প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক জীবনে কত রকম যুদ্ধ দেখলাম!

অনেক আনন্দের একটা জাদু প্রদর্শনী ছিল হোটেল রেডিসনের গ্র্যান্ড বলরুমে। আমদের জাদুর শুরুতে তিনজন অসাধারণ মিউজিশিয়ানের বৃন্দবাদন ( জ্যাজ) আমার হৃৎপি-টাকে নিয়ে চাপাচাপি করলো।
আমার নিজেরই জাদু ভুলে যাওয়ার পালা। সুনীল দাশের হৃদয় চেরা বেহালা, আইয়ুব বাচ্চুর পাগল করা গিটার আর গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশির সুর সম্পর্কে কিছু বলাই বাহুল্য। কিন্তু সুনীল দাসের বেহালা আমায় হাপুস নয়নে কাঁদতে বাধ্য করে। কারণটা ভিন্ন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কথা। দুই দিনের ছুটিতে বাহাদুর পুর ক্যাম্প কোলকাতার দমদম ক্যান্টনমেন্টে এসেছি। আমি একজন অচেনা মুক্তিযোদ্ধা; মলিন কাপড় চোপড় পরা। অতি সাধারণ তরুণ। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বিশাল ওপেন এয়ার সঙ্গীত আয়োজন হয়েছে সেখানে। হেমন্ত মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত হাজার হাজার দর্শক শ্রোতাকে মাতিয়ে রাখতে হবে কাউকে। উপস্থাপক মাইকে দাঁড়ালেন। ঘোষণা করলেন, -হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এসে পৌঁছার আগ পর্যন্ত বেহালা বাজাবেন, সুনীল কুমার দাশ। তিনি একজন ‘জয়বাংলার’ শিল্পী। অমনি শুরু হল বিরাট হট্টগোলে। আমার চেয়েও মলিন কাপড়ে মঞ্চে উঠে এল এক দুস্থ তরুণ। হাতে পুরনো বেহালা। দর্শকরা ক্ষিপ্ত তেড়ে উঠলো। সুনীল দাশ শান্ত উঁচু মঞ্চে বসলো। মাইকে তাঁর বেহালা তীব্র করুন সুরে কেঁদে উঠলো। আহা কী সুর!

জ্বলন্ত আগুনে কেউ যেন ঠান্ডা পানি ঢেলে দিল। বিমুগ্ধ শ্রোতারা চিৎকার করে একের পর এক তাঁর বেহালা শুনতে চাইছিল।
—- এই জয়বাংলা দাদা, দয়াকরে থামবেননা। চালিয়ে যান। সুনীল চল্লিশ মিনিট যাবত হাজার হাজার শ্রোতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখলো। গৌরবে এবং সুরের মূর্ছনায় আমি কেঁদেই ফেললাম।সেই সুনীল আমার অহংকার। আমার বন্ধু, প্রাণের প্রাণ। সে বেহালা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আহা, এক জীবনে কত রকম যুদ্ধ দেখলাম!

পরিচিতি: জনপ্রিয় জাদুশিল্পী/ ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত