প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

না.গঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের চার বছর

সজিব খান: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের চার বছর পূর্ণ হলো আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)। আর এ মামলায় ফাঁসির অপেক্ষায় আছেন ১৫জন আসামি। গত বছরের ২২ আগস্ট আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এতে কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ মোট ১৫ জনের মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া বাকি ১১ জনের মৃত্যুদন্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এর আগে গত বছরের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ৯জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করে। তবে এখনো আসামিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি। নিহতদের স্বজনদের দাবি আসামিদের যত দ্রুত সম্ভব ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো প্রধান আসামী নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকুরীচ্যুত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা (এমএম রানা), হাবিলদার এমদাদুল হক, ল্যান্সনায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়্যব, কনস্টেবল মো: শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্নেন্দ বালা, সৈনিক আবদুল আলীম, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী (পলাতক), সৈনিক আলামিন শরিফ (পলাতক) ও সৈনিক তাজুল ইসলাম (পলাতক)।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ তার পাঁচ সহযোগীকে অপহরণ করা হয়। একই সময় একই স্থান থেকে অপর একটি গাড়িতে থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রবীণ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়ির চালককেও অপহরণ করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর বন্দর উপজেলা শান্তির চর এলাকার তীর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

অপহরণের নির্দেশদাতা নূর হোসেনের ভারতে পলায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী এক সংসদ সদস্যের জড়িত থাকার মোবাইল কথোপকথন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর আরো বেশী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। একজন কাউন্সিলরের নির্দেশে কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মেয়ের জামাই তারেক সাঈদ তার নিম্মপদস্থ র‌্যাব কর্মকর্তারা খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে এমন বিষয়টি প্রকাশ পায়।

সাত খুনের ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের সাথে সখ্যতা থাকার অভিযোগে তৎকালীন র‌্যাবের এডিজি কর্নেল জিয়াউল হক, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানসহ হেভিওয়েট অনেককেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্তের কমিটির মুখোমুখি হতে হয়।

এরপর সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেফতার হওয়া, এরপর বাংলাদেশে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারকার্য সম্পন্ন করাকালীন সময়জুড়ে দেশজুড়ে বেশ আলোচিত হয়ে উঠে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি। মামলায় ৩৫ জন আসামীর মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার থাকলেও বাকী ১২ জনকে পলাতক দেখিয়েই সাক্ষ্য ও জেরার পর গত ৩০ নবেম্বর যুক্তিতর্ক শেষ হয়। সাত খুনের ঘটনায় দু’টি মামলা দায়ের হলেও ১২৭ জনকে অভিন্ন সাক্ষী করা হয়। যার মধ্যে ১০৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত