প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাঠের লড়াই শুরু আজ

খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সক্রিয় হচ্ছেন প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় পরই মূলত মাঠে নেমে পড়েন সবাই। আজ প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হয়ে যাবে গণসংযোগ। ফলে প্রচারে প্রচারে মুখর হয়ে উঠবে দুই সিটি করপোরেশন এলাকা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাস ছয়েক আগে এ নির্বাচনে অনেকটা সংসদ নির্বাচনের আবহ তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব দিয়ে কৌশল নির্ধারণ করেছে। এ নির্বাচনে জিততে দুই দলই মরিয়া। এটি তাদের জন্য মর্যাদার লড়াই। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও এবারই প্রথম খুলনা ও গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে খুলনায় সাধারণ কাউন্সিলর পদের ৩৪ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৫ জন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। সে হিসাবে মেয়রের ১টি পদে ৫ জন, ৩১টি সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ এবং ১০টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মোট ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গাজীপুরে মেয়র পদে জাসদ মনোনীত প্রার্থী রাশেদুল হাসান রানা আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর শাখার সভাপতি ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সানাউল্লাহ বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন বিকাল পর্যন্ত মোট ২ জন মেয়র, ৩১ সাধারণ কাউন্সিলর ও ৩ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। রিটার্নিং কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ৭ জন মেয়র, ২৫৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
খুলনায় নগরপিতার পদ পুনরুদ্ধার করতে চায় ক্ষমতাসীন দল। বিএনপি তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে চেয়ারটি ধরে রাখতে চায়। সাবেক মেয়র ও বাগেরহাট-৩ আসনের বর্তমান সাংসদ তালুকদার আবদুল খালেক আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন খুলনা-২ আসনের সাবেক সাংসদ নজরুল ইসলাম। নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে দুই দলই মাঠের রাজনীতি শুরু করেছে।
একই অবস্থা গাজীপুরেও। টঙ্গী ও গাজীপুরকে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে মনে করা হলেও আগের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হেরে যায় দলের প্রার্থী। এবারে তারা নতুন প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নেমেছেÑ জয় তাদের চাই। বিএনপিতেও প্রার্থিতার পরিবর্তন এসেছে। তারাও চাইছে নগরপিতার আসনটি তাদের দখলে রাখতে।
এদিকে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ করেন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আওয়ামী লীগের মদদে এবং ময়লাপোতা মোড়ের নির্দেশনায় ১০-১৫টি মোটরসাইকেলের একটি সান্ত্রাসী বাহিনী ওই কাজ করেছে বলে তিনি দাবি করেন। সোমবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি ওই অভিযোগ করেন।
মেয়র প্রার্থী মঞ্জু বলেন, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফারুকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। তার পরিবারকে হুমকি দিয়েছে। ওই বাহিনী সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে শাসিয়েছে। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে একজন দাঙ্গাবাজ ছাত্রলীগ নেতা ও তার কর্মীরা ওখানে একই হুমকি দিচ্ছে। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতির বাড়িতে পুলিশ গেছে। এভাবে বিভিন্ন নগরীর বিভিন্ন স্থানে শনিবার রাত থেকে সন্ত্রাসীদের কর্মতৎপরতা শুরু হয়েছে।
গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজকে সমন্বয়ক করে ১২০টি নির্বাচনী টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবেও একটি টিম করা হয়েছে। সাত সদস্যের ওই টিমের প্রধান হিসেবে থাকছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।
বিএনপির প্রচারের জন্য ইতোমধ্যে একটি মিডিয়া টিম গঠন করা হয়েছে। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের ওই মিডিয়া টিম গঠন করা হয়। দলের সভাপতি ফজলুল হক মিলনকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুলকে সদস্য সচিব করে মহানগর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার মোশারফ হোসেন নির্বাচন পরিচালনায় সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। তারা গণসংযোগ শুরুর আগে ব্যানার, পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে চারজন মেয়র প্রার্থীকে লিখিতভাবে সতর্ক করেছেন রিটার্নিং অফিসার।
খুলনায় বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সমন্বয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।
নির্বাচন উপলক্ষে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সভা সোমবার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলীর সভাপতিত্বে তার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কেসিসি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করছেন কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করাই এই টিমের উদ্দেশ্য। সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত