প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৌদি বাদশাহ পিছিয়ে গেলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট গেলেন এগিয়ে

রাশিদ রিয়াজ : পর্যটনকে উৎসাহিত করতে সৌদি আরবে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের ‘এন্টারটেইনমেন্ট সিটি’র নির্মাণ কাজ বুধবার বাদশাহ সালমানের উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তার দেশে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর তাবরিজ ইসলামি পর্যটনের রাজধানী নির্বাচিত হওয়ায় ‘তাবরিজ ২০১৮’ নামের একটি ইভেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। পশ্চিমা ধংয়ের সংস্কৃতির অনুসরণে বাদশাহ যখন থিম পার্ক, মটর স্পোর্টস ও সাফারি পার্ক গড়তে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে অগ্রসর হতে চাইছেন তখন নিজেদের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে  প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আন্তর্জাতিক এই ইভেন্টের উদ্বোধন করেন ।

আজারবাইজান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, ইরাক, আর্মেনিয়া, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তান, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে,তুর্কমেনিস্তান, বুলগেরিয়া, তাজিকিস্তান ও বেলারুশের পর্যটনমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতদের আমন্ত্রণ জানায় ইরান।উদ্বোধনের আগে ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনাকে এই তথ্য জানান পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসের প্রধান ইসমাইল রাগহেব। তিনি আরও জানান, তাবরিজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ইস্তান্বুল, কাজান ও বাকু শহরের মেয়রেরাও এই ইভেন্টে অংশ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া কিছু মন্ত্রীও ‘তাবরিজ-২০১৮’ ইভেন্টে যোগ দিয়েছেন।

ওদিকে অর্থনীতিকে তেল নির্ভর থেকে মুক্ত করে অন্যান্য খাত নির্ভর করে তোলার জন্যে সৌদি আরব রিয়াদের দক্ষিণ পশ্চিমে কিদিয়ায় ১২৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এন্টারটেইনমেন্ট সিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২২ সালে।কিদিয়ায় ১২৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এধরনের এন্টারটেইনমেন্ট সিটি গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্প প্রধানও পশ্চিমা। উবার থেকে শুরু করে হলিউড সব পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানই সৌদি বিনিয়োগের মাখন ও সংস্কারের পনির খেয়ে ফেলবে এটা এক প্রকার নিশ্চিত। কারণ উৎপাদনশীল অর্থনীতি কিংবা উদ্যোক্তার বিকাশ সৌদি আরবে নেই, যা আছে তা হচ্ছে পশ্চিমা ভাগ্য নিয়ন্তাকের হাতে সব তুলে দিয়ে বিলাস ব্যসনে গা ভাসিয়ে দেয়ার এক হাবিবি সংস্কৃতি।

ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের জেনারেল এনটারটেইনমেন্ট অথোরিটি ঘোষণা করে জানায় এ বছর দেশটিতে ৫ হাজার ফেস্টিভাল ও কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। আসছে দশকে এ খাতে সৌদি আরব অন্তত ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু বিনোদন, সিনেমা যা কিছুই হচ্ছে তা পশ্চিমা ধ্যান ধারণাকে পুঁজি করে। নিজস্ব সংস্কৃতির কোনো জানান নেই সেখানে। উদ্যোগও নেই। ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের ফারাক এখানেই। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের এত অস্ত্র কিনে সৌদি আরব কার সঙ্গে যুদ্ধ করবে নাকি ইয়েমেনের মত আরব দেশগুলোকে আগ্রাসন আরো বৃদ্ধি করবে তা বলা মুস্কিল।

তাবরিজ ইরানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। দেশটির ইতিহাস ও অর্থনীতিতে বিশেষ স্থান রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই শহরটির। ২০১৬ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীদের নবম সম্মেলনে তাবরিজকে ২০১৮ সালের ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৭ সালে সৌদি আরবের পবিত্র শহর মদিনা ও ২০১৬ সালে তুরস্কের কোনিয়া শহর ইসলামি পর্যটনের রাজধানী হিসেবে মনোনীত হয়। মদিনাকে ঘিরে ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশে তেমন কিছু করছে না সৌদি আরব। সংস্কারের নামে যা হচ্ছে তা পশ্চিমা অপসংস্কৃতির সংস্করণ মাত্র।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত