প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেহাল সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ

ডেস্ক রিপোর্ট : সংস্কারের অভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। বৃষ্টির পানি জমে ওইসব গর্ত বড় খাদে পরিণত হচ্ছে। আবার কোথাও সড়ক ধসে পড়েছে। এসব সড়কে বাস, ট্রাকসহ অন্য যানবাহন চলাচলে একদিকে যেমন বাড়ছে বিড়ম্বনা, অন্যদিকে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিনই ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা। বিস্তারিত সংবাদদাতাদের খবরেÑ

সখিপুর : টাঙ্গাইলের সখিপুর-গারোবাজার সড়কের অধিকাংশ অংশ ভালো থাকলেও পৌরশহরের মাত্র ১৭০ মিটার সড়কের বেহাল অবস্থা। ওই সড়কটুকুতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে ওইসব গর্ত বড় খাদে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গেল বছরের ৪ মে ওই সড়কের ৩০ কিলোমিটার সংস্কার কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কাজটি পায় হক ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গেল ক’দিন আগে ওই সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করা হলেও সখিপুর পৌরসভার তালতলা থেকে খাদ্য গোদাম পর্যন্ত ১৭০ মিটার, বড়চওনা বাজারে ২৫০ মিটার এবং সাগরদিঘি বাজারের ৭০ মিটার সড়কের সংস্কার বাকি রাখে ঠিকাদার। এ বিষয়ে ওই কাজের ঠিকাদার সখিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বাদল বলেন, পানি জমে থাকায় বারবার ভাঙনের কবলে পড়া ওই অংশটুকু আরসিসি ঢালাই করা হবে জানিয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ খানাখন্দে ভরা ওই অংশের কাজ করতে নিষেধ করে দিয়েছে। আরসিসি করার বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা পাইনি। কর্তৃপক্ষের এ গাফিলতির কারণেই বর্তমানে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সড়কে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্তে প্রতিদিন বাস-ট্রাকসহ অন্য ভারি যানবাহন আটকে গিয়ে যানজট তৈরি হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। টাঙ্গাইলের সখিপুর, ঘাটাইল, মধুপুর, ময়মনসিংহের ভালুকা এবং ফুলবাড়িয়া উপজেলার একাংশের মানুষকে রাজধানীতে যাতায়াত করতে ওই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল, বাসাইল, সখিপুর, মির্জাপুর, কালিহাতীসহ কয়েকটি উপজেলার জনগণ ওই সড়ক দিয়ে ময়মনসিংহে যাতায়াত করেন।
ওই সড়কে যাতায়াতকারী ট্রাক চালক আবদুল হক বলেন, সড়কের সৃষ্ট গর্তে প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহনের চাকা পড়ে আটকে যাচ্ছে; বিকল হচ্ছে যানবাহন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে অথবা বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ কুদ্দুস বলেন, বৃষ্টিতে আগের চেয়ে রাস্তা আরও বেশি ভেঙেছে। তিন স্থানে মোট ৫৭০ মিটার ভাঙা অংশ আরসিসি ঢালাই করার জন্য ঊর্ধ্বতন অফিসে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ : সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া হতে সৈয়দপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পাকা রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। এ সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি পানিতে ডুবে যায়। ওই রাস্তায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি কিন্ডারগার্টেন ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে। আর এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কখনও কখনও জমে থাকা পানির নিচে খানাখন্দে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটির কাজ হয়েছে খুব নিম্নমানের। যে কারণে অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।
কেয়াইন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে খুব শিগগিরই রাস্তাটির সংস্কারের উদ্যোগ নেবে বলে তারা আশ^াস দিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ জানান, এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সড়কের দু’পাশের বাড়ির মালিকরা পরিকল্পনা মতো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। জনদুর্ভোগ কমাতে শিগগিরই রাস্তাটি সংস্কারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদপুর : ফরিদগঞ্জ-রূপসা সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই সড়কে উপজেলার পূর্বাঞ্চল রূপসা, খাজুরিয়া, লাউতলী, আষ্টা, গুপ্টি, গল্লাক এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত উপজেলা সদর, জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচল অনুপযোগী থাকায় সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাছাড়া যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ওমর ফারুক জানান, সড়কটি নতুন করে নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার জানান, ফরিদগঞ্জ থেকে রূপসা হয়ে গঙ্গাজলি ব্রিজ পর্যন্ত ৫.৭৪ কিলোমিটার সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য ৬ কোটি টাকার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি, আগামী অর্থবছরে সেটি বাস্তবায়ন হবে। এছাড়া সাময়িক সংস্কারের জন্য ১৫ লাখ টাকার একটি বাজেট পাঠানো হয়েছে যা প্রক্রিয়াধীন।
মধুখালী : ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার অন্তর্গত প্রায় ৮ হাজার লোকের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটির কোয়ার্টার কিলোমিটার মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাত্র দুই বছর আগে মধুখালী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে পৌরসভার শ্রীপুর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তাটি নির্মাণ করা হলেও গেল বছর মধুখালী রেলস্টেশন থেকে পদ্মাসেতুতে পাথর সরবরাহের কাজে রাস্তাটি ব্যবহার করায় কোয়ার্টার কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় দিনের বেলায়ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ওই রাস্তাটি দিয়ে ভ্যান রিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী লোকজনের ভোগান্তির শেষ নেই।
উল্লাপাড়া : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার মোহনপুর-উধুনিয়া আঞ্চলিক সড়কটির এখন বেহাল অবস্থা। সড়কের উপরের কার্পেটিং অনেক আগেই উঠে গেছে। মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। উধুনিয়া বাজারের আগে রাস্তার অনেক অংশ পাশের বিলে ধসে গেছে। এই পথে এখন যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাও দায়। স্থানীয় লোকজন কয়েক বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের আবেদন করলেও তা আমলে নেয়নি কেউ। ফলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে।
রূপগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন-রূপসী সড়কের বানিয়াদী এলাকায় কাঞ্চন পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল। ওই রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে গর্তসহ পিচ ও ইটের সুরকি উঠে বৃষ্টির পানিতে এখন কাদায় পরিণত হয়েছে। এ সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে চালক-যাত্রী ও স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয় ছাত্তার জুট মিল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলার এ ব্যস্ততম সড়কটি দীর্ঘদিনেও কোনো সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই খানাখন্দে পানি জমে যায়। এতে সড়ক দেবে নাজুক অবস্থায় পরিণত হয়। কাঞ্চন পৌর মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা বলেন, কাঞ্চন-রূপসী সড়কটি (সওজ) সড়ক ও জনপদের। সড়ক সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কটি পুরোটা নতুন করে সংস্কার করার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি এ সড়কের সংস্কারের কাজ শুরু হবে। সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত