। যেসব নতুন জেগে ওঠা চর এখন ডুবুডুবু অবস্থায় রয়েছে, সেখানে ম্যানগ্রোভ বনায়নের মাধ্যমে বসবাস উপযোগী করে তোলা হবে। পাশাপাশি বসতবাড়িতে বনায়নের মাধ্যমে উপকূলীয় পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তোলা হবে।

বন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দুই লাখ হেক্টরের অধিক উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন চরগুলোয় বনায়নের মাধ্যমে মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল, প্রাণিকূলের জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করছে মন্ত্রণালয়। সূত্র : বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত