প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কলার চাপা স্বাধীনতা

প্রভাষ আমিন : গণতন্ত্র নির্বাসিত অনেক আগেই। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে; তারপরও দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপির সভা-সমাবেশ করার অনুমতি নেই। বিক্ষোভ করার অধিকার নেই। যেখানেই বিএনপি, সেখানেই পুলিশ। একটি গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ করার অধিকার, বিক্ষোভ করার অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু সে অধিকার ভূলণ্ঠিত অনেক আগেই।

এখন মনে হচ্ছে, বিএনপির বিরুদ্ধে পুলিশের অন্যায্য অ্যাকশন কাভার করাও নিষিদ্ধ। নইলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা কোন অধিকারে, কোন সাহসে কর্মরত একজন সাংবাদিকের কলার ধরে? না চেনার কোনো কারণ নেই। কারণ তার হাতে বড় একটি ক্যামেরা ছিল। পুলিশ বাংলা টিভি চেনে না, সেটা তার ব্যর্থতা। পুলিশ তো আর টিভির রেটিং ঠিক করবে না। বাংলা টিভির উদ্বোধন করেছেন তথ্যমন্ত্রী। উদ্বোধনের সময় শুভকামনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। তারপরও পুলিশ কর্মকর্তা ভুয়া টিভি বলে বাংলা টিভির ক্যামেরা জার্নালিস্টের ওপর চড়াও হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন রিপোর্টারও। ক্যামেরা হাতে ফটো জার্নালিস্ট আর বুম হাতে রিপোর্টারকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান ধরাকে সরা মনে করা এই কর্মকর্তা।

রাজপথে পুলিশের সঙ্গে সাংবাদিকদের ঝামেলা নতুন নয়। সাধারণত উগ্র মেজাজের কনস্টেবল কিছু করলে কর্মকর্তারা মিটমাট করে দেন। কিন্তু এখানে কর্মকর্তারই মাথা গরম। মতিঝিলের ডিসি আনোয়ার হোসেনের বিচার কে করবে? পালকি চড়া আইজি না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? পুলিশের ধারণা তারাই এ সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে, তারাই টিকিয়ে রেখেছে। তাই তারা সব আইন-কানুনের উর্ধ্বে, পুলিশই তো আইন। আমি জানি, খুব বেশি হইচই হলে মহাপরাক্রমশালী আনোয়ার হোসেনকে ক্লোজ করা হবে। এই শাস্তিটা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লাগে। আমারও মাঝে মধ্যে ক্লোজ হতে মন চায়। ক্লোজ মানে পুলিশের রিক্রিয়েশন লিভ। কয়েকদিন আরাম করো। যে কদিন সাংবাদিকেরা হইচই করবে, সে কদিন একটু আড়ালে থাকো। তারপর আবার আরও ভালো কোনো পোস্টিং নিয়ে আবার আইন-কানুন দলে মুচড়ে চড়াও হওয়া। তবে ক্যামেরা হাতে কর্মরত একজন সাংবাদিকের কলার চেপে ধরে আছেন একজন পুলিশ, এটাই এখন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার চিত্র।

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত