প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বান্দরবানে আতঙ্ক

বান্দরবান সদর উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে থোয়াইংগ্যপাড়া গ্রামটিতে শতাধিক মারমা পরিবারের বসবাস। পড়াশোনা করা দুই-একজন ছাড়া তাদের প্রায় কেউই বাংলা ভাষা জানেন না। নিজস্ব ভাষায় তারা কথা বলেন। তবে থোয়াইংগ্যপাড়া গ্রামটির নৈসর্গিক সৌন্দর্য দু’চোখ আচ্ছন্ন করে রাখে। দু’পাশে সুউচ্চ পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে থোয়াইংগ্যপাড়া গ্রামটি যেন নদীর মতো বয়ে চলছে। এই গ্রামটিই বান্দরবান জেলার অন্যতম ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা। চলতি মাসেও এই গ্রামের চারজন ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। অবশ্য চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিক্যাবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের (সিডিসি) ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় বান্দরবান জেলার সর্বত্র সচেতনতা কার্যক্রম চলছে। সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মী গরাউ মারমা থোয়াইংগ্য এখানে উঠান বৈঠকে বসেছিলেন। সমবেত মারমা অধিবাসীরা তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। গরাউ মারমা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিতরণ করা দীর্ঘস্থায়ী কীটনাশকযুক্ত মশারি ব্যবহার করতে সবাইকে সচেতন করেন। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করে ম্যালেরিয়া কি-না তা নিশ্চিত হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, বান্দরবানের প্রতিটি গ্রামে তার মতো স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেলেই তারা সেখানে গিয়ে আক্রান্তের রক্ত পরীক্ষা করেন। ম্যালেরিয়ার জীবাণু পাওয়া গেলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন উদ্যোগের কারণে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো থোয়াইংগ্যপাড়া গ্রামে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি আগের তুলনায় কিছুটা কম। তবে সারাদেশের মধ্যে বান্দরবান জেলা এখনও শীর্ষে, ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ৬০ শতাংশই এখানকার বাসিন্দা। গত বছর এ জেলায় ১৭ হাজার ৪৯২ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বান্দরবান জেলার মানুষের কাছে ম্যালেরিয়া এখনও আতঙ্কের নাম।

ম্যালেরিয়া দিবসকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত সপ্তাহে বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মিলনায়তনে এক অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করে। ঢাকা থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডেপুটি ম্যানেজার ডা. এম এম আকতারুজ্জামান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে জানানো হয়, দেশের ১৩ জেলার প্রায় এক কোটি ৭৫ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে রয়েছেন। এখনও প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করা প্রায় ৯৮ শতাংশ মানুষই এই ১৩ জেলার। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সর্বাধিক। উচ্চ ম্যালেরিয়াপ্রবণ এই তিন জেলায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার জনগোষ্ঠী উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

চ্যালেঞ্জের মুখে নির্মূল কর্মসূচি :২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও ম্যালেরিয়া বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এস এ ফয়েজ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়াপ্রবণ ১৩ জেলায় সংক্রমণের হার হ্রাস করার পাশাপাশি ৫১ জেলাকে ম্যালেরিয়ামুক্ত নিশ্চিত করা হবে। এ কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে ২০৩০ সালে নির্ধারণ করা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে না।

কর্মসূচি :আজ বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে দিবসের মূল অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রাসহ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত