প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে স্বাবলম্বী ৩৪ লাখ পরিবার

সাইদ রিপন : স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি সুখি ও উন্নত দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর সেই চিন্ত-ভাবনাই বাস্তবে রুপ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্র বিমোচনে বহুমাখী কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন কর্মোদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। বর্তমানে এ প্রকল্পটির মাধ্যমে ৭১ হাজার ২১৯টি সমিতি গঠন করা হয়েছে। এ সমিতির মাধ্যমে ৩৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৭টি পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। ২০২০ সালে প্রকল্পটির মাধ্যমে ৬০ লাখ পরিবারকে স্বাবলম্বী করা হবে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর একান্ত চাওয়া ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ পর্যন্ত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অর্জিত সফলতার আলোকে আগামী তিন বছরের মধ্যে ভিক্ষুক ও দারিদ্র জনগোষ্ঠীকে এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে। দেশে স্বাধীনতা পর ১৯৭৩ সালে ৮২ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করতো। বর্তমানে দেশের দারিদ্র মানুষের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। দারিদ্র বিমোচনে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকায় প্রধানমন্ত্রীর দেশ পরিচালনার দক্ষতাকে বিশ্বের রোল মডেলও বলছে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আকবর হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্তই নিজস্ব স্বপ্নপ্রসূত একটি মডেল যা দারিদ্রবিমোচনে দারিদ্র মানুষের নিজস্ব স্থায়ী পুঁজি তৈরি করে দেয়। ভবিষ্যতে এ পুঁজি ব্যবহার করে প্রতিটি সদস্য আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। তাছাড়া বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোন দেশে এখন পর্যন্ত এমন দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচি সৃষ্টি হয়নি। তিনি বলেন, সঠিকভাবে পরিচালনা এবং সমিতিভুক্ত সদস্যদের যথাযথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক সময় প্রতিটি সমিতি আর্থিকভাবে এতোটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে যে ঋণের জন্য অন্য কারোর দারস্থ হতে হবে না। এখন পর্যন্ত ৩৪ লাখ পরিবার এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বীর হয়েছে, এবং দেড় কোটির বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর সুফল পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পের অগ্রযাত্রা যাতে কোনভাবেই ব্যহত না হয় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যাতে সহজ শর্তে সকল প্রকার সেবা সবসময় পেতে পারেন সেজন্য প্রধানমন্ত্রী পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক করে দিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত