প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ. লীগের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে শাস্তি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্লোগানে মুখর শিল্পনগরী। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন সামনে রেখে পাঁচজন মেয়র ও সংরক্ষিতসহ ১৮৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

অন্যদিকে এই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১০ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও দু-এক দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় নগরীর খানজাহান আলী থানার ফুলবাড়ী গেট থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর তিনি সকাল সাড়ে ১১টায় কেবল ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক-কর্মচারী, আলতাফ প্লাজায় ব্যবসায়ী এবং দুপুর সোয়া ১২টায় হ্যামকো ব্যাটারি লিমিটেডে শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ (স্বাস্থ্য), স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কালের কণ্ঠ

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন সমন্বয়কারী এস এম কামাল হোসেন বলেন, বিএনপি অপপ্রচার দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়। তাদের মিথ্যাচারের জবাব জনগণকে দিতে হবে। খুলনা বাঁচাও আন্দোলনের অংশ হিসেবে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত খুলনা গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি গতকাল সকাল ৮টায় দৌলতপুর থানা নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন। পরে খানপাড়া, দত্তবাড়ী, বণিকপাড়া, মোল্লার মোড়, তিন দোকানের মোড়, বাউন্ডারি রোড, ঋষিপাড়া, দফাদারপাড়া ও আঞ্জুমান রোড এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। সকাল ১১টায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর পুনরায় তিনি গণসংযোগে নেমে পড়েন।

ওদিকে মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে পাড়া-মহল্লা পোস্টারে ছেয়ে গেছে। কেউ কেউ নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনের কাজও শেষ করে ফেলেছেন। প্রার্থীদের সমর্থকরা সকাল থেকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে।

২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাহবুব কায়সার বলেন, ‘ভোর থেকেই প্রচারণায় আছি। সব ভোটারের কাছে পৌঁছতে চাই। বিগত দুই মেয়াদে কাউন্সিলর ছিলাম। সেই সুবাদে সবার সঙ্গে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এটা আমার জন্য বাড়তি সুবিধা বলে মনে করছি।’

২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আলী আকবর টিপু বলেন, ‘শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়, সব সময় এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবার সবার কাছে যাচ্ছি। ওয়ার্ডবাসীর ভালোবাসায় আমি কৃতজ্ঞ।’

সংরক্ষিত ৬ নম্বর আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী রাবেয়া ফায়িদ হাসনাহেনা বলেন, ‘নির্বাচনের আগেও মানুষের কাছে গিয়েছি। এখন আবার যাচ্ছি। পাঁচ বছর কাউন্সিলর হিসেবে তাদের ভালোবাসা পেয়েছি। তাই আবারও প্রার্থী হয়েছি।’

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠন পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নুর ইসলাম নুরু, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড যুব শ্রমিক লীগের আসাদুর রহমান আসাদ, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউসুফ আলী মন্টু, জি এম আব্দুর রব ও আওয়ামী লীগের শরিফুল ইসলাম মুন্না এবং সংরক্ষিত ৯ নম্বর আসনে মহিলা আওয়ামী লীগের সাহানুর বেগমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া মহানগর যুবলীগ নেতা ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেখ শহীদ আলী, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ইউসুফ আলী মন্টু ও ১১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক জামান মোল্লা জেলিমকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগ ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এফ এম জাহিদ হাসান জাকিরকে বহিষ্কার করে।

মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত