প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মিয়ানমারের জাতিসংঘ সদস্য পদ স্থগিত ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি জরুরি’

আশিক রহমান : রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন ও প্রত্যাবাসন বিলম্বে গড়িমসির শাস্তিসরূপ মিয়ানমারের জাতিসংঘের সদস্য পদ স্থগিত ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ জরুরি বলে মনে করেন আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। এই নিষেধাজ্ঞা জারি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক শক্তিধর রাষ্ট্রসমূহ বাস্তবায়ন করতে পারে। আমাদের অর্থনীতিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সামরিক পদক্ষেপে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নেই। যুদ্ধ কিংবা সরাসরি আক্রমণের মাধ্যমেও নয়, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে বহিঃষ্কার করা, এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে মিয়ানমারের বিরদ্ধে। যদিও এসব নতুন কোনো পদক্ষেপ নয়, অনেক জায়গা এ ধরনের অ্যাকশন গ্রহণ করতে দেখেছি আমরা। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থেই যদি মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হয় তাহলে জাতিসংঘের সদস্য পদ স্থগিত, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সদস্য পদ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা খুবই জরুরি। মিয়ানমার যে কাজটি করছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য তাদের একটা শাস্তি পেতে হবে এবং এটা নিশ্চিত করতে হবে।

ড. দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে যে ধরনের শাস্তি বা চাপ মিয়ানমারের উপর আরোপ করার প্রত্যাশা আমরা করেছিলাম তা দেখা যাচ্ছে না। ইউরোপে যখন বসনিয়া ও কসোভো সংকট দেখা গেছে পশ্চিমা বিশ্ব তখন জাতিসংঘের বাইরে গিয়ে বোম্বিং ও সামরিক হস্তক্ষেপ করে গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকটে আমরা দেখছি যে, একদিকে চীন-রাশিয়া সরাসরি মিয়ানমারকে সমর্থন করছে। এবং হুমকি দিচ্ছে যে, নিরাপত্তা পরিষদে তারা ভোটো দেবে। আর যেসব রাষ্ট্র মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও কিছুটা হলেও রোহিঙ্গাদের পক্ষে ইতিবাচক কথা বলে তারাও কিন্তু মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে ধরনের নিষেধাজ্ঞা দরকার, সামরিক ব্যবস্থা কিংবা এমন কিছু পদক্ষেপ দরকার ছিল যাতে মিয়ানমার সরকারের উপর সত্যিকারে চাপ সৃষ্টি হবে। কূটনৈতিক কথাবার্তা, বক্তৃতা, বিবৃতি, সমালাচেনা মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে এই আন্তজাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই করছে না। তারা মুখে একধরনের কথা বলছে, কাজে তার বিপরীত। তাদের এ অবস্থানের মানেই হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে ফেলে দেওয়া। মিয়ানমার নির্লজ্জ্বভাবে নৃশংসতা করেছে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে, তারা গণহত্যা করেছে, যা আন্তর্জাতিক বিশ্ব কর্তৃক এখন স্বীকৃত। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দীর্ঘসূত্রিতা বা অবাস্তব করে তোলার চেষ্টা করছে। অতীতেও যেমন তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার কথা বলে নেয়নি, নিতে চায়নি, কেবলই কালক্ষেপন করেছে, এখনো সেরকম কিছু করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করে বাংলাদেশ ভুল করেছে বলা যাবে না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ একটা ঝুঁকি নিয়েছে মানবতার বিষয়টি বিবেচনা করে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য রোহিঙ্গারা একটা বিরাট চাপ, কিন্তু মানবিক আবেদনে বাংলাদেশকে সাড়া দিতে হয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে। এটা আমাদের কূটনৈতিক ও গ্লোবাল ইমেজের দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ