প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণ কাজ করে কর্মজীবী নারী

একজন কর্মজীবী নারী পুরুষের দ্বিগুণ কাজ করে। তবে কর্মজীবী নারীর গৃহস্থালি কর্মকাণ্ডের আর্থিক মূল্যায়ন করা হয় না বিধায় এর গুরুত্ব দৃশ্যমান হয় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএস পরিচালিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপে কর্মজীবী নারীর ঘরের কাজকে ‘ডাবল বারডেন’ (দ্বিগুণ বোঝা) বলা হয়েছে।

জরিপে দেখা যায়, পুরুষ ও নারী উভয়েই কর্মজীবী এমন পারিবারিক পরিবেশে শতকরা ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই রান্নার কাজ নারী করেন। আর কর্মজীবী পুরুষেরা রান্না করেন মাত্র আড়াই শতাংশ। কর্মজীবী ১০০ জন নারীর মধ্যে ৮৯ জনই কাপড় ধোয়ার কাজ নিজেরা করে থাকেন আর পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১২ শতাংশ। অন্য পুরুষদের কাপড় ধোয়ার এই কাজ করেন গৃহকর্মী (বেশিরভাগ নারী), পরিবারের অন্য নারী সদ্যস্য অথবা লন্ড্রি। কর্মজীবী নারীদের ৮৮ শতাংশ ঘর পরিষ্কারসহ বাসার বিভিন্ন জিনিস পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নেন। আর এই দায়িত্ব পালন করেন মাত্র ৭ শতাংশ পুরুষরা। ঘরের কেনাকাটার ক্ষেত্রে অবশ্য কর্মজীবী পুরুষ এগিয়ে আছেন। কর্মজীবী পুরুষদের ৭৭ শতাংশই ঘরের কেনাকাটার কাজ করে থাকেন।

অন্যদিকে ২৬ শতাংশ কর্মজীবী নারী চাকরির পাশাপাশি সংসারের জন্য কেনাকাটার দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। ৫৩ শতাংশ কর্মজীবী নারী নিয়মিত পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ সদস্যদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন। বিপরীতে ২১ শতাংশ কর্মজীবী পুরুষ এ দায়িত্ব পালন করেন। এসব নির্দিষ্ট কাজের বাইরেও সংসারের অন্যান্য কাজগুলোতে কর্মজীবী নারীর অংশগ্রহণ কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় বেশি। এই জরিপ অনুযায়ী কর্মজীবী নারীরা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে কিন্তু ঘরের কাজ বাদ দিয়ে নয়। অর্থাত্ একই সঙ্গে তারা ঘরের কাজও করছে। নারী -পুরুষ উভয়ের ক্ষমতায়ন চাই। এর বড় কারণ নিজের আয় এবং আয়ের ওপর ক্ষমতা। ‘পেইড ওয়ার্ক’এর মাধ্যমে ক্ষমতায়ন হচ্ছে। নারীরা বাইরেও কাজ করছে আবার সংসারের কাজও করছে। অনেক পরিবার আছে নারীকে শর্তই দেয় সংসার ঠিক রেখে চাকরি করতে হবে। নারী তা মেনেও নেয়। কারণ মনে করা হয়, ঘরের কাজ নারীর কাজ। কিন্তু আমি মনে করি শুধু সন্তান জন্ম দেওয়া ছাড়া নারীর আলাদা কোনো কাজ হতে পারে না। এই গবেষক মনে করেন, নারীর শ্রমবাজারে আসা মানেই ঘর ঠিক রেখে আসা- এটা যেন না হয়।

জরিপের অপর অংশে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমবাজারের পুরুষের তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। জরিপ মতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের শ্রমশক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নারীর সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। এর আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯১ লাখ। অর্থাত্ এক অর্থবছরে কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বেড়েছে নয় লাখ। অন্যদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের শ্রমশক্তির মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৫ লাখ। আগের অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩১ লাখ। অর্থাত্ এক বছরে শ্রমশক্তিতে পুরুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে মাত্র চার লাখ।

এ প্রসঙ্গে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, শ্রমবাজার নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি আমাদের জন্য ইতিবাচক খবর। তাই একে ধরে রাখতে বা নারীকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে ঘরের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার। নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যখন শ্রমবাজারে আনা হয়, তখন তার আয় সংসারে ব্যয় হলে পুরুষও উত্সাহিত হয় ঘরের কাজ করতে।

নারী দিবস উপলক্ষে আইএলও প্রকাশিত এক প্রতিবেদন দেখা যায়, ২০১৮ সালে বিশ্বজুড়ে ৪২ শতাংশ নারী এবং ২০ শতাংশ পুরুষ পারিবারে কাজ করবে। ২০২১ সাল নাগাদ এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না। যার ফলে উন্নয়নশীল দেশে নারী অধিক পরিমাণে অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত থাকবে। এই তথ্য পূর্বের গবেষণার মতো লিঙ্গ বৈষম্য বাড়িয়ে দেওয়াই নিদের্শ করে। যা নারীর সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষীণ করে। সূত্র : ইত্তেফাক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত