প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমস্যা অনেক, তবুও থেমে নেই অগ্রযাত্রা

১৮৮৭ সালে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এখন দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯২ ভাগ নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রতিবছর ২৪ লাখেরও বেশি কনটেইনার ওঠানামা হয় এ বন্দরে। এর বাইরে হ্যান্ডেল হয় আরও প্রায় ছয় কোটি টন খোলা পণ্য। ক্রমবর্ধমান নৌবাণিজ্যও সামাল দিতে হচ্ছে এ বন্দরকে। প্রতিবছর এখানে কনটেইনার বাড়ছে ১৬ শতাংশ হারে। বাড়তি যুক্ত হচ্ছে দুই শতাধিক জাহাজ। সীমিত সম্পদ ও নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। ২০১৭ সালে প্রকাশিত লয়েডস লিস্টের সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিংয়ে কনটেইনার হ্যান্ডেল করা বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের মধ্যে ৭১তম স্থানে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর। আগে শ্রমিক অসন্তোষে কথায় কথায় বন্দর বন্ধ হলেও গত ছয় বছরে এক সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ হয়নি দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর। আগামীতে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে চট্টগ্রাম বন্দর অন্যতম ভরসার জায়গা। সেই ‘আশার প্রদীপ’ জ্বেলে আজ মঙ্গলবার ১৩১ বছর পূর্তি করছে এ বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘দীর্ঘ এ পথপরিক্রমায় সফল ছিল বলেই আজ দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ বলা হয় চট্টগ্রাম বন্দরকে। প্রতিবছর যে বাজেট হচ্ছে তার সিংহভাগ অর্থের জোগান দিচ্ছে এ বন্দর। কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারলেও সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছি আমরা। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জেটি ও যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছি। ২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা যাতে পূর্ণ হয়, সে জন্য সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

১৯৭৭ সালে ‘এসএস টেনাসিটি’ নামক জাহাজে ছয়টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং শুরু হয়। ১৯৮৮ সালেই স্পর্শ করে এটি এক লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাইলফলক। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার ওঠানামা হয় ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৯টি। আর ২০১৭ সালে এসে এ সংখ্যা ২৪ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে খোলা পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের মাত্রাও। ২০১০ সালে চার কোটি ৫৩ লাখ টন কার্গো পণ্য ওঠানামা হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি টনেরও বেশি। ২০১০ সালে দুই হাজার ২০৩টি জাহাজ এসেছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। ২০১৭ সালে হ্যান্ডেল করেছে দুই হাজার ৯০০টি জাহাজ।

পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সভাপতি ও চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার পরও দেশের ভরসা হয়ে আছে চট্টগ্রাম বন্দর। পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও জেটি থাকলে এ বন্দরের সক্ষমতা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থকাত না। শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এখনও বন্দরের প্রধান সমস্যা। যন্ত্রপাতি ও জেটির সংকট কাটাতে হলে এখনই সরকারকে ভাবতে হবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে সব ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম একীভূত করা হয়েছে। শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। তাই গত ছয় বছরে এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি বন্দর। জাহাজের সংখ্যা বাড়াতে নদীর নাব্য বাড়ানো হয়েছে। আগে নয় দশমিক ১৪ মিটার ড্রাফট ও ১৮৬ মিটারের অধিক দৈর্ঘ্যের কোনো জাহাজ নোঙর করতে পারত না চট্টগ্রাম বন্দরে। কিন্তু এখন ৯ দশমিক ৫০ মিটার ড্রাফট ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজও নোঙর করছে বন্দর জেটিতে। জাহাজের গড় অবস্থান সময়ও কমে এসেছে। ২০০৬ সালে পণ্য নিয়ে আসা একটি জাহাজকে গড়ে ১১ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিন্তু ২০১৭ সালে জাহাজের গড় অবস্থান সময় নেমে এসেছে গড়ে আড়াই দিন।

এরই মধ্যে বন্দরসীমায় আসা জাহাজগুলোর নিরাপত্তা মনিটরিং করতে চালু করা হয়েছে ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস)। এটি দিয়ে শাহ আমানত সেতু থেকে সমুদ্রের ২০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সব ধরনের জাহাজ মনিটর করা যাচ্ছে। এ প্রযুক্তি চালুর ফলে কমে এসেছে দস্যুতার ঘটনা। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরো এতদিন চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘রেড জোন’-এ রাখলেও এখন ঘোষণা করেছে ‘নিরাপদ বন্দর’ হিসেবে।

বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ জানান, অপারেশন্স সক্ষমতা বাড়াতে বন্দরে ডেলিভারি কার্যক্রম ভবিষ্যতে বে-টার্মিনাল এরিয়ায় স্থানান্তর করা হবে। তখন কোনো ট্রাক বন্দরে আসবে না। বে-টার্মিনাল থেকে পণ্য নিয়ে ট্রাক চলে যাবে। নগরেও ট্রাকের চাপ পড়বে না। আবার এখন একটি জাহাজের গড় অবস্থানকাল আড়াই দিন থাকলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী অপারেশন শুরু করলে এটা ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে। এখন যেখানে বছরে সাড়ে তিন হাজার জাহাজ হ্যান্ডলিং হচ্ছে, তখন তা অনায়াসে ৬ হাজারে উন্নীত হবে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত