প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মির্জাগঞ্জে খাল দখল করে স্থাপনা নির্মান

মোঃ সোহাগ হোসেন,মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চলছে খাল দখলে মহা উৎসব। উপজেলার মালিবাড়ি, নয়াভাঙ্গালী ও বেবাজিয়াখালী খাল সহ অন্যান্য খাল গুলো দখল করে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব খাল গুলো দখল করে বাড়ি-ঘড় সহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

খালগুলো ভরাট করার কারনে বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃস্টি হচ্ছে। স্থানিয় সুত্রে জানা যায়, খাল গুলো শ্রীমন্ত ও পায়রা নদীর সাথে মিলিত হায়েছে। এসব খাল ভরাট করে বসত বাড়ি নির্মানের ফলে খাল গুলো প্রায় বিলীনের পথে।

ভরাটের কারণে অত্র এলাকায় বর্ষা মৌসুমে যেমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় তেমনি শুকনো মৌসুমে শত শত একর কৃষি জমি সেচের অভাবে অনাবাদি থেকে যায়। দখলদারদের কবলে পরে উপজেলার মানচিত্র থেকে দিন দিন খালগুলো অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ অজ্ঞাত কারণে এ ব্যাপারে প্রশাসন বরাবরই নিরবতা পালন করে আসছে। খালগুলো বিভিন্ন অংশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সুবিদখালী আরকে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে মালিবাড়ি খালটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে খালের কোন অস্তিত্ব নেই। যে যার মতো করে ভরাট করে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের দক্ষিণ পূর্বাংশে খালের অধিকাংশ জায়গা ভরাট করে সুবিদখালী হিযবুল্লাহ লাইব্রেরীর মালিক আব্দুস সালাম হাওলাদার, মো. হাবিবুর রহমান, মো. গফ্ফার মিয়া, মো. মাসুম পুলিশ, মো. শহিদ মৃধা পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ করে নির্বিঘ্নে বসবাস করছেন। এ ছাড়াও ওই বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে দেখা যায় খালের জায়গা ভরাট করা হয়ে গেছে।

সেখানে খালের জায়গা জুড়ে রয়েছে মো. হাবিবুর রহমান মাষ্টারের পাকা বসত ঘর ও সিমানা প্রাচীর, মো. হাসেম খান, মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার, মো. মোখলেচ পেশকার, মো.শহীদ পেশকার, নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরু বিডিআরের বসতঘর, মোসা. নিলুফা বেগমের বাগান ও মো. ইউসুফ মৃধার পাকা টয়লেট-সেফটি ট্যাংক। এমন কি ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা ( বর্তমানে পটুয়াখালী ভূমি অফিসে কর্মরত) মো. ফোরকান তহশিলদারও খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।

এর মধ্যে দখলদার আব্দুস সালাম হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার রেকর্ডিও সম্পত্তির মধ্যে কিছুটা খালের অংশ থাকতে পারে। অন্য এক দখলদার মো. ফোরকান তহশিলদার বলেন, খালটি এমনিতেই ভরাট হয়ে গেছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা ভূমি আফিসের সার্ভেয়ার মো. বেলায়েত হোসেন খালটির বেশির ভাগ জায়গা দখল হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কি করার আছে।

এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালটির পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত