প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কালীগঞ্জে ফাষ্টফুড ব্যবসার নামে চলছে সময় বিক্রি

বিল্লাল হোসেন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর): গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্থানীয় ফাষ্টফুডের দোকানগুলোতে চলছে নানা অসামাজিক কর্মকান্ড। আর এমন অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।

সচেতন মহলের দাবি, নানা বয়সের শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে স্কুল-কলেজের জন্য বের হয়ে ওইসব ফাষ্টফুডের দোকানগুলোর রঙ্গিন পর্দার আড়ালে তাদের অন্ধকার ভবিষ্যৎ তৈরি করছে। আর উঠতি বয়সের ওই সব শিক্ষার্থীদের ওস্কে দিতে স্থানীয় ফাষ্টফুড ব্যবসায়িরা ব্যবসার নামে করছে সময় বিক্রি। তারা প্রতি ঘন্টায় ১ প্লেট চটপটির মূল্য রাখছে সাড়ে ৩’শ টাকা।

সচেতন মহলের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌর এলাকার পুরাতন ব্যাংকের মোড়, নতুন ব্যাংকের মোড়, বাসষ্ট্যান্ড এবং পুরাতন গরুর হাট এলাকায় বেশ কয়েকটি ফাষ্টফুডের দোকান রয়েছে। যেগুলোতে স্কুল-কলেজের নানা বয়সের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করছে। আর সেখানে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা সময় অতিবাহিত করছে। শিক্ষার্থীদের এমন অনৈতিক কর্মকান্ডে ওস্কে দিচ্ছে ফাষ্টফুড ব্যবসায়ীরাও। কারণ শিক্ষার্থীরা যত বেশি সময় অতিবাহিত করছে আর তারা ততবেশি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চটপটি আর ফুস্কার ব্যবসার আড়ালে ব্যবসায়ীরা শিক্ষার্থীদের কাছে সময় বিক্রি করছে।

একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা দিনের পর দিন রঙ্গিন পর্দার আড়ালে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে, অন্যদিকে তাদের এমন কর্মকান্ডে বিভ্রান্ত হচ্ছে সচেতন মহল।

সরেজমিনেও মিলেছে সচেতন মহলের অভিযোগের সত্যতা। কালীগঞ্জ পুরাতন গরুর হাট এলাকায় সরেজমিনে দুইটি ফাষ্টফুডের দোকান দেখা গেছে, দোকানের সামনে চটপটি ও ফুস্কার আয়োজন। আর পেছনে নানা রঙ্গের পর্দা দিয়ে আটকানো কয়েকটি কক্ষ। সেখানেই প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে স্কুল-কলেজের নানা বয়সি ছাত্র-ছাত্রীরা ভীড় করছে। শুরুতে ফুসকা-চটপটি খেলেও ঘন্টা পর ঘন্টা চলে সময় অতিবাহিত। আর স্কুল-কলেজ ছুটি হওয়ার সাথে সাথে তারা বেরিয়ে যায়। এখানে শুধু যে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী তা নয়। দূর-দূরান্ত থেকেও আসছে নানা বয়সি মানুষ। সময় শেষ হলেই বিভিন্ন হারে ঘন্টা প্রতি রাখছে টাকা।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালায় কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সোহাগ হোসেন। অভিযানের খবর টের পেয়ে দুইটি দোকানের মালিক কর্মচারি রেখে পালিয়ে যায়। এ সময় দোকানের কর্মচারিসহ ৬ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ২ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ। এরা হলো- উপজেলার নাগরী গ্রামের গোপাল সাহার ছেলে লিমন সাহা (২৫), ফিরিন্দা গ্রামের মো. জামান করিমের ছেলে রুবেল মিয়া (৩০), অলুয়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে তারেক (৩০), ভাইয়াসূতি গ্রামের কানাই চন্দ্র দাসের মেয়ে প্রিয়সী চন্দ্র দাস (১৮), দক্ষিণ পানজোরা গ্রামের হরি দাসের মেয়ে মিতু রাণী দাস (১৯) ও দোকান কর্মচারি আসিফ মিয়া (১৯)।

এ সময় মাহবুব ইসলাম মালিকানাধীন মাহবুবা জান্নাত ষ্টোর এবং মো. মামুন মিয়া মালিকানাধীন নাম বিহীন দোকানে তালা ঝুলিয়ে দোকানের মালামাল জনসমুখ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে আটককৃদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন হারে জেল-জরিমানা করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত