প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যশোরে ছিনতাই হওয়া পিকআপ উদ্ধারের ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা

জাহিদুল কবীর মিল্টন, যশোর: যশোর ঝিনাইদহ সড়কের শানতলা থেকে ছিনতাই হওয়া ডিমের পিকআপ পুলিশ উদ্ধার করেছে। এসময় আটক হয়েছে দুই ছিনতাইকারি। আটককৃতদের একজনের নাম ইউসুপ। অপর জনের নাম পুলিশ বলতে পারেনি। ছিনতাইকারিদের মূল হোতা হাফেজকেও পুলিশ আটক করতে পারেনি। হাফেজের বাড়ি শহরের কারবাল পুকুর পাড়ের পশ্চিম-দক্ষিন পাড়ে। পিতার নাম মৃত আলা উদ্দিন আলা। এদিকে পুলিশ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছিনতাইকারিদের বাঁচাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

শহরের ঘোপ জেলরোডের ডিম ব্যবসায়ি ভাই ভ্ই এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারি সফি জানান, পাবনা সদর থানার কেবুনিয়া থেকে তার ডিম বোঝাই পিকআপ আসছিল। মঙ্গলবার আনুমানিক ভোর ৬ টার দিকে পিকআপটি শহরতলীর শানতলা এলাকায় পৌছালে ৫/৬ টি মোটরসাইকেল রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ডিম বোঝাই পিকআপ থামায়। এসময় হাফিজের নেতৃত্বে সশস্ত্র ছিনতাইকারিরা পিকআপ চালক রতনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়। এরপর ছিনতাইকারিরা পিকআপে উঠে চালক রতনের চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে নিজেরা পিকআপটি চালিয়ে কারবালা এলাকায় নিয়ে হাফেজের বাড়িতে পিকআপে থাকা ২৫ হাজার ডিম নামায়। পরে ছিনতাইকারিরা চালক রতনকে চোখ বাঁধা অবস্থায় শহরতলীর পালবাড়ি মোড়ে এনে ছেড়ে দেয় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বলে সোজা পাবনার দিকে চলে যাবি তা না হলে তোকে গুলি করে মেরে ফেলা হবে। ছিনতাইকারিদের ভয়ে পিকআপ চালক রতন ক্যান্টনমেন্ট খয়েরতলা বাজার এলাকায় যেয়ে পিকআপ থামিয়ে ছিনতাইকারিদের লক্ষ্য করে। যখন ছিনতাইকারিরা পালবাড়ি এলাকা থেকে চলে যায় তখন রতন ফিরে এসে জেলরোডের ডিম ব্যবসায়ি সফিকে জানায়। সফি ওই সময় কোতয়ালি থানায় যেয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা জানালে এস আই ওয়াহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ পিকআপ চালক রতনকে সাথে নিয়ে কারবালা এলাকায় হাফেজের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৪ হাজার ৭০০ ডিম উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ ছিনতাইকারির মূল হোতা হাফেজের দুই সহযোগীকে আটক করে। তবে এঘটনায় থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি।

পাবনার ডিম ব্যবসায়ী শহীদ জানান, তার ডিম বোঝাই পিকআপ যশোরের শানতলা এলাকা থেকে ছিনতাই হয়। পরে সফি ভাইয়ের সহযোগিতায় পুলিশ উদ্ধার করে।

আটক ছিনতাইকারি দুজনের নাম জানতে এস আই ওয়াহিদুজ্জামানকে ফোন দেয়া হলে তিনি ডিম উদ্ধারের ঘটনা স্বীকার করে বলেন ওসি সাহেবকে ফোন দিয়ে শোনেন।

এবিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি আজমল হুদার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ছিনতাইকারিদের একজনের নাম ইউসুপ আরেকজনের নাম জানি না। তবে ঘটনাটি ছিনতাই না টাকা পয়সা লেনদেন নিয়ে ভুলবোঝাবুঝি। এদিকে জেলরোডের ডিম ব্যবসায়ি সফি জানান, কারো সাথে টাকা পয়সা লেনদেন নিয়ে তার কোন ঘটনা নেই। ছিনতাইকারিদের বাঁচাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুলিশ ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত