প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেই নারীকে চাকরির আশ্বাস অভিযুক্ত ভিসির
ঝিলিকের বক্তব্য প্রত্যাহারে নানা প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চাকরি দেয়ার কথা বলে দেননি। এ জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে স্যারের বিরুদ্ধে এসব কথা বলেছি। আসলে স্যার খুব ভালো মানুষ। আমাকে চাকরি দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আমি আমার বক্তব্য প্রত্যাহার করছি’

মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জের প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভিসির বিরুদ্ধে দেয়া আগের অভিযোগ প্রত্যাহার করে এসব কথা বলেন আফরিদা খানম ঝিলিক।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঝিলিকের বক্তব্য প্রত্যাহারের ঘটনা নিয়ে জেলাজুড়ে সমালোচনা চলছে। অনেকেই এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। সেইসঙ্গে সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

অভিযোগ রয়েছে, ভিসির ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঝিলিককে তার বক্তব্য প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। ভীত হয়ে ঝিলিক অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন।

সোমবার ভিসির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন ঝিলিক। এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এমএলএসএস হিসেবে মাস্টার রোলভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত নারী কর্মচারী ঝিলিক তার শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে আর্তনাদ করে ভিসি ভবনের সামনে সন্তানের স্বীকৃতি চান।

ওই সময় ঝিলিক দাবি করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন চাকরি দেয়ার কথা বলে তাকে বিভিন্ন সময় যৌন নির্যাতন করেন। সেইসঙ্গে ভালোবাসার ছলনার প্রলুব্ধ করে দিনের পর দিন ভিসির বাংলোয় রেখে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করেন ভিসি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঝিলিক বলেছিলেন, ‘আজ আমি সবকিছ ফাঁস করে দেব। খুলে দেব মানুষ নামের নরপশুর মুখোশ। আমার সন্তানের বাবা ভিসি। আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আমার কাছে তোমার সব অপকর্মের প্রমাণ আছে। সবার সামনে তোমার মুখোশ খুলে দেব।’

তার এই বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা করতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আশেক এলাহী নীরব বলেন, ভিসিকে নিয়ে যে ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে তার সত্যতা রয়েছে। এই ভিসির জন্য আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। অযোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে ভিসিকে নিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা অযোগ্য ও লম্পট ভিসির অপসারণ চাই।

এদিকে, গোপালগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে আইনজীবী হাবিবুর রহমান মুকুল ভিসির এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ছাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সবার এগিয়ে আসা উচিত। আসলে ঘটনা কী সবার জানা উচিৎ।

অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও গোপালগঞ্জের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দাবি, আফরিদা খাতুন ঝিলিকের প্রচারিত বক্তব্য যদি অসত্য হয় তবে তাকে আইনের আওতায় না এনে কেন চাকরির প্রস্তাব দেয়া হলো? এমন অসৎ ব্যক্তিদের যেন চাকরিতে না নেয়া হয়। সেইসঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, যে শিশুটির পিতৃত্বের স্বীকৃতিতে ঝিলিক অভিযোগ তুলেছেন সেই শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষা করালেই বুঝা যাবে ওই শিশুটির বাবা কে। এতবড় অভিযোগ শুধুমাত্র চাকরির আশ্বাস ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে না। কারণ জাতির জনকের নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার্থে সবার সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আফরিদা খাতুনের বক্তব্যে ভিসির সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে আফরিদা খাতুন ঝিলিকের অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রেক্ষিতে চাকরি দেয়ার যে আশ্বাস দেয়া হয়েছে তা যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি কবি রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রাণভয়ে ভীত ঝিলিকের নিরাপত্তা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোনো সমিতি না থাকার কারণে এ বিষয়ে শিক্ষকরা গণমাধ্যমে লিখিত বক্তব্য দিতে না পারায় প্রতিবেদকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। জাগোনিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত