প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেয়র পদে দু’দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতীক পাওয়ার পরপরই পুরোদমে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা আনুষ্ঠানিক প্রচারের প্রথম দিনই (মঙ্গলবার) শুরু করেছেন সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়া। দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রার্থীরা দোয়া নিচ্ছেন ভোটারদের। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ১৫ মে এ দুই সিটি কর্পোরেশনে ভোট। নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে। তবে অধিকাংশ ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় জটিল হয়ে পড়েছে কাউন্সিলর পদে ভোটের হিসাব-নিকাশ। মঙ্গলবার গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মাধ্যমে দুই সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়। সূত্র: যুগান্তর

এদিন সকালে গাজীপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাতজন মেয়র প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম নৌকা আর বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। প্রায় একই সময়ে খুলনায় নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে নৌকা এবং বিএনপি মনোনীত নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এ ছাড়া খুলনায় জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছেন এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদের ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৩৮ জনকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

গাজীপুর থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের গণসংযোগ শুরু করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। এরপর দিনভর তিনি নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যান এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করেন। প্রচার-প্রচারণাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ১৪ দলীয় জোটের ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রিটার্নিং অফিসারের অস্থায়ী কার্যালয়ে যান জাহাঙ্গীর আলম। দলীয় প্রতীক নৌকা বরাদ্দ পেয়ে ছুটে যান ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার মিয়ার বাসায়। চান্দনা চৌরাস্তার এ বাসায় আবদুস সাত্তারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন জাহাঙ্গীর। এরপর আবদুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশে আমরা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের জন্য গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীই জাতীয় পার্টির প্রার্থী। তাকে জিতিয়ে আনতে যা যা করা দরকার, সবই করব আমরা।

এ সময় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মঙ্গলবার থেকে গাজীপুরের ৫৭টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ, ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টিসহ মহাজোটের প্রার্থী আমি। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শুরু করলাম। তিনি বলেন, নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, মুক্তির প্রতীক। নৌকা মার্কায় গাজীপুরের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। আপনারা আমার সাথে থাকবেন, পাশে থাকবেন।

গণসংযোগে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হক, গাজীপুর সোসাইটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাবু, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোকসেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইলিয়াস আহমেদ, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী প্রমুখ।

দিনব্যাপী জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটির বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তপাড়া, হাউস বিল্ডিং এলাকা, বনমালা রেলগেটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রচার চালান। বিকালে একই ওয়ার্ডের হাজী মার্কেট এলাকায় আবুল বাসার শেখের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকায় গণসংযোগ করেন জাহাঙ্গীর আলম। এরপর সন্ধ্যায় ৪৯ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মিছিলসহকারে গণসংযোগ করেন নৌকা প্রতীকের জাহাঙ্গীর আলম।

গাজীপুর প্রতিনিধি সামসুল হক রিপন জানান, মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের অল্পসংখ্যক নেতা ছাড়া দলের জেলা ও মহানগর শাখার শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, অ্যাডভোকেট ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, মো. মতিউর রহমান মতি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে নানা মহলে দিনব্যাপী গুঞ্জন ছিল, এটা কি স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তির সুর? অনেকেই একে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ জানান, তিনি নির্বাচনসংক্রান্ত অন্য কাজে ছিলেন। তাই তিনি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে উপস্থিত থাকতে পারেননি। মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রিপন সরকার জানান, তাকেও প্রতীক বরাদ্দের সময় উপস্থিত থাকতে বলা হয়নি। তবে তিনি জানান, আমাকে না বলা হলেও নির্বাচনী প্রচারণায় আমার অংশগ্রহণ আছে। দলের মহানগর কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াজ উদ্দিন মিয়াকেও জাহাঙ্গীর বা তার লোকজন উপস্থিত থাকার ব্যাপারে কোনো কিছু জানাননি। তিনিও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে বঞ্চিত হয়েছেন।

গাজীপুর থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার ধানের শীষের প্রতীক পেয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার লিফলেট বিতরণ করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ বুধবার থেকে তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালাবেন। সকালে বোর্ড বাজারের বিলুপ্ত বৃহত্তর গাছা ইউনিয়ন থেকে প্রচারণা শুরু করবেন বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন হাসান উদ্দিন সরকার। এদিকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে ৫৭টি টিম করেছে বিএনপি।

সকাল ১০টায় বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের নিয়ে গাজীপুর সদরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে অস্থায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে (হল রুম) যান। তিনি সাদা রঙের পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে নীল রঙের একটি গাড়ি নিয়ে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে প্রবেশের সময় দলীয় নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
মঙ্গলবার ১১টার দিকে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডলের কাছ থেকে ধানের শীষ প্রতীক গ্রহণ করেন হাসান সরকার। প্রতীক পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ধানের শীষ উঠিয়ে জয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখান হাসান সরকার।

এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের করতালিতে অডিটোরিয়াম মুখরিত হয়ে ওঠে। দলীয় প্রতীক পেয়ে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামের বাইরে এলে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী তাকে ঘিরে ধরেন। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিলসহকারে তিনি সোজা চলে যান রাজবাড়ী সড়কের বিএনপি কার্যালয়ে। পথে পথে লিফলেট বিতরণ করেন নেতারা। দলীয় কার্যালয়ে নগর ও জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেঠক করেন হাসান উদ্দিন সরকার।

বৈঠকে জেলার সভাপতি ফজলুল হক মিলন দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ভোটারদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাইতে হবে। বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। পরে হাসান সরকার তার টঙ্গীর আউচপাড়ার বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে দুপুরের খাবারের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণার বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন।

খেলাফত মজলিসের সঙ্গে মতবিনিময় : মঙ্গলবার বাদ ফজর হাসান উদ্দিন সরকারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের নেতারা। এ সময় হাসান সরকার বলেন, ‘১৯৭১ সালে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করে কামিয়াব হয়েছিলাম। ৪৮ বছর পর আবারও লড়াই করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থাকবেন। সততার মাপকাঠিতে পিছপা হবেন না।’ খেলাফত মসলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মুজিবুর রহমান ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মেয়র মান্নানের বার্তা : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বিএনপি নেতাকর্মীদের হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মেয়রের স্বজন সুমন পালোয়ান যুগান্তরকে জানান, রোববার গাজীপুরের শালনার গ্রামের বাড়ি যান আব্দুল মান্নান। এ সময় নিজ এলাকার দলীয় নেতাকর্মীরা দেখা করতে এসে নির্বাচনে কি করবেন সে ব্যাপারে তার পরামর্শ চান। মেয়র মান্নান নেতাকর্মীদের বলেন, গত সিটি নির্বাচনে মেয়র হিসেবে তার এলাকা থেকে তিনি যে ভোট পেয়েছেন তার চেয়েও হাসান সরকার যেন ভোট বেশি পান। এজন্য আন্তরিকভাবে কাজ করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশও দেন বর্তমান মেয়র আব্দুল মান্নান।

খুলনা ব্যুরোর আহমদ মুসা রঞ্জু ও নূর ইসলাম রকি জানান, খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। নির্বাচনী ওয়েবসাইট উদ্বোধনের মধ্য দিয়েই তিনি তার প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ নেন। ‘নৌকার জয় বাংলার জয়’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক তার নির্বাচনী ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন। খুলনা প্রেসক্লাবে এ ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন।

তিনি মহানগরীর পিকচার প্যালেস মোড় থেকে নৌকা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ ও নগরবাসীর সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় শুরু করেন। পরে মহানগরীর দলীয় কার্যালয় ও খুলনা প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর ইউনাইটেড ক্লাবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দলীয় ফোরামের নির্বাচনী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পর কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারনায় নামেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়, বড় বাজার এলাকা, ডাকবাংলোর মোড়, শেখপাড়া, ময়লাপোঁতাসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ অব্যহত রাখেন।

এদিকে নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়ন করতে নগরবাসীর দোয়া সমর্থন ও ভোট প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সমর্থিত নজরুল ইসলাম মঞ্জু আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০ টার দিকে বয়রাস্থ আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে তাকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০ টায় কে ডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ে আসেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এখানে আসন্ন নির্বাচনে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। দোয়া শেষে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী নিয়ে নগরীর প্রাণকেন্দ্র স্যার ইকবাল রোডে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। এ সময় পথচারী, যানবাহনের যাত্রী, অফিস আদালত, ব্যাংক-বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরতদের হাতে ধানের শীষের লিফলেট তুলে দেয়া হয়। কর্মীরা হ্যান্ড মাইকে তাদের ভাষায় আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে তরান্বিত করতে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯ টায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাদের নিয়ে টুটুপাড়া কবরস্থানে যান। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত তার পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত