প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল, যুব উন্নয়ন অফিসে তালা

তপু সরকার হারুন,শেরপুর: শ্রীবরদীতে ন্যাশনাল সার্ভিসের ২য় পর্যায়ে তালিকায় বৈধ প্রার্থীদের নাম না থাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বঞ্চিত প্রার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে ২য় পর্যায়ে তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। তালিকা প্রকাশের পর অনেক বৈধ প্রার্থীর তালিকায় নাম না থাকায় বুধবার দুপুরে বহিরাগত, অযোগ্য ভূয়া সার্টিফিকেট ধারীদের বাতিল করে যোগ্য ও শ্রীবরদী উপজেলা স্থায়ী বেকার যাদের বয়স ২৪-৩৫ এমন প্রার্থীদের ন্যাশনাল সার্ভিসে অন্তর্ভুক্তির দাবী করলে চাপের মুখে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে তালা দিয়ে চলে যায়।

পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে যুব উন্নয়ন অফিসে আসে। এসময় ওই প্রার্থীরা ঘটনাস্থল অবস্থান করে যুব উন্নয়ন অফিসের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

যুব উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট যুব উন্নয়ন অধিদফতর ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় অস্থায়ী কর্মসংস্থানের জন্য শ্রীবরদী উপজেলার বেকার যুবক ও যুব নারীদের নিকট দরখাস্ত আহবান করেন। আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। প্রকাশিত বিক্তপ্তি অনুসারে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীতে অন্তর্ভূক্তির জন্য বেকার প্রার্থীর বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। শেষদিন পর্যন্ত ৫ হাজার ৫শত ৪৬ জন প্রার্থী এ কর্মসূচীতে অন্তর্ভূক্তির জন্য আবেদন জমা দেয়।

দীর্ঘদিন ধরে যাচাই বাছাই শেষে গত ২ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৭ শত ৭০ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় সকল যোগ্যতা থাকা সত্বেও বাদ পড়েছে এ উপজেলার অনেক প্রার্থী। কিন্তু ভূয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে, বয়স উত্তীর্ণ বা বয়স হয়নি ও অন্য উপজেলার অনেক প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। এতে প্রকৃত প্রার্থী ও উপজেলাবাসী ফুঁসে উঠেছে।

পরে ওই দিনই তালিকা থেকে বাদ পরা প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ দেন। এসময় ১ হাজার ৪০ জন প্রার্থী আপিল করেন। ৬ ডিসেম্বর ৬ শত ৭ জন প্রার্থীর নাম তালিকা করে প্রকাশ করা হয়। এতে করেও অনেক বৈধ প্রার্থীর নাম তালিকা থেকে বাদ পরে যায়। এনিয়ে ন্যাশনাল সার্ভিসে আবেদনকারী উপজেলার স্থায়ী যোগ্যতা সম্পন্ন বৈধ প্রার্থীরা তালিকাভুক্তির দাবীতে ও বহিরাগত, অযোগ্য ভূয়া সার্টিফিকেটধারীদের বাতিল করার জন্য যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চাপ প্রয়োগ করেন।

এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ন্যাশনাল সার্ভিসের অনিয়মের খবর প্রকাশ পায়। পরে জেলা প্রশাসক ন্যাশনাল যাবতীয় ফাইল পত্রাদী যাচাই বাছাইয়ের জন্য তার দপ্তরে নিয়ে যান। যাচাই বাছাই শেষে গত জানুয়ারী মাসের ৩য় সপ্তাহে ১ হাজার ২ শত ৪৫ জনের তালিকা প্রকাশ করে মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য। ২২ জানুয়ারী থেকে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে ২২ এপ্রিল শেষ হয়। ২৪ এপ্রিল ২য় পর্যায়ের মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য ১ হাজার ৩ শত ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে এবং আরো ৫ শত জন প্রার্থীর বিভিন্ন সমস্যা থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে।

এই তালিকাতেও শ্রীবরদী উপজেলার অনেক বৈধ প্রার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় বুধবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বৈধ প্রার্থী তাতিহাটি ইউনিয়নের ভটপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে নুরুল ইসলাম, ছনকান্দা গ্রামের কবীর উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম এবং গোশাইপুর ইউনিয়নের গড়গরিয়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে রাশেদ মিয়া জানান, আমরা বৈধ প্রার্থী হিসাবে আবেদন করা স্বত্বেও আমাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে অবৈধ, ভূয়া ও জাল সার্টিফিকেটধারীদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

এব্যাপারে অতিরিক্ত দায়ীত্ব প্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হামিদুর রহমানের সাথে এ প্রতিনিধির মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি আজ শেরপুর সদর অফিসে কর্মরত আছি। জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে আসা ১ হাজার ৩ শত ৩৬ জনের তালিকা আমরা গতকাল ২৪ এপ্রিল প্রকাশ করেছি। এছাড়া, আরো ৫ শতাধিক প্রার্থীর বিভিন্ন সমস্যা থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদেরকে পুনরায় ডাকবেন। অফিসে না থাকায় অন্য মারফতে জানতে পারলাম কিছু অবৈধ প্রার্থী এবং যাদের সমস্যা আছে এমন ২/৩ গ্রুপের প্রার্থীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এসময় অন্যান্য কর্মচারিরা অফিসে তালা দিয়ে ইউএনও অফিসে অবস্থান করে।

বিষয়টি নিয়ে ইউএনও সেঁজুতি ধরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ন্যাশনাল সার্ভিসের নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি যাচাই বাছাই করে গতকাল ভূয়া অবৈধ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে বৈধ প্রার্থীদের ট্রেনিংয়ের জন্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভূয়া অবৈধ প্রার্থীরা মিছিল করেছে। থানা থেকে পুলিশ আসার পর অফিসের তালা খোলা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত