প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতীয় সেনাদের মানসিকতার জন্য সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : ভারতীয় সেনাদের মানসিকতা আর অপরাধীদের ক্ষিপ্রতার কারণে সীমান্ত হত্যা একেবারে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের মহাপরিদর্শক শ্রী আনজানেইয়ুলু।

প্রায় ৪১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত। দুই দেশের এই সীমান্তে সমস্যা বলতে চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র-বিস্ফোরক পরিবহন এবং মানব পাচার। তবে বাংলাদেশের চিন্তার মূল কারণ হলো সীমান্ত হত্যা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিএসএফ’র হাতে মারা গেছে ৭৬৭ জন বাংলাদেশি।

শ্রী আনজানেইয়ুলু আরও বলেন, হত্যাকা- কমাতে বাহিনীর সদস্যদের মানসিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমাদের সেনাদের সবার মানসিকতা খারাপ না। তবে সমস্যা হলো এরা মাঝে মাঝে দ্বৈত মানসিকতায় পড়ে। যেমন, পাকিস্তান এলাকায় এরা দায়িত্বে থেকে কাউকে হত্যা করলে এদের পদক দেয়া হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ সীমান্তে বন্ধুর মতো থাকতে হয়। তাদেরকে যতোই বলা হয়, গুলি করো না, তখন দ্বিধায় পড়ে তারা। তবে এসব সমস্যা নিরসনে মানসিক দিক দিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে জওয়ানদের।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হত্যার মতো সমস্যা নিরসনে মারণাস্ত্র বাদ দিয়ে দায়িত্ব পালনে কর্মসূচি বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে, অপরাধ বা হত্যার সংখ্যাও থাকবে না।

আনজানেইয়ুলু বলেন, একবারেই সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধ হবে, তা বলা মুশকিল। তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য, যেকোনো মুল্যে সীমান্ত হত্যা শুন্যের কোঠায় আনা। আর তাই টহল বা দায়িত্ব পালনে নন-লিথাল কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। চলতি বছরে ফ্রন্টিয়ারের আওতায় কোনো হত্যার ঘটনা ঘটেনি। যেখানে গতবছর ৩টি আর তার আগের বছর ৯টি হত্যা ঘটনা ঘটে।

যশোর-বনগা সীমান্তের ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার এলাকা অপরাধমুক্ত ঘোষণার পর থেকে সেখানে কোনো অপরাধ সংগঠিত হয়নি বলে দাবি করেছে বিএসএফ। দক্ষিণ বাংলা এলাকার আইজির আশা, অপরাধমুক্ত এলাকার পরিমাণ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, দুই বাহিনীর পাইলট প্রকল্প সফল হলে, আরও ৩/৪টি এলাকা অপরাধমুক্ত হবে। আর সীমান্ত শতভাগ অপরাধমুক্ত হবে এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। কারণ বাহিনীগুলো যতো কৌশলী হয়, অপরাধীরাও চালাকি করে।

উল্লেখ্য বিএসএফ’র দক্ষিণ বাংলা ফ্রন্টিয়ারের ৫টি সেক্টর। এরমধ্যে মালদা ও বেহরামপুর অপরাধপ্রবণ এবং এসব এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনাও বেশি। সূত্র : যমুনা টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত