প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জোটবিহীন থাকছে না কোনো দল

সজিব খান: চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। ইতোমধ্যেই নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো শুরু করেছে নানামুখী তৎপরতা। অতীতে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও সম্প্রতি এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির জনসমর্থনে ভারসাম্য থাকায় ভোট এবং ক্ষমতার রাজনীতির স্বার্থে উভয় দলই ঝুঁকেছে জোটের রাজনীতির দিকে। বৃহত্তর জোট থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা কৌশলে চলছে জোটের পরিধি বাড়ানোর তৎপরতা।

অন্যদিকে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরেও রয়েছে একাধিক জোট। এ জোটগুলোর মধ্যে রয়েছে এরশাদের নেতৃত্বাধীন ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’, অধ্যাপক বদরুদোজ্জার নেতৃত্বাধীন ‘যুক্তফ্রট’, বাম দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক বামমোর্চা’। এই জোটগুলোও নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের পরিধি বাড়ানোর তৎপরতা শুরু করেছে। এদিকে ছোট দলগুলোও এখন আর একলা চল নীতির ওপর খুব একটা ভরসা রাখতে পারছে না। তারাও আগ্রাহী হয়ে উঠেছে কোনো না কোনো জোটে যোগ দেয়ার। ফলে জোটের বাইরে থাকছে না কোনো দল। সবাই যুক্ত হচ্ছে কোনো না কোনো জোটে।

জোটের রাজনীতি বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি, ১৪ দলের অন্যতম নেতা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করার জন্য আমরা ঐক্যের নীতি গ্রহণ করি। এই ঐক্য মজবুত হয় ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণের পর। তিনি বলেন, বর্তমানে আমরা একটি রাজনৈতিক যুদ্ধের মধ্যে আছি। এই যুদ্ধ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য মহাজেটের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করি।

অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০ দলীয় জোটের ঐক্য অক্ষুণ্ণ আছে এবং থাকবে। দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থে আমরা এই ঐক্যকে আরো এগিয়ে নিতে চাই।

আর যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা আমাদের জোটকে ৪ দলীয় জোট নাম দিতে পারতাম। কিন্তু তা করিনি। সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো যাতে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে সেই পথ আমরা খোলা রেখেছি। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমারা জোটের পরিধি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও গত বছর ৭ মে নামসর্বস্ব ৫৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। এরশাদ বলেছেন, নয়া এ জোট দেশে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবে, একসঙ্গে সরকার গঠন করবে এবং দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে।

এদিকে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে একটি রাজনৈতিক জোট। দলগুলো হলো- বিকল্প ধারা, জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্য।

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘সবার জন্য এই জোটের দুয়ার খোলা। এটা কোনো লিমিটেড দলের জোট নয়। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের স্বার্থে জোট করেছি। যেন গণতন্ত্র গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয় ও যেন সত্যিকারার্থে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ হয়, এটাই আমাদের টার্গেট।’

অন্যদিকে গত কয়েক বছর ধরে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই রাজনৈতিক জোটের বাইরে বাম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বলয় গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। বিকল্প বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলতে সমমনা বাম দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তাও হয়েছে। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, গণসংহতি, ওয়ার্কার্স পার্টি পুনর্গঠিত, বাসদ মাহবুব, সিপিবি এমএল, বাসদ খালেকুজ্জামান, কমিউনিস্ট লীগ ও গণফ্রন্ট।

এ প্রসঙ্গে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জানিয়েছেন, সমমনা বাম দলগুলো নিয়ে আমরা বড় দুই জোটের বাইরে নতুন একটি জোট গঠনের চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বাম গণতান্ত্রিক শক্তিই পারে দেশের সমস্যা সমাধান করতে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে কেন্দ্র করে যে বলয় গড়ে উঠছে সেটি অচল ব্যবস্থা।

একই সুরে কথা বলেছেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু। তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা সমাধানে বড় দুই জোটই ব্যর্থ হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বামপন্থিরাই হতে পারেন বিকল্প শক্তি। সূত্র: মানবকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত