প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাল্যবিবাহ রোধে সকলের প্রচেষ্টা প্রয়োজন: সংস্কৃতিমন্ত্রী 

ফাহিম ফয়সাল : সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, বাল্যবিবাহ থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষার প্রসার, সচেতনা বৃদ্ধি ও নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি সরকার থেকে শুরু করে মসজিদের ইমাম পর্যন্ত সমাজের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
বৃস্পতিবার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত রাজধানীর আগারগাঁও পিকেএসএফ ভবনে ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনেক আগে থেকেই আইন আছে কিন্তু বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ হয়নি। অনেক বাবা-মা তাদের মেয়েকে বোঝা মনে করে। তাদেরকে সচেতন করতে হবে। আমাদের দেশে শৈশব থেকেই ছেলে ও মেয়ে শিশুদের মধ্যে অযাচিত দুরত্ব সৃষ্টি করার একটা প্রবণতা রয়েছে, যা তাদের বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বিকাশে বাধা হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি প্রণীত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিশেষ বিধান প্রসঙ্গে সভা-সেমিনার হলেও জোরালো কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিশেষ ক্ষেত্রে নারীদের আঠারো বছর বয়সের নীচে বিয়ের বৈধতা সম্পর্কিত বিশেষ বিধান প্রণয়নে নারীদের মতামত কতোটুকো গ্রহণ করা হয়েছে? গ্রামাঞ্চলে বালবিবাহের প্রবণতা বেশি। বাল্যবিবাহের অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ ঘটে। যখন মেয়েটি বাবার বাড়ি ফিরে আসে তখন তার সাথে একটি বা দুইটি সন্তান থাকে। তাই বাল্যবিবাহ সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।
বক্তারা বলেন, নিরাপত্তাহীনতা ও অভাব অনটনের কারণে বাল্যবিবাহ হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে ভাল পাত্র পেলে বাবা-মা তাদের মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিচ্ছে। বাল্যবিবাহ নারী উন্নয়নে বড় অন্তরায়।
বক্তারা আরও বলেন, মোবাইলের অপব্যবহারের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশে টেকসই উন্নয়নে বাল্যবিবাহ অন্যতম অন্তরায়। বিশ্বে বাল্যবিবাহে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে, পিকেএসএফ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ইতিমধ্যে এ সকল কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের ওপর অত্যাচার বন্ধে কঠোর আইন করা দরকার। আমাদের দিশা, নীতি ও লক্ষ্য ঠিক আছে কিন্তু পথটাকে আরও মসৃণ করতে হবে। শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি যুক্ত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব হোসনে আরা বেগমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিভিন্ন ঘটনাবলী সম্বলিত পুস্তিকা ‘হোক স্বপ্নের জয়’ এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর উল্লেখযোগ্য ধারাসমূহ সম্বলিত একটি ফেস্টুন উন্মোচন করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত