প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটব্যাংক ‘টঙ্গী’

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রতীক বরাদ্দের পরপরই আকস্মিকভাবে যেন বদলে গেল টঙ্গী ও গাজীপুর সদরের সিটি করপোরেশন এলাকার চিত্র। শুরু হয়ে গেল প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। দুপুরের পর মাইকের শব্দে সচকিত হয়ে উঠল প্রতিটি সড়ক ও অলিগলি। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা বুকে প্রতীকসংবলিত ব্যাজ ঝুলিয়ে বাড়িতে বাড়িতে জনসংযোগ শুরু করেছেন। প্রতীক পেয়ে লিফলেট ছাপতে প্রার্থীর সমর্থকরা ছুটছেন মুদ্রণালয়ে।

এদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নগর পিতা নির্বাচন প্রশ্নে টঙ্গী অপেক্ষাকৃত অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে মেয়র প্রার্থীদের কাছে। এর কারণ, জনবহুল টঙ্গীতে ভোটার সংখ্যার আধিক্য। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, টঙ্গীর ভোটব্যাংক যার দিকে ঝুঁকবে, সেই মেয়র প্রার্থী শেষ হাসি হাসবেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিকতায় বিভক্ত হয়ে পড়েছেন সাধারণ ভোটাররা। দুই পৌরসভা ও ছয় ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনে এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন। নগর পিতা হিসেবে এবার কাকে বেছে নিচ্ছেন নগরবাসী?

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, নাকি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। এরই মধ্যে আঞ্চলিকতা ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসছেন ভোটাররা। সেই আঞ্চলিকতা ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের বাড়ির এলাকা টঙ্গীতে প্রচার শুরু করলেন প্রথম।

একইভাবে হাসান উদ্দিন সরকার প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর জেলা শহরে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তার আনুষ্ঠানিক প্রচার কাজ শুরু করেন।

দুটি পৌরসভার একটি টঙ্গী, অন্যটি গাজীপুর। দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। সাবেক টঙ্গী পৌরসভা ভবনের পেছনেই হাসান সরকারের বাড়ি। টঙ্গী এলাকায় পড়েছে সিটি করপোরেশনের ১৫টি ওয়ার্ড। ওয়ার্ড নম্বর ৪৩ থেকে ৫৭- এ ১৫টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৪ হাজার ২১২, যা মোট ভোটারের ৩৫ শতাংশ। এই ভোট ব্যাংকেই নজর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র প্রার্থীর।

নির্বাচনী বিশ্নেষকরা বলছেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে নানা কারণেই টঙ্গী খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিসিক শিল্প এলাকা হওয়ায় সেখানে প্রচুর সংখ্যক শ্রমিকের বসবাস, যাদের বড় অংশই এ সিটি নির্বাচনের ভোটার। আবার টঙ্গী এলাকায় ছোট-বড় কমবেশি ১৯টি বস্তি রয়েছে। এসব বস্তির বাসিন্দারাও ভোটার। স্থানীয় বাসিন্দারা তো রয়েছেনই। গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট ব্যাংকের দিকে তাই সঙ্গত কারণে মেয়র প্রার্থীদের নজর বেশি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের গাজীপুর মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মালেক মিয়া বলেন, ‘টঙ্গী জনবহুল এলাকা হওয়ায় সঙ্গত কারণে সেখানে ভোটারও বেশি। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় নাগরিক সমস্যাও বেশি। তাই এই ভোটারদের মন জয় যিনি করতে পারবেন, তিনিই আগামী দিনের মেয়র হবেন।’ অন্যদিকে গাজীপুর মহানগরের ৩০নং ওয়ার্ডের কানাইয়া এলাকায় নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীরের পৈতৃক ভিটা হলেও তিনি বসবাস করেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মহানগরের ছয়দানা এলাকায়।

৩৪ নম্বর এই ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির দলীয় প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার। তাদের মধ্যে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি গাজীপুর সদরে এবং মো. হাসান উদ্দিন সরকারের বাড়ি টঙ্গী এলাকায়।

দুই এলাকার বাসিন্দারাই চাইবেন তাদের নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাকে নির্বাচিত করতে। শিল্প কারখানার শ্রমিক, তরুণ প্রজন্ম ও কর্মী-সমর্থকদের কাছে জাহাঙ্গীর আলম বেশ প্রিয় একটি নাম। দানশীল ব্যক্তি হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। অন্যদিকে মো. হাসান উদ্দিন সরকার দীর্ঘদিনের রাজনীতি এবং টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করায় তার পক্ষেও রয়েছে জনসমর্থন। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। প্রার্থীদের যোগ্যতা, অতীত কর্মকাণ্ড, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিসহ বিভিন্ন বিষয় এবার ভোটারদের প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।

বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের সাবেক শ্রমিক নেতা হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। আগে থেকেই শ্রমিকদের স্বার্থ নিয়ে তিনি কাজ করে আসছেন। এ কারণে শ্রমিকদের সমর্থন ও সহানুভূতি তার পক্ষে কাজ করবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নিজেকে সব সময় নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের সেবা করে আসছেন। তাদের বিভিন্ন দাবি আদায় নিয়ে তারও ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া তরুণ ভোটারদের সমর্থনও তার বেশি। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত