প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫ বছরে পাচার সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি

জাতিসংঘে মানবাধিকার কাউন্সিলের সব সদস্যরাষ্ট্রের মানবপাচার পরিস্থিতি নিয়ে শুনানি হতে যাচ্ছে। আগামী ৭ থেকে ১৮ মে সংস্থাটির মানবাধিকার কাউন্সিলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শুনানিতে অংশ নেবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ওই শুনানিতে ১৪ মে বাংলাদেশ তার অবস্থান তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আসন্ন ইউনিভার্সেল পিরিওডিক রিভিউর (ইউপিআর) প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ বছরে ৭ হাজার ৫২০ বাংলাদেশি মানবপাচারের শিকার হয়েছে। পাচারের শিকার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ৬ হাজার ৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওই বাংলাদেশিরা পাচারের শিকার হয়েছে। পাচারের শিকার ১ হাজার ৪৭৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মানবপাচারের ঘটনায় ১৪ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে ৩ হাজার ৪৮৭টি মামলা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় ৫ হাজার ৭০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ জাতিসংঘকে মানবপাচার রোধ ও দমনে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তার বিস্তারিত জানিয়েছে। দেওয়া তথ্যমতে, মানবপাচার রোধ ও দমনে ২০১২ সালে সরকার একটি আইন প্রণয়ন করে। ২০১৭ সালে এর নীতিমালা তৈরি হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের সদর দপ্তরসহ ৬৪টি জেলায় মনিটরিং সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি নিয়ে মানবপাচার দমনে প্রতিটি জেলায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার হওয়া মানুষের পুনর্বাসনে কাজ করছে সরকার। মানবপাচারের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত ৩ হাজার ৪৪৩ নারীকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে সভা-সমাবেশ, প্রচার, লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিংসহ বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া সচেতনতা বাড়াতে এ সংক্রান্ত ২ হাজার ২০০ বই বিতরণ করেছে সরকার। এর সঙ্গে বিদেশে শ্রমিক হিসেবে রপ্তানিযোগ্য তরুণদের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে ‘বিদেশ যাই’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মানবপাচারের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি রুট। মানবপাচারকারীরা বাংলাদেশকে অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করে। সেই সঙ্গে এখানকার নাগরিকরাও পাচারের শিকার হচ্ছেন। ফলে শুধু মানবপাচার নয়, এর সঙ্গে জড়িত আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে সরকার একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মানবপাচার রোধে স্থল ও জলসীমান্ত কার্যকরে ব্যবস্থ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ৩৬ হাজার ৫৬৩টি অপারেশন চালিয়েছে। এই সময়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৩৪টি নৌকা তল্লাশি চালিয়েছে। এর বাইরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজার জেলায় সমুদ্রপথে মানবপাচার রোধে একটি পোস্ট নির্মাণ করেছে। সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত