প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পীরগঞ্জে পলিথিনে সয়লাব-পাটপণ্য ঐতিহ্য হিমঘরে

জাকির হোসেন,পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও): পীরগঞ্জ উপজেলায় পলিথিন ব্যাগ ও পলিথিন ব্যবহারে সয়লাব হয়ে পড়েছে। শহরসহ গ্রাম অঞ্চলের দোকানপাট, হোটেল ও কাঁচাবাজার খরচ বহনের ক্ষেত্রে পলিথিনের যেন বিকল্প নেই। পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলেও আইনকে তোয়াক্কা না করে পলিথিন ব্যবসায়ীরা দেদারসে বাজারজাত করছে।

এক্ষেত্রে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডাব্লিউ এম রায়হান শাহের অবহেলার কারণে প্রশাসনিক ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান থমকে রয়েছে।

দৈনন্দিন কেনাকাটায় লোকজন পলিথিন ব্যবহার হাতের নাগালেই নিয়ে চলছে। কিন্তু পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তা ভ্রুক্ষেপ করছে না কেউ।

ইথিলিন নামক একটি জৈব যোগ থেকে তৈরি হয় এসব পলিথিন। এটি পচে না আগুনে পুরানো হলেও তা নষ্ট হয় না। তাছাড়া ময়লা আবর্জনায় এবং ডাষ্টবিনে ফেলানো পলিথিন এক শ্রেণীর অনাথ শিশু ও মহিলারা তা কুড়িয়ে পানিতে ধুয়ে ভাংড়ি নামক ব্যবসায়ীর দোকানে কেজি দরে বিক্রয় করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ফসলের জমিতে পলিথিন থাকলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা কমিয়ে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে উর্বরতা বৃদ্ধি করতে বাঁধা দেয়। চিকিৎসকদের মতে বড় রকমের প্রকোপ রোগের সৃষ্টি হয় পলিথিনের মধ্যে খাদ্য ও খরচ বহনের ক্ষেত্রে। কিন্তু পলিথিনের এসব ক্ষতিকর থেকে উত্তোরণের কোন সুগম ব্যবস্থা নেই। সুরক্ষিত পরিবেশ ও ভারসাম্য ভাবে পাট পণ্য ঐতিহ্য তৈরি ব্যাগ বাজারে পাওয়া বড় ভার। কোন দোকানে পাওয়া গেলেও ক্রয়ের সাধ অনেকের হয় না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় পাঠ পণ্য তৈরীর ব্যাগ সহ অন্যান্য উৎপন্ন সরবরাহ খুবই কম। তাছাড়া পাট পণ্য বাজারে সরবরাহ বাধ্য বাধকতার আইন প্রয়োগ এ উপজেলায় দেখা মেলে না।

পাটপণ্যের বাজারজাত করণে আইন প্রয়োগ পরিপূর্ণ সিদ্ধি হচ্ছে না এখানে। সরকারিভাবে আইন প্রণয়নের জন্য ২০১৬ সালে কার্যকর হয়। পাট পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ ও পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বিধি মালার ২০১৩ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়। ২০১৫ সালে ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে পরিথিন ও প্লাষ্টিক ব্যাগের বিরুদ্ধে সাড়াশি বা বিশেষ অভিযান শুরু হলেও এখানে তা থমকে রয়েছে। এ সিন্ধান্ত বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত এলাকায় জরুরী।

তথ্য ও সূত্রমতে,২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে পাট পণ্যজাত মোড়কের ব্যবহার আইন বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ই মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ কাজের সম্পৃক্ত ৩৪ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেন।

তাছাড়া অন্যতম অর্জন খসড়া পাট আইন ২০১৬ প্রণয়নের ক্ষেত্রে খসড়া আইনের ৩ বছর কারাদন্ডের সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে পাট আইন ২০১৬ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। জানা যায় ১৯৬২ সালে জুট অর্ডিনেশন পরে ১৯৬৩, ১৯৭৪ ও ১৯৮৩ সালে সংশোধন করা হয়। ঐ অধ্যাদেশের আলোকেই পাট আইন করা হচ্ছে। আর পাট আইনের মতই দুই বছর কারাদন্ডের সঙ্গে দশ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে খসড়া আইন ২০১৬ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বস্ত্র ও পাট আন্ত মন্ত্রণালয়। বিদ্যমান বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের সমন্বয়ে ও পর্যবেক্ষণ জোরদারের লক্ষ্যে বস্ত্র আইন ২০১৬ করতে যাচ্ছে সরকার।এদিকে দেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিন কাপড় ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে জানা যায়। পাটজাত পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পাটের বস্তা পুরোপুরি ভাবে রপ্তানি করা একান্ত প্রয়োজন এ এলাকায়।

পীরগঞ্জ উপজেলায় পাট পণ্য বস্তা ব্যবসায়ীরা স্ব-উদ্যোগ নিলে পাট পণ্য বাজারজাত পরিপূর্ণ হবে এবং পলিথিন সয়লাব বাজার থেকে উঠে যাবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। না হলে পলিথিনই বাজার দখলে থাকলে পাঠপণ্য ঐতিহ্য ব্যবহার ও বাজারজাত হিমঘরে পরে থাকবে। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডাব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত