প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রিয়াল মাদ্রিদের মিউনিখ জয়

স্পোর্টস ডেস্ক : ভাগ্য বদলালো না বায়ার্ন মিউনিখের। এক বছর আগের চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের মতো এবারও রিয়াল মাদ্রিদের আঘাতের ক্ষত নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো জার্মান ক্লাবটিকে। বিপরীতে শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা ওড়িয়ে রিয়াল এগিয়ে গেল ফাইনালের পথে। আলিয়েঞ্জ অ্যারেনার সেমিফাইনালের প্রথম লেগ মাদ্রিদের ক্লাবটি জিতে ফিরেছে ২-১ গোলে।

২০১৬-১৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগেও দেখা হয়েছিল তাদের। কোয়ার্টার ফাইনালে ওই খেলাতেও প্রথম লেগ হয়েছিল মিউনিখে। এবারও তাই এবং কাকতালীয়ভাবে স্কোরও একই! গতবারের মতো এবারও মিউনিখ জয় করে ফিরলো রিয়াল ২-১ গোলে।

অথচ শুরুর চিত্রনাট্যটা ছিল অন্যরকম। শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল যে বায়ার্নই। তবে ইয়োশুয়া কিমিচের গোলটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। বিরতিতে যাওয়ার আগেই রিয়াল সমতায় ফেরে মার্সেলোর লক্ষ্যভেদে। এরপর উল্টো এগিয়ে যায় মাদ্রিদের ক্লাবটিই। মার্কো আসেনসিওর ওই গোলটাই গড়ে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ব্যবধান।

প্রতিপক্ষের মাঠে ২ গোল দিয়ে আসায় ফাইনালে ওঠার পথে সুবিধাজনক জায়গায় থেকে দ্বিতীয় লেগে নামবে রিয়াল। এর ওপর আবার ফিরতি লেগ ঘরের মাঠে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে।

দুর্ভাগ্য জড়িয়ে ধরেছিল বায়ার্নকে। খেলায় ঠিকমতো মনোযোগ দেওয়ার আগেই স্বাগতিকরা হারায় আরিয়েন রবেনকে। ডাচ উইঙ্গার ম্যাচ ঘড়ির মাত্র অষ্টম মিনিটে ছাড়েন মাঠ। এখানেই শেষ নয়, ৩৫ মিনিটে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার জেরোম বোয়াটেং। মানে প্রথমার্ধেই দুজন বদলি খেলোয়াড় নামাতে হয়েছিল কোচ ইয়ুপ হেইঙ্কেসকে।
বায়ার্ন-রিয়ালের দ্বৈরথে ব্যক্তিগত আরেকটি লড়াই দেখার জন্য উন্মুখ হয়েছিল ফুটবল বিশ্ব।

প্রতিপক্ষদের গোলবন্যায় ভাসানো ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও রবার্ত লেভানদোস্কির লড়াইয়ে কে এগিয়ে যান, সেই উত্তেজনারও ছড়িয়েছিল খুব। তবে আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায় সেমিফাইনালের প্রথম লেগে তাদের দুজনকে ছাপিয়ে গেলেন কিমিচ। রোনালদো কিংবা লেভানদোস্কি নন, প্রথম গোল দেখে ফুটবল বিশ্ব এই জার্মান রাইটব্যাকের সৌজন্যে।
শুরু থেকেই বায়ার্ন আক্রমণ চালাচ্ছিল রিয়ালের রক্ষণে। তবে সুবিধা করতে পারছিল না। বেশ কয়েকবার হতাশ হওয়ার পর অবশেষে ২৮ মিনিটে গোলের দেখা পায় কিমিচের দুর্দান্ত লক্ষ্যভেদে। হামেস রোদ্রিগেসের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত থেকে আড়াআড়ি শটে বল জাড়িয়ে জড়িয়ে দেন এই রাইটব্যাক।

তবে বিরতি যাওয়ার আগেই সমতায় ফেরে রিয়াল। ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের সমতায় ফেরান মার্সেলো। বাঁ প্রান্ত থেকে দানি কারভাহালের হেড স্বাগতিক ডিফেন্ডারদের ভুলে পেয়ে যান মার্সেলো, ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাকের আচমকা শট জড়িয়ে যায় জালে।

অবশ্য প্রথমার্ধেই আবার এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছি বায়ার্ন। কিন্তু পারেননি লেভানদোস্কি; প্রথমবার তার হেড কেইলর নাভাস প্রতিহত করেন, ঠিক তার পরপরই আবার বল চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের খেলায় গতি বাড়ে, তবে আক্রমণের চেয়ে প্রতিআক্রমণেই বেশি নজর দিয়েছে তারা। তার সুফলও পায় ৫৭ মিনিটে। মার্কো আসেনসিওর গোলে তখনই যে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। অবশ্য এতে রিয়াল সমর্থকরা ‘ধন্যবাদ’ দিতেই পারেন রাফিনহাকে। ব্রাজিলিয়ান এই লেফটব্যাকের ভুলেই তো গোল হজম করেছে বায়ার্ন। ফাঁকা রক্ষণে রাফিনহা দেন ভুল পাস, তাতে বল পেয়ে যান লুকাস ভাসকেস। এই উইঙ্গারের পাস ধরে প্লেসিং শটে বল জালে জাড়তে কোনও সমস্যাই হয়নি আসেনসিওর।

পরের মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারতো বায়ার্ন। কিন্তু পারেনি রিয়াল গোলরক্ষক নাভাস দেয়াল হয়ে দাঁড়ালে। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ফ্রাঙ্ক রিবেরি গোলমুখে শট নিলেও তার ঠেকিয়ে দেন কোস্টারিকান গোলরক্ষক। পরের মিনিটে ফরাসি উইঙ্গারকে আবার হতাশ করেন নাভাস।

গোল শোধে মরিয়া বায়ার্ন একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে রিয়ালের রক্ষণে। কিন্তু সমতায় ফিরতে পারছিল না কিছুতেই। শেষমেষ হার নিয়েই ঘরের মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাভারিয়ানদের। সামনে তাই কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। বিপরীতে মিউনিখ থেকে জিতে ফেরায় ঘরের মাঠে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ফাইনাল অভিযানে নামতে পারবে রিয়াল। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত