প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দিন মজুরের মামলা

এম.ইউছুপ রেজা, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দাদন ব্যবসার টাকা উদ্ধার করতে দিন মজুরের বসতঘর ভাংচুর, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দিনমজুরের ভাই কৃষক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এ মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী।

গত শনিবার সকাল ১১টায় বোয়ালখালীর পোপাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পোপাদিয়া গ্রামের করিম উল্লাহ’র বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মামলায় চেয়ারম্যান জসিমকে প্রধান করে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এসএম জসিম ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত উপজেলার পোপাদিয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান । তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

বাদীর আইনজীবী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মাহমুদুল হাসানে আদালতে কৃষক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় এক দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০১৩ সালে কৃষক সাইফুল ইসলাম চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা ঋণ নেয়। কিন্তু অভাব অনটনের কারণে সময় মত টাকাগুলো পরিশোধ করতে না পারায় ২০ হাজার টাকা সুদে আসলে বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা হয়ে যায়। গত বছর ওই টাকা থেকে ৩৮ হাজার টাকা ওই ব্যবসায়িকে পরিশোধ করা হয়। বাকী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দাদন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মোজাফ্ফর ১৮সালের ১১ ফেব্রুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে পাওনা টাকা দাবী করে চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ দেন। চেয়ারম্যান দাদন ব্যবসায়ীর বাকী টাকা দিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু পাওনা বাবদ আর কোন টাকা দিতে পারবেন না জানালে গত ২১ এপ্রিল শনিবার সকালে চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে এসে কৃষক সাইফুলের ভাই দিনমজুর নাজিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন বসতঘর ভেঙে দেয় এবং তাঁদের দুই ভাইকে মারধর করে আহত করেন।

এ সময় তাঁর মা আছিয়া বেগম (৬৫) এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করে গুরতর আহত করেন। ওইদিন তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চেয়ারম্যানের লোকজন বসতঘর নির্মাণের জন্য আনা সিমেন্ট, লোহার রড ভ্যান গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

দাদন ব্যবসায়ীর টাকা উদ্ধারের বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গার উপর গৃহ নির্মাণ করায় তিনি সরকারি জায়গা উদ্ধার করেছেন।

মামলার বাদী কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমোদন দেয়া ঘর নির্মাণের নকশা অনুযায়ী আরো তিন ফুট জায়গা বাদ দিয়ে তিন মাস আগে থেকে তাঁরা বসতঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা ভাইরা কেউ কৃষি, কেউ দিনমজুরের কাজ করে কোন রকমে চলেন। এলাকার বিভিন্ন বিত্তবানদের কাছ থেকে সাহায্যে সহযোগীতা নিয়ে তাঁর ভাই নাজিম উদ্দিন সেমিপাকা ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করলে চেয়ারম্যান বাধা সৃষ্টি করে হামলা ও ভাংচুর করেন।

ঘটনার দিন পাওনা টাকা না দিয়ে কাজ করতে পারবেনা বলে চেয়ারম্যান জানিয়ে দিয়ে বসতঘরের পিলার, ঢালাইয়ের বেইস, খন্তা ও শাবল দিয়ে উপড়ে ফেলেন। এ সময় ২’শ কেজি লোহা ও পাঁচ ব্যাগ সিমেন্ট নিয়ে যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ