প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সোনা আমদানিতে নতুন নীতিমালা, বন্ধ হবে অবৈধ আমদানি

স্বপ্না চক্রবর্তী : সোনা আমদানীতে নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খসড়া এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের দুটি ব্যাংক সোনা আমদানি করবে। আর তা শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী সোনা ব্যবসায়ীরাই কিনতে পারবেন। শুধু তাই নয় কেউ সোনার ব্যবসা করতে চাইলে তাকে ১৯৮৭সালের সোনা ক্রয়, মজুত ও বিতরণ আইনের আওতায় লাইসেন্স নিতে হবে। এই নীতিমালা প্রণয়ণের মাধ্যমে অবৈধভাবে সোনা আমদানি বন্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সোনা আমদানীর এই নতুন নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে এখন পর্যন্ত নয়টি সভা হয়েছে। তবে নীতিমালা হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে সোনা আমদানির সুযোগ রযেছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

জানা যায়, খসড়া নীতিমালায় পুরো সোনার ব্যবসাকে একটি শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির মধ্যে আনার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিমালার যে খসড়া করা হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে অবৈধভাবে সোনার ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হবে। কারণ কারা সোনা কিনছে, কোথায় বিক্রি করছে, কতটুকু মজুত আছে সবকিছুই এ হিসাবের মধ্যে চলে আসবে।

জানা যায়, খসড়া নীতিমালাটি চূড়ান্ত হওয়ার পর এটির নাম হবে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ ’। এর প্রস্তাবনা অংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বছরে ২০ থেকে ৪০ টন সোনা লাগে। যার বড় অংশ বিদেশফেরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে, কিছুটা আমদানি করে ও পুরোনো সোনা গলিয়ে সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা আইন ১৯৪৭ অনুযায়ী শর্ত পালন করে সোনা ও রুপা আমদানি করা যায়। আমদানির আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। তবে ব্যবসায়ীরা এ প্রক্রিয়ায় সোনা আমদানি করতে পারেন না।

তাই অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করতে বেদেশিক মুদ্রা লেনদেনের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে সোনার বার আমদানির পদ্ধতি প্রচলন করা যেতে পারে। শুরুতে দুটি ব্যাংককে এডি ব্যাংক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে এবং পরে আগ্রহী অন্যান্য ব্যাংককেও অনুমতি দেওয়া যায়। এডি ব্যাংক সরাসরি আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্বর্ণবার আমদানি করবে এবং সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা কিনবেন। নীতিমালায় আরও বলা হয়, ব্যবসায়ীরা এডি ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তাদের চাহিদার বিষয়টি ১৫ দিন আগে জানাবেন।

এ সময় তারা পূর্ববর্তী বছরের মোট বিক্রির পরিমাণ, রাজস্ব প্রদানের হিসাব, সোনার মজুত ইত্যাদি যাচাই করবেন। এডি ব্যাংক সোনা আমদানি করবে বিনা শুল্কে। তবে বিক্রির সময় তারা সব কর আদায় করবে। আমদানি করা সোনা ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিনতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে কিনতে তার জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি, হালনাগাদ ছবি ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা রাখতে হবে। হিসাবের বাইরে থাকলে সেই সোনা বাজেয়াপ্ত করবে সরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত